ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

এনজিওরা নেই কৃষকের পাশে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭
  • ৩৪১ বার

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ১৫ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলেও অন্য কোন এনজিও বা উন্নয়ন সংস্থা সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে এখনও দাঁড়ায়নি বা সহায়তা করার ঘোষণা দেয়নি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হাওরের এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও সহায়তা করছেন না সুনামগঞ্জ জেলায় অর্থ লগ্নিকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও)।
তবে এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পদক্ষেপ এর সুনামগঞ্জ অঞ্চলের কর্মকর্তা মুজিবুল হক বলেন, ‘কাজ করছে না, একথা সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্র্যাক শুরু করেছে, আমরা শুরু করেছি। অন্যরা পর্যায়ক্রমে করবেন।’
ব্র্যাক গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলায় ফসল হারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রক্রিয়াজাত গো খাদ্য বিতরণ করেছে। আগামী কয়েক দিন পর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করবে বলে জানা গেছে।
শাল্লা উপজেলার মুক্তার গ্রামের কৃষক ব্রজেন্দ্র দাস বলেন,‘ আমাদের এলাকার সব কৃষকের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও সংস্থার লোকজন এখন কোন ধরনের সাহায্য-সহাযোগিতা নিয়ে আসেনি। হাওরের মানুষ মহা বিপদে পড়ছে এবার। উল্টো কিছু কিছু এনজিও সংস্থা ঋণের কিস্তির জন্য কৃষকদের চাপ প্রয়োগ করছে। টাকা দেয়ার
জন্য নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা বলেন,‘ হাওরাঞ্চলের এবারের সমস্যা খুব গভীর। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। ব্র্যাকের পাশাপাশি সুনামগঞ্জে কর্মরত সকল এনজিওকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে ও সহায়তা করতে হবে। না হলে হাওরের এই সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হবে।’
এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুজিবুল হক বলেন,‘ সকল এনজিও প্রতিষ্ঠান আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়। আমরা পদক্ষেপের পক্ষ থেকে কম সুদে ঋণ বিতরণ করছি। আগামী ২৮ এপ্রিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ২৯ তারিখ ত্রাণ বিতরণ করব। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ও সহায়তা করার বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটির একটি নির্দেশনা জারী করেছে। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে একটি সভা করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুনামগঞ্জের কর্মকর্তাগণ ঢাকায় চিঠি লিখেছেন। আমরা আশা করি সকল প্রতিষ্ঠানই সাধ্যমত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করবেন। ’
ব্র্যাক এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক সুনামগঞ্জের খরকে বলেন,‘ ব্র্যাক হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা দিয়েছে। আমরা শুধুমাত্র সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০ হাজার ৭৫০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও ৫০০ করে নগদ টাকা প্রদান করব। গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলার ৩২৮টি কৃষক পরিবারকে ৪৪ কেজি করে গো খাদ্য প্রদান করা হয়েছে। দিরাইয়ে মোট ১৮৪০টি কৃষক পরিবারকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

এনজিওরা নেই কৃষকের পাশে

আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ১৫ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলেও অন্য কোন এনজিও বা উন্নয়ন সংস্থা সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে এখনও দাঁড়ায়নি বা সহায়তা করার ঘোষণা দেয়নি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হাওরের এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও সহায়তা করছেন না সুনামগঞ্জ জেলায় অর্থ লগ্নিকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও)।
তবে এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পদক্ষেপ এর সুনামগঞ্জ অঞ্চলের কর্মকর্তা মুজিবুল হক বলেন, ‘কাজ করছে না, একথা সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্র্যাক শুরু করেছে, আমরা শুরু করেছি। অন্যরা পর্যায়ক্রমে করবেন।’
ব্র্যাক গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলায় ফসল হারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রক্রিয়াজাত গো খাদ্য বিতরণ করেছে। আগামী কয়েক দিন পর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করবে বলে জানা গেছে।
শাল্লা উপজেলার মুক্তার গ্রামের কৃষক ব্রজেন্দ্র দাস বলেন,‘ আমাদের এলাকার সব কৃষকের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও সংস্থার লোকজন এখন কোন ধরনের সাহায্য-সহাযোগিতা নিয়ে আসেনি। হাওরের মানুষ মহা বিপদে পড়ছে এবার। উল্টো কিছু কিছু এনজিও সংস্থা ঋণের কিস্তির জন্য কৃষকদের চাপ প্রয়োগ করছে। টাকা দেয়ার
জন্য নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা বলেন,‘ হাওরাঞ্চলের এবারের সমস্যা খুব গভীর। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। ব্র্যাকের পাশাপাশি সুনামগঞ্জে কর্মরত সকল এনজিওকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে ও সহায়তা করতে হবে। না হলে হাওরের এই সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হবে।’
এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুজিবুল হক বলেন,‘ সকল এনজিও প্রতিষ্ঠান আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়। আমরা পদক্ষেপের পক্ষ থেকে কম সুদে ঋণ বিতরণ করছি। আগামী ২৮ এপ্রিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ২৯ তারিখ ত্রাণ বিতরণ করব। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ও সহায়তা করার বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটির একটি নির্দেশনা জারী করেছে। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে একটি সভা করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুনামগঞ্জের কর্মকর্তাগণ ঢাকায় চিঠি লিখেছেন। আমরা আশা করি সকল প্রতিষ্ঠানই সাধ্যমত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করবেন। ’
ব্র্যাক এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক সুনামগঞ্জের খরকে বলেন,‘ ব্র্যাক হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা দিয়েছে। আমরা শুধুমাত্র সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০ হাজার ৭৫০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও ৫০০ করে নগদ টাকা প্রদান করব। গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলার ৩২৮টি কৃষক পরিবারকে ৪৪ কেজি করে গো খাদ্য প্রদান করা হয়েছে। দিরাইয়ে মোট ১৮৪০টি কৃষক পরিবারকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।