ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যার ৩ আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’

কোরবানির চামড়া নিয়ে শঙ্কা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭
  • ৮৪১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কোরবানির ঈদ আসতে খুব বেশি দেরি নেই। পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খামারে প্রস্তুত রয়েছে কোরবানির পশু। ভারত থেকেও এবার কোরবানির গরু আসতে পারে। দেশে এখন প্রতিবছর এক কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু। দেশে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি খামার। এগুলোই গত বছর গরুর চাহিদা মিটিয়েছে, এবারও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে খামারগুলো। এবার দেশে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু উৎপাদন হয়েছে শুধু কোরবানিকে ঘিরে। এর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল। দেশে পাঁচ লাখ ২২ হাজার খামার গড়ে উঠেছে।

দেশের চামড়াশিল্পে বছরে যে পরিমাণ চামড়ার প্রয়োজন হয়, তার প্রায় অর্ধেক সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদে। পশু কোরবানির পর সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া রাজধানীর পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন আড়তে সংরক্ষণ করা হয়। দু-এক দিন পর ট্যানারি মালিকরা এসব চামড়া কিনে নিজস্ব ট্যানারিতে সংরক্ষণ করেন। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে সুবিধামতো তা পাকা করা হয়। এবার সমস্যা দেখা দিয়েছে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে। হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে প্লট পেয়েছে ১৫৫টি ট্যানারি। কিন্তু এসব ট্যানারির মধ্যে শুধু ৬৭টি সেখানে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ট্যানারিগুলো এখনো উপযুক্তভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের উপযোগী হয়ে উঠতে পারেনি এসব কারখানা। নির্মাণকাজেও গতি নেই। এ অবস্থায় চলতি বছরের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য কী করে পূরণ হবে তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। চলতি বছর ৩১ কোটি ৫০ লাখ বর্গফুট চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হবে ১৯ কোটি বর্গফুট। কিন্তু প্রায় অর্ধেক কারখানা যেখানে বন্ধ সেখানে বাকি কারখানাগুলো চামড়া কেনার জন্য আর্থিকভাবে সক্ষম কি না সে প্রশ্নটিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে পাওয়া চামড়া কিনতে স্থানীয় ট্যানারিগুলো ব্যর্থ হলে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও আছে। সব মিলিয়ে কোরবানির চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

কোরবানির ঈদের চামড়া কেনা ও সংরক্ষণ আরো আগে থেকেই ভাবা উচিত ছিল। চামড়া শিল্পনগরীর সব কারখানায় গ্যাস সংযোগ থেকে শুরু করে অন্যান্য সুবিধা দেওয়া না হলে আরেকটি সংকট দেখা দেবে। তবে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিতে পারে কারখানাগুলোর আর্থিক দিক থেকে। এ সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসতে পারে। কোরবানির ঈদের সময় চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ দেওয়া হয় তার প্রবাহ এবার বাড়ানো যেতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যার ৩ আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি

কোরবানির চামড়া নিয়ে শঙ্কা

আপডেট টাইম : ১২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কোরবানির ঈদ আসতে খুব বেশি দেরি নেই। পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খামারে প্রস্তুত রয়েছে কোরবানির পশু। ভারত থেকেও এবার কোরবানির গরু আসতে পারে। দেশে এখন প্রতিবছর এক কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু। দেশে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি খামার। এগুলোই গত বছর গরুর চাহিদা মিটিয়েছে, এবারও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে খামারগুলো। এবার দেশে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু উৎপাদন হয়েছে শুধু কোরবানিকে ঘিরে। এর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল। দেশে পাঁচ লাখ ২২ হাজার খামার গড়ে উঠেছে।

দেশের চামড়াশিল্পে বছরে যে পরিমাণ চামড়ার প্রয়োজন হয়, তার প্রায় অর্ধেক সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদে। পশু কোরবানির পর সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া রাজধানীর পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন আড়তে সংরক্ষণ করা হয়। দু-এক দিন পর ট্যানারি মালিকরা এসব চামড়া কিনে নিজস্ব ট্যানারিতে সংরক্ষণ করেন। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে সুবিধামতো তা পাকা করা হয়। এবার সমস্যা দেখা দিয়েছে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে। হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে প্লট পেয়েছে ১৫৫টি ট্যানারি। কিন্তু এসব ট্যানারির মধ্যে শুধু ৬৭টি সেখানে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ট্যানারিগুলো এখনো উপযুক্তভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের উপযোগী হয়ে উঠতে পারেনি এসব কারখানা। নির্মাণকাজেও গতি নেই। এ অবস্থায় চলতি বছরের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য কী করে পূরণ হবে তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। চলতি বছর ৩১ কোটি ৫০ লাখ বর্গফুট চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হবে ১৯ কোটি বর্গফুট। কিন্তু প্রায় অর্ধেক কারখানা যেখানে বন্ধ সেখানে বাকি কারখানাগুলো চামড়া কেনার জন্য আর্থিকভাবে সক্ষম কি না সে প্রশ্নটিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে পাওয়া চামড়া কিনতে স্থানীয় ট্যানারিগুলো ব্যর্থ হলে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও আছে। সব মিলিয়ে কোরবানির চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

কোরবানির ঈদের চামড়া কেনা ও সংরক্ষণ আরো আগে থেকেই ভাবা উচিত ছিল। চামড়া শিল্পনগরীর সব কারখানায় গ্যাস সংযোগ থেকে শুরু করে অন্যান্য সুবিধা দেওয়া না হলে আরেকটি সংকট দেখা দেবে। তবে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিতে পারে কারখানাগুলোর আর্থিক দিক থেকে। এ সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসতে পারে। কোরবানির ঈদের সময় চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ দেওয়া হয় তার প্রবাহ এবার বাড়ানো যেতে পারে।