ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

খামেনির শেষ বিদায়ের ৬ দিনের আনুষ্ঠানিকতায় যা থাকছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯ বার

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হবে। দেশটির কর্মকর্তারা এই আয়োজনকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করছেন।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই আয়োজনে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিতে পারেন। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শোকাহত মানুষের জন্য অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র, বিশ্রামাগার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ চলাচল পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পুরো আয়োজনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ভোরে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হবে। কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষের জন্য কফিন প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠান তেহরানের বাইরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্রেও নেওয়া হতে পারে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শিয়া মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোর সঙ্গে প্রতীকী সংযোগ তুলে ধরতেই এমন কর্মসূচি বিবেচনা করা হয়েছে।

সবশেষে খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র ইমাম রেজার মাজারের নিকটবর্তী এলাকায় তাকে সমাহিত করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষ বিদায়ের আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতার পরবর্তী কাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে খামেনি-পরবর্তী নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তার ছেলে মোজতবা খামেনি, প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার সম্ভাব্য উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

খামেনির শেষ বিদায়ের ৬ দিনের আনুষ্ঠানিকতায় যা থাকছে

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হবে। দেশটির কর্মকর্তারা এই আয়োজনকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করছেন।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই আয়োজনে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিতে পারেন। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শোকাহত মানুষের জন্য অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র, বিশ্রামাগার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ চলাচল পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পুরো আয়োজনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ভোরে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হবে। কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষের জন্য কফিন প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠান তেহরানের বাইরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্রেও নেওয়া হতে পারে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শিয়া মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোর সঙ্গে প্রতীকী সংযোগ তুলে ধরতেই এমন কর্মসূচি বিবেচনা করা হয়েছে।

সবশেষে খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র ইমাম রেজার মাজারের নিকটবর্তী এলাকায় তাকে সমাহিত করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষ বিদায়ের আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতার পরবর্তী কাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে খামেনি-পরবর্তী নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তার ছেলে মোজতবা খামেনি, প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার সম্ভাব্য উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা