ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আবাসিক পাখি লালকপাল ছাতারে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০১৭
  • ৪২৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আবাসিক পাখি। প্রাকৃতিক আবাসস্থল আর্দ্র নিম্নভূমির বন, ঘাসবন ও বাঁশবন। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২১০০ মিটার উঁচুতেও দেখা মেলে। খোলা বনবাদাড়ে অল্পবিস্তর নজরে পড়ে। সুশ্রী গোবেচারা টাইপ চেহারা। বিশেষ করে কপালের লাল চওড়া টান চেহারায় বৈচিত্র্যতা এনেছে। অনেকটাই সিঁদুর রাঙা মনে হয়। স্বভাবে হিংস নয়। এরা চঞ্চল ও অস্থিরমতির হলেও বেশ সামাজিক। বিপদে-আপদে কেউ কাউকে ছেড়ে চলে যায় না। সহমর্মিতা দেখায়। শত্রুর উপস্থিতি নজরে এলে একে অপরকে হুঁশিয়ার করে। এদের গানের গলা ভালো। জোড়ায় জোড়ায় বিচরণ করে। কোনো কোনো সময় ৫-৬টি পাখির ছোট দলও দেখা যায়। এরা মূলত বেশিরভাগই বাঁশবন এলাকায় বিচরণ করে। এ ছাড়াও শনবন, ঘাসবন ও নলখাগড়ার বনেও বিচরণ রয়েছে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত। প্রজাতিটি বিশ্বব্যাপী হুমকি নয়।

পাখির বাংলা নাম: ‘লালকপাল ছাতারে’, ইংরেজি নাম: ‘রুফাস-ফ্রন্টেড ব্যবলার’ (Rufous-fronted Babbler), বৈজ্ঞানিক নাম: Stachyris rufifrons।

এরা দৈর্ঘ্যে ১১-১২ সেন্টিমিটার। ওজন ৯-১২ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। কপালে লালচে টান। মাথা ও ঘাড় বাদামি।
ডানার প্রান্ত পালক ও লেজ গাঢ় বাদামি। দেহের তুলনায় লেজ খানিকটা লম্বা। দেহতল বাদামির ওপর হলদে আভা। চোখের মনি বাদামি। ঠোঁট ত্বক-গোলাপি। পা ত্বক-হলদে।

প্রধান খাবার: শুঁয়োপোকা, গোবরেপোকা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ। ছোট ফল-ফলাদির প্রতিও আসক্তি রয়েছে।

প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট। ভূপৃষ্ঠ থেকে এক মিটারের মধ্যে গাছ-গাছালিতে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে বাঁশবন, ঘাসবন কিংবা লতাগুল্মের ভেতর কাপ অথবা অর্ধ গম্বুজ আকৃতির বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৬ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণি বিশারদ ও পরিবেশবিদ। alamshine@gmail.com

মানবকণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

আবাসিক পাখি লালকপাল ছাতারে

আপডেট টাইম : ০২:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আবাসিক পাখি। প্রাকৃতিক আবাসস্থল আর্দ্র নিম্নভূমির বন, ঘাসবন ও বাঁশবন। ভূপৃষ্ঠ থেকে ২১০০ মিটার উঁচুতেও দেখা মেলে। খোলা বনবাদাড়ে অল্পবিস্তর নজরে পড়ে। সুশ্রী গোবেচারা টাইপ চেহারা। বিশেষ করে কপালের লাল চওড়া টান চেহারায় বৈচিত্র্যতা এনেছে। অনেকটাই সিঁদুর রাঙা মনে হয়। স্বভাবে হিংস নয়। এরা চঞ্চল ও অস্থিরমতির হলেও বেশ সামাজিক। বিপদে-আপদে কেউ কাউকে ছেড়ে চলে যায় না। সহমর্মিতা দেখায়। শত্রুর উপস্থিতি নজরে এলে একে অপরকে হুঁশিয়ার করে। এদের গানের গলা ভালো। জোড়ায় জোড়ায় বিচরণ করে। কোনো কোনো সময় ৫-৬টি পাখির ছোট দলও দেখা যায়। এরা মূলত বেশিরভাগই বাঁশবন এলাকায় বিচরণ করে। এ ছাড়াও শনবন, ঘাসবন ও নলখাগড়ার বনেও বিচরণ রয়েছে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত। প্রজাতিটি বিশ্বব্যাপী হুমকি নয়।

পাখির বাংলা নাম: ‘লালকপাল ছাতারে’, ইংরেজি নাম: ‘রুফাস-ফ্রন্টেড ব্যবলার’ (Rufous-fronted Babbler), বৈজ্ঞানিক নাম: Stachyris rufifrons।

এরা দৈর্ঘ্যে ১১-১২ সেন্টিমিটার। ওজন ৯-১২ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। কপালে লালচে টান। মাথা ও ঘাড় বাদামি।
ডানার প্রান্ত পালক ও লেজ গাঢ় বাদামি। দেহের তুলনায় লেজ খানিকটা লম্বা। দেহতল বাদামির ওপর হলদে আভা। চোখের মনি বাদামি। ঠোঁট ত্বক-গোলাপি। পা ত্বক-হলদে।

প্রধান খাবার: শুঁয়োপোকা, গোবরেপোকা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ। ছোট ফল-ফলাদির প্রতিও আসক্তি রয়েছে।

প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট। ভূপৃষ্ঠ থেকে এক মিটারের মধ্যে গাছ-গাছালিতে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে বাঁশবন, ঘাসবন কিংবা লতাগুল্মের ভেতর কাপ অথবা অর্ধ গম্বুজ আকৃতির বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৬ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণি বিশারদ ও পরিবেশবিদ। alamshine@gmail.com

মানবকণ্ঠ