ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

চন্দনাইশে হারিয়ে যাচ্ছে কুঠির শিল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৬২ বার
হাওর বার্তা ডেস্কঃ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুঠির শিল্প। এক সময় কুঠির শিল্পীদের বেত ও বাঁশের তৈরি লাই, কুলা, ঝুড়ি ও বাড়িতে ধান রাখার ঢোলসহ ইত্যাদি জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে অনেক পরিবার সংসার চালিয়ে আসছিল। তখনকার দিনে গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বেত ও বাঁশের তৈরি কুঠির শিল্পের জিনিসপত্রের ব্যবহার থাকায় শিল্পীদের যথেষ্ট কদর ছিল।
আউশ ও আমন ধানের মৌসুমে উপজেলার সাতবাড়িয়া কদম পাড়া ও জোয়ারা (হিন্দুপাড়া) গ্রামের অনেক কুঠির শিল্পী তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরে বসে বেত ও বাঁশের জিনিসপত্র লাই ,কুলা ,ঝুড়ি ও বাঁশের তৈরি করা ধান রাখার ঢোলসহ  ইত্যাদি তিরীতে ব্যস্ত সময় পাড় করেছিল। আর তাদের তৈরিকৃত জিনিসপত্র পুরুষ লোকেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার এবং গ্রামে গ্রামে গিয়ে তা বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জিত করতো তা দিয়ে তাদের সংসার চলত।
বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিকের আসবাব পত্রের কাছে ক্রমে ক্রমে সেই গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য কুঠির শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই দিনের কদর আর বেত ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এখন কুঠির শিল্পীদের দুর্দিন চলছে। ফলে অনেক কুঠির শিল্পী পরিবার তাদের বাপ-দাদার জাত পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। শিল্পী নুর আহমদ জানান, এখন আমাদের দুর্দিন চলছে বাজারে বেত ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের তেমন কোন কদর নাই, ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সংসার চালানে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
কুঠির শিল্পী জ্যোৎস্না বেগম জানান, আগে যেখানে সেখানে বেত ও বাঁশ পাওয়া যেত বলে তার দামও কম ছিল। এখন বেত ও বাঁশ পাওয়া দুর্লভ হয়ে পড়েছে এবং দামও চড়া। এসব সরঞ্জাম খরিদ করে কুলা, ধান রাখার ঢোল, ঝুড়ি তৈরি করে বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তা খরচ পুষিয়ে উঠছে না। একাজে পুঁজির প্রয়োজন বলে কুঠির শিল্পীরা জানান। তাতে সরকারিভাবে সহযোগিতা পাওয়া গেলে কুঠির শিল্পের জিনিস পত্র তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে তারা আরও জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান কেউ এ বিষয় নিয়ে আর্থিক সহযোগিতা চাননি। চাইলে সহযোগিতা করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

চন্দনাইশে হারিয়ে যাচ্ছে কুঠির শিল্প

আপডেট টাইম : ১১:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭
হাওর বার্তা ডেস্কঃ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুঠির শিল্প। এক সময় কুঠির শিল্পীদের বেত ও বাঁশের তৈরি লাই, কুলা, ঝুড়ি ও বাড়িতে ধান রাখার ঢোলসহ ইত্যাদি জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে অনেক পরিবার সংসার চালিয়ে আসছিল। তখনকার দিনে গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বেত ও বাঁশের তৈরি কুঠির শিল্পের জিনিসপত্রের ব্যবহার থাকায় শিল্পীদের যথেষ্ট কদর ছিল।
আউশ ও আমন ধানের মৌসুমে উপজেলার সাতবাড়িয়া কদম পাড়া ও জোয়ারা (হিন্দুপাড়া) গ্রামের অনেক কুঠির শিল্পী তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরে বসে বেত ও বাঁশের জিনিসপত্র লাই ,কুলা ,ঝুড়ি ও বাঁশের তৈরি করা ধান রাখার ঢোলসহ  ইত্যাদি তিরীতে ব্যস্ত সময় পাড় করেছিল। আর তাদের তৈরিকৃত জিনিসপত্র পুরুষ লোকেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার এবং গ্রামে গ্রামে গিয়ে তা বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জিত করতো তা দিয়ে তাদের সংসার চলত।
বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিকের আসবাব পত্রের কাছে ক্রমে ক্রমে সেই গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য কুঠির শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই দিনের কদর আর বেত ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এখন কুঠির শিল্পীদের দুর্দিন চলছে। ফলে অনেক কুঠির শিল্পী পরিবার তাদের বাপ-দাদার জাত পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। শিল্পী নুর আহমদ জানান, এখন আমাদের দুর্দিন চলছে বাজারে বেত ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের তেমন কোন কদর নাই, ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সংসার চালানে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
কুঠির শিল্পী জ্যোৎস্না বেগম জানান, আগে যেখানে সেখানে বেত ও বাঁশ পাওয়া যেত বলে তার দামও কম ছিল। এখন বেত ও বাঁশ পাওয়া দুর্লভ হয়ে পড়েছে এবং দামও চড়া। এসব সরঞ্জাম খরিদ করে কুলা, ধান রাখার ঢোল, ঝুড়ি তৈরি করে বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তা খরচ পুষিয়ে উঠছে না। একাজে পুঁজির প্রয়োজন বলে কুঠির শিল্পীরা জানান। তাতে সরকারিভাবে সহযোগিতা পাওয়া গেলে কুঠির শিল্পের জিনিস পত্র তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে তারা আরও জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান কেউ এ বিষয় নিয়ে আর্থিক সহযোগিতা চাননি। চাইলে সহযোগিতা করা হবে।