ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

সু চির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আইরিশ শিল্পীর পুরস্কার ফেরত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৪১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির বিতর্কিত ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছেন আইরিশ সংগীত শিল্পী ও অধিকারকর্মী বব গেলডফ।

স্থানীয় সময় আজ সকালে ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব ডাবলিন’ শীর্ষক পুরস্কার কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেবেন বলে গতকাল ঘোষণা দেন গেলডফ। ১৯৯৯ সালে একই পুরস্কার পান তৎকালীন মিয়ানমারের গৃহবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী সু চি।

স্পষ্ট ঘোষণায় গেলডফ বলেছেন, যে পুরস্কার সু চি পেয়েছেন, সেই পুরস্কার তিনি রাখতে চান না। তিনি আরো বলেন, ‘তার (সু চি) সঙ্গে আমাদের শহরের সংযুক্তি আমাদের সবাইকে লজ্জিত করেছে।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনবাহিনীর পরিচালিত ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারায় এবং এ ইস্যুটি তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো জনপ্রিয় সংগীত শিল্প বব গেলডফের ভর্ৎসনা।

আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সহিংসতার মুখে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সেবার উদ্দেশ্যে কনসার্টের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ ‘লাইভ এইড’-এর প্রতিষ্ঠতা ও সংগীত শিল্পী গেলডফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের শহরের সংযুক্তি আমাদের সবাইকে লজ্জিত করেছে এবং এর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে না। আমরা তাকে সম্মানিত করেছি কিন্তু তিনি এখন আমাদের আতঙ্কিত করছেন এবং লজ্জিত করছেন।’

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের সিটি কাউন্সিল তাদের শহরের জন্য বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের ফ্রিডম অব দি সিটি অব ডাবলিন পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেন। এ ছাড়া বিশ্বের জন্য বিশেষ অবদান রাখা নেতা ও ব্যক্তিদেরও এ পুরস্কার দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাসহ এ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের সম্মানজনক এই পুরস্কার পেয়েছেন ৮২ জন। সু চি ও গেলডফ তাদের মধ্যে দুজন।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধ করতে না পারায় এবং ইস্যুটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্বনেতা ও অধিকারকর্মীদের প্রচণ্ড নিন্দার মুখে রয়েছেন সু চি। আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ইউ২’-এর শিল্পীরাও সু চির সমালোচনা করেছেন। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে শিগগিরই কঠোর পদপেক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সু চিকে দেওয়া ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব অক্সফোর্ড’ পুরস্কার থেকে গত মাসে তার নাম প্রত্যাহার করে নেয় অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল। কাউন্সিল প্রধান বব প্রাইস বলেছেন, এটি একটি ‘অভূতপূর্ব পদক্ষেপ।’

এর আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট হাগ’স কলেজ থেকে সু চির একটি প্রতিকৃতি সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। এই কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নিয়ে চুপচাপ থাকায় হাগ’স কলেজে প্রদর্শনীর জন্য রাখা তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

সু চির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আইরিশ শিল্পীর পুরস্কার ফেরত

আপডেট টাইম : ১১:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির বিতর্কিত ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছেন আইরিশ সংগীত শিল্পী ও অধিকারকর্মী বব গেলডফ।

স্থানীয় সময় আজ সকালে ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব ডাবলিন’ শীর্ষক পুরস্কার কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেবেন বলে গতকাল ঘোষণা দেন গেলডফ। ১৯৯৯ সালে একই পুরস্কার পান তৎকালীন মিয়ানমারের গৃহবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী সু চি।

স্পষ্ট ঘোষণায় গেলডফ বলেছেন, যে পুরস্কার সু চি পেয়েছেন, সেই পুরস্কার তিনি রাখতে চান না। তিনি আরো বলেন, ‘তার (সু চি) সঙ্গে আমাদের শহরের সংযুক্তি আমাদের সবাইকে লজ্জিত করেছে।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনবাহিনীর পরিচালিত ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারায় এবং এ ইস্যুটি তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো জনপ্রিয় সংগীত শিল্প বব গেলডফের ভর্ৎসনা।

আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সহিংসতার মুখে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সেবার উদ্দেশ্যে কনসার্টের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ ‘লাইভ এইড’-এর প্রতিষ্ঠতা ও সংগীত শিল্পী গেলডফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের শহরের সংযুক্তি আমাদের সবাইকে লজ্জিত করেছে এবং এর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে না। আমরা তাকে সম্মানিত করেছি কিন্তু তিনি এখন আমাদের আতঙ্কিত করছেন এবং লজ্জিত করছেন।’

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের সিটি কাউন্সিল তাদের শহরের জন্য বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের ফ্রিডম অব দি সিটি অব ডাবলিন পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেন। এ ছাড়া বিশ্বের জন্য বিশেষ অবদান রাখা নেতা ও ব্যক্তিদেরও এ পুরস্কার দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাসহ এ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের সম্মানজনক এই পুরস্কার পেয়েছেন ৮২ জন। সু চি ও গেলডফ তাদের মধ্যে দুজন।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধ করতে না পারায় এবং ইস্যুটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্বনেতা ও অধিকারকর্মীদের প্রচণ্ড নিন্দার মুখে রয়েছেন সু চি। আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ইউ২’-এর শিল্পীরাও সু চির সমালোচনা করেছেন। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে শিগগিরই কঠোর পদপেক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সু চিকে দেওয়া ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব অক্সফোর্ড’ পুরস্কার থেকে গত মাসে তার নাম প্রত্যাহার করে নেয় অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল। কাউন্সিল প্রধান বব প্রাইস বলেছেন, এটি একটি ‘অভূতপূর্ব পদক্ষেপ।’

এর আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট হাগ’স কলেজ থেকে সু চির একটি প্রতিকৃতি সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। এই কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নিয়ে চুপচাপ থাকায় হাগ’স কলেজে প্রদর্শনীর জন্য রাখা তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন