ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

মিয়ানমারের ছলচাতুরী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৮৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মিয়ানমার একদিকে বিশ্বের চোখে ধুলা দিতে সমঝোতা, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা ধরনের কথা বলছে, অন্যদিকে মিয়ানমারে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বিতাড়িত করতে ব্যাপক নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রাতে কারফিউ থাকে।

কেউ ঘর থেকে বেরোলেই গুলি করে হত্যা করে। ঘরে ঢুকে যুবতী মেয়েদের তুলে নিয়ে যায়। রাখাইন যুবকরা রোহিঙ্গাদের ঘরে থাকা চাল-ডালসহ সব খাদ্যবস্তু ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি রোহিঙ্গাদের গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি পর্যন্ত নিয়ে যায়। এভাবে রোহিঙ্গাদের বাধ্য করা হয় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে। গতকাল হাওর বার্তা এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনটি করা হয়েছে, এখনো মিয়ানমারে আছেন কিংবা সদ্য পালিয়ে এসেছেন এমন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মোবাইলে ও সরাসরি কথা বলে।হাওর বার্তা’র প্রতিবেদক জানান, সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের গোপনে করা অনেক ছবি ও ভিডিও এসেছে তাঁর হাতে। সেগুলোতে লুটপাট ও নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে। মিয়ানমার সরকার তাহলে কিসের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে? এমন অবাধে লুটপাট ও নির্যাতন বন্ধ না হলে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আবার প্রাণ দিতে সেখানে ফিরে যাবে কি? রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের ন্যূনতম আন্তরিকতা থাকলে তারা তো আগে সেখানে চলমান সেনা অভিযান, লুটপাট ও নির্যাতন বন্ধের উদ্যোগ নিত। ফলে মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ থেকে যায় এবং পুরো বিষয়টিকে ছলচাতুরী বলেই মনে হয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে মিয়ানমার সরকারকে ন্যূনতম গুরুত্ব দিচ্ছে না, তাও এখন স্পষ্ট। দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার, নিরাপত্তা দেওয়ার ও আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। আনান কমিশনের সুপারিশে স্পষ্টতই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির সেনাপ্রধান বলে চলেছেন, রোহিঙ্গারা সে দেশের কোনো জাতিগোষ্ঠী নয়, তারা বাঙালি। তাদের মিয়ানমারে থাকার কোনো অধিকার নেই। সেনাপ্রধানের সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন দেখা যায় এখনো চলমান সেনা অভিযানে এবং অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বিতাড়িত করতে নেওয়া নানা কৌশলে। সেনাবাহিনীর সমর্থনে রাখাইনের উগ্রপন্থী বৌদ্ধরাও রোহিঙ্গা নিপীড়নে অংশ নিচ্ছে। এ অবস্থায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এমন আশা করা কতটা যুক্তিসংগত হবে?

সে ক্ষেত্রে সমাধানের জন্য আমাদের জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেই যেতে হবে। দৃশ্যত চীন-রাশিয়া এখন মিয়ানমারকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ভারতেরও রয়েছে মৃদু সমর্থন। এই দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি অনেক সামাজিক সমস্যাও তৈরি করছে। কক্সবাজারের জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সম্ভাবনা প্রায় ধ্বংসের পথে। এই সমস্যাগুলো নিয়েও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড

মিয়ানমারের ছলচাতুরী

আপডেট টাইম : ১১:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মিয়ানমার একদিকে বিশ্বের চোখে ধুলা দিতে সমঝোতা, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা ধরনের কথা বলছে, অন্যদিকে মিয়ানমারে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বিতাড়িত করতে ব্যাপক নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রাতে কারফিউ থাকে।

কেউ ঘর থেকে বেরোলেই গুলি করে হত্যা করে। ঘরে ঢুকে যুবতী মেয়েদের তুলে নিয়ে যায়। রাখাইন যুবকরা রোহিঙ্গাদের ঘরে থাকা চাল-ডালসহ সব খাদ্যবস্তু ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি রোহিঙ্গাদের গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি পর্যন্ত নিয়ে যায়। এভাবে রোহিঙ্গাদের বাধ্য করা হয় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে। গতকাল হাওর বার্তা এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনটি করা হয়েছে, এখনো মিয়ানমারে আছেন কিংবা সদ্য পালিয়ে এসেছেন এমন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মোবাইলে ও সরাসরি কথা বলে।হাওর বার্তা’র প্রতিবেদক জানান, সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের গোপনে করা অনেক ছবি ও ভিডিও এসেছে তাঁর হাতে। সেগুলোতে লুটপাট ও নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে। মিয়ানমার সরকার তাহলে কিসের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে? এমন অবাধে লুটপাট ও নির্যাতন বন্ধ না হলে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আবার প্রাণ দিতে সেখানে ফিরে যাবে কি? রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের ন্যূনতম আন্তরিকতা থাকলে তারা তো আগে সেখানে চলমান সেনা অভিযান, লুটপাট ও নির্যাতন বন্ধের উদ্যোগ নিত। ফলে মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ থেকে যায় এবং পুরো বিষয়টিকে ছলচাতুরী বলেই মনে হয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে মিয়ানমার সরকারকে ন্যূনতম গুরুত্ব দিচ্ছে না, তাও এখন স্পষ্ট। দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার, নিরাপত্তা দেওয়ার ও আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। আনান কমিশনের সুপারিশে স্পষ্টতই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির সেনাপ্রধান বলে চলেছেন, রোহিঙ্গারা সে দেশের কোনো জাতিগোষ্ঠী নয়, তারা বাঙালি। তাদের মিয়ানমারে থাকার কোনো অধিকার নেই। সেনাপ্রধানের সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন দেখা যায় এখনো চলমান সেনা অভিযানে এবং অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বিতাড়িত করতে নেওয়া নানা কৌশলে। সেনাবাহিনীর সমর্থনে রাখাইনের উগ্রপন্থী বৌদ্ধরাও রোহিঙ্গা নিপীড়নে অংশ নিচ্ছে। এ অবস্থায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এমন আশা করা কতটা যুক্তিসংগত হবে?

সে ক্ষেত্রে সমাধানের জন্য আমাদের জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেই যেতে হবে। দৃশ্যত চীন-রাশিয়া এখন মিয়ানমারকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ভারতেরও রয়েছে মৃদু সমর্থন। এই দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি অনেক সামাজিক সমস্যাও তৈরি করছে। কক্সবাজারের জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সম্ভাবনা প্রায় ধ্বংসের পথে। এই সমস্যাগুলো নিয়েও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক।