ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মুদি ও প্রসাধনসামগ্রীর দোকানকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জুলাইয়ের মধ্যে সুখবর আসবে : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী মদন পৌর শহর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নীরব-টুকু-মামুনের মামলার ডাবল সেঞ্চুরি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭
  • ৪১৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্ক ঃ

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও বন্দি মামলার বেড়াজালে। ইতিমধ্যে মামলার ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছেন যুবদলের শীর্ষ তিন নেতা। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ২১৬, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ২৫০ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান ২০৬ মামলার আসামি। এছাড়া মামলার সেঞ্চুরি পার করেছেন ৬ জন। তারা হলেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির প্রতিটি বড় কর্মসূচিতে সংঘটিত নানা ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য, দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে যত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, তার বেশিরভাগেই আসামির তালিকায় রয়েছে এসব নেতার নাম। মামলার কারণে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া এসব নেতাদের অনেকেই কাটাচ্ছেন ফেরারি জীবন। যারা জামিনে রয়েছেন সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন তাদের চক্কর কাটতে হচ্ছে আদালতের আঙিনায়।
যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বিগত কমিটিতে। মামলার কারণে বিগত ৭-৮ বছর ধরে আত্মগোপনেই বেশিরভাগ দিন কেটেছে তার। নীরবের ২০৬ মামলার মধ্যে পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৫৪টি। মিরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৫১টি। এছাড়া মোহাম্মদপুরে ১৫টি, তেজগাঁওয়ে ১০টি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ১০টি, রমনায় ১২টি, মতিঝিলে ১০টিসহ বিমানবন্দর, দারুসসালাম, কাফরুল, যাত্রাবাড়ি ও শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার আসামি তিনি।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালে উপর্যুপরি মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের প্রথম দিকে ছাত্রদল সভাপতি হিসেবে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হয়েছেন দুবার। বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত বেশিরভাগ মামলায় নাম ছিল তার। পল্টন থানায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৫০টির বেশি। শাহবাগ, রমনা, মতিঝিল, দারুসসালাম, মিরপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, গুলশান, বনানী, শাহজাহানপুর প্রতিটি থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলায় চার্জশিট হওয়ায় আইনের নানা বিধিতে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন মামলা। বর্তমানে ২৫০টির বেশি মামলার আসামি টুকু তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে দুই বছর কারাভোগ করেছেন। তিন দফায় রিমান্ড খেটেছেন ৭৭ দিন। এর মধ্যে একবার রিমান্ড খেটেছেন টানা ৪৭ দিন। বিগত কমিটিতে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্বে থাকা বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানকে গ্রেপ্তারে ২০১৩ সালের ২৫শে ডিসেম্বর রাতে তার বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামুন হাসানকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মা, শয্যাশায়ী বড়ভাই, ভাবি, বোন, ভাতিজীকে বেড়ধক মারধর করা হয়। তার বোন, ভাবি এবং ভাতিজীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। বিনা কারণে একমাস কারাভোগ করেন তার ভাবি এবং ঘটনার পর অসুস্থ বড় ভাইয়ের শারীরিক পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয় যে তিনি আর সুস্থ হননি। গত বছর ৩৬ দিনের ব্যবধানে মামুন হাসানের মা ও বড়ভাই মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে দুই শতাধিক মামলার আসামি মামুন হাসান। রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, দারুসসালাম ও পল্টন থানায় সর্বাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর বিগত কমিটিতে ছিলেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত বেশিরভাগ মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে তার নাম। এস এম জাহাঙ্গীরের ১৩৭টি মামলার মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানাতেই রয়েছে ২৭ মামলা। পল্টন থানায় ২২টি, উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭টি, মিরপুরে ১৮টি, তেজগাঁওয়ে ১১টিসহ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, রমনা, বিমানবন্দর, উত্তরা ও দক্ষিণ খান থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মিল্টনের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪২টি মামলা। পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি থাকাকালে ওই থানায় তার বিরুদ্ধে সর্বাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ২০১৩ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মিছিল করতে গিয়ে মিরপুরে ১০ নম্বরে পুলিশের ব্যাপক মারধরের শিকার হন তিনি। পুলিশের লাঠিচার্জে তার পা ভেঙে যায়। যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনুর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১৩১টি। ২০১০ সালে তিনি হজ পালনকালেও পল্টন থানায় তার নামে দায়ের হয় একটি মামলা। হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এক দিনেই ১৩ মামলার আসামি হন মজনু। তিন দফায় কারাভোগ করেছেন ১৩ মাস। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল ১১৭ মামলার আসামি। রাজধানীর উত্তরা থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের সঙ্গে আটকের পর দীর্ঘ ৩৯ দিন রিমান্ড খেটেছেন তিনি। কারাভোগ করেছেন ৭ মাস। জুয়েলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ৮৮টি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
মামলার সেঞ্চুরির মুখে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু। বর্তমানে ৯০টি মামলার আসামি শফিউল বারী বাবু কয়েক দফায় কারাভোগও করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। বর্তমানে শতাধিক মামলার আসামি জুয়েল কারাভোগও করেছেন কয়েক দফায়। মামলার সেঞ্চুরি পার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী। মিরপুর, পল্লবী, এয়ারপোর্ট, পল্টনসহ বিভিন্ন থানায় একের পর এক মামলার আসামি হয়েছেন তিনি। মিরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪৮টি। বর্তমানে ১১৪ মামলার আসামি ইয়াসিন কারাভোগ করেছেন ৪ দফায় ১৪ মাস। প্রতিবারই ভোগ করেছেন রিমান্ড। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ৪৫টি মামলার আসামি। মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানীও বেশ কিছু মামলার আসামি।
ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের নাম রয়েছে প্রায় ৭০টি মামলা। ছাত্রদল সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ২০শে জুলাই বাবার কবর জিয়ারত করে ঢাকা ফিরছিলেন তিনি। পথেই পটুয়াখালীতে ৬ কর্মীসহ তাকে গ্রেপ্তারের পর তার গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেবার সাত মাস কারাভোগ করেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে ৪০টির মতো মামলা। তবে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৭০টির মতো মামলা। যার মধ্যে বেশ কিছু স্পর্শকাতর মামলার আসামি তিনি। লালবাগ, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, পল্টন, রমনা, মতিঝিল থানায় ১০-৪০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে তার। কয়েক দফায় কারাভোগ করেছেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করলেও তার দিন কাটে আত্মগোপনে। এছাড়া ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন প্রায় ২৫টি মামলার আসামি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মুদি ও প্রসাধনসামগ্রীর দোকানকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা

নীরব-টুকু-মামুনের মামলার ডাবল সেঞ্চুরি

আপডেট টাইম : ১২:০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্ক ঃ

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও বন্দি মামলার বেড়াজালে। ইতিমধ্যে মামলার ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছেন যুবদলের শীর্ষ তিন নেতা। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ২১৬, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ২৫০ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান ২০৬ মামলার আসামি। এছাড়া মামলার সেঞ্চুরি পার করেছেন ৬ জন। তারা হলেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির প্রতিটি বড় কর্মসূচিতে সংঘটিত নানা ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য, দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে যত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, তার বেশিরভাগেই আসামির তালিকায় রয়েছে এসব নেতার নাম। মামলার কারণে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া এসব নেতাদের অনেকেই কাটাচ্ছেন ফেরারি জীবন। যারা জামিনে রয়েছেন সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন তাদের চক্কর কাটতে হচ্ছে আদালতের আঙিনায়।
যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বিগত কমিটিতে। মামলার কারণে বিগত ৭-৮ বছর ধরে আত্মগোপনেই বেশিরভাগ দিন কেটেছে তার। নীরবের ২০৬ মামলার মধ্যে পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৫৪টি। মিরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৫১টি। এছাড়া মোহাম্মদপুরে ১৫টি, তেজগাঁওয়ে ১০টি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ১০টি, রমনায় ১২টি, মতিঝিলে ১০টিসহ বিমানবন্দর, দারুসসালাম, কাফরুল, যাত্রাবাড়ি ও শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার আসামি তিনি।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালে উপর্যুপরি মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের প্রথম দিকে ছাত্রদল সভাপতি হিসেবে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হয়েছেন দুবার। বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত বেশিরভাগ মামলায় নাম ছিল তার। পল্টন থানায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৫০টির বেশি। শাহবাগ, রমনা, মতিঝিল, দারুসসালাম, মিরপুর, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, গুলশান, বনানী, শাহজাহানপুর প্রতিটি থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলায় চার্জশিট হওয়ায় আইনের নানা বিধিতে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন মামলা। বর্তমানে ২৫০টির বেশি মামলার আসামি টুকু তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে দুই বছর কারাভোগ করেছেন। তিন দফায় রিমান্ড খেটেছেন ৭৭ দিন। এর মধ্যে একবার রিমান্ড খেটেছেন টানা ৪৭ দিন। বিগত কমিটিতে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্বে থাকা বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানকে গ্রেপ্তারে ২০১৩ সালের ২৫শে ডিসেম্বর রাতে তার বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামুন হাসানকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মা, শয্যাশায়ী বড়ভাই, ভাবি, বোন, ভাতিজীকে বেড়ধক মারধর করা হয়। তার বোন, ভাবি এবং ভাতিজীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। বিনা কারণে একমাস কারাভোগ করেন তার ভাবি এবং ঘটনার পর অসুস্থ বড় ভাইয়ের শারীরিক পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয় যে তিনি আর সুস্থ হননি। গত বছর ৩৬ দিনের ব্যবধানে মামুন হাসানের মা ও বড়ভাই মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে দুই শতাধিক মামলার আসামি মামুন হাসান। রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, দারুসসালাম ও পল্টন থানায় সর্বাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর বিগত কমিটিতে ছিলেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত বেশিরভাগ মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে তার নাম। এস এম জাহাঙ্গীরের ১৩৭টি মামলার মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানাতেই রয়েছে ২৭ মামলা। পল্টন থানায় ২২টি, উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭টি, মিরপুরে ১৮টি, তেজগাঁওয়ে ১১টিসহ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, রমনা, বিমানবন্দর, উত্তরা ও দক্ষিণ খান থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মিল্টনের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪২টি মামলা। পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি থাকাকালে ওই থানায় তার বিরুদ্ধে সর্বাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ২০১৩ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মিছিল করতে গিয়ে মিরপুরে ১০ নম্বরে পুলিশের ব্যাপক মারধরের শিকার হন তিনি। পুলিশের লাঠিচার্জে তার পা ভেঙে যায়। যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনুর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১৩১টি। ২০১০ সালে তিনি হজ পালনকালেও পল্টন থানায় তার নামে দায়ের হয় একটি মামলা। হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এক দিনেই ১৩ মামলার আসামি হন মজনু। তিন দফায় কারাভোগ করেছেন ১৩ মাস। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল ১১৭ মামলার আসামি। রাজধানীর উত্তরা থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের সঙ্গে আটকের পর দীর্ঘ ৩৯ দিন রিমান্ড খেটেছেন তিনি। কারাভোগ করেছেন ৭ মাস। জুয়েলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ৮৮টি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
মামলার সেঞ্চুরির মুখে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু। বর্তমানে ৯০টি মামলার আসামি শফিউল বারী বাবু কয়েক দফায় কারাভোগও করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। বর্তমানে শতাধিক মামলার আসামি জুয়েল কারাভোগও করেছেন কয়েক দফায়। মামলার সেঞ্চুরি পার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী। মিরপুর, পল্লবী, এয়ারপোর্ট, পল্টনসহ বিভিন্ন থানায় একের পর এক মামলার আসামি হয়েছেন তিনি। মিরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪৮টি। বর্তমানে ১১৪ মামলার আসামি ইয়াসিন কারাভোগ করেছেন ৪ দফায় ১৪ মাস। প্রতিবারই ভোগ করেছেন রিমান্ড। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ৪৫টি মামলার আসামি। মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানীও বেশ কিছু মামলার আসামি।
ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের নাম রয়েছে প্রায় ৭০টি মামলা। ছাত্রদল সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ২০শে জুলাই বাবার কবর জিয়ারত করে ঢাকা ফিরছিলেন তিনি। পথেই পটুয়াখালীতে ৬ কর্মীসহ তাকে গ্রেপ্তারের পর তার গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেবার সাত মাস কারাভোগ করেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে ৪০টির মতো মামলা। তবে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৭০টির মতো মামলা। যার মধ্যে বেশ কিছু স্পর্শকাতর মামলার আসামি তিনি। লালবাগ, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, পল্টন, রমনা, মতিঝিল থানায় ১০-৪০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে তার। কয়েক দফায় কারাভোগ করেছেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করলেও তার দিন কাটে আত্মগোপনে। এছাড়া ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন প্রায় ২৫টি মামলার আসামি।