ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর যুবদলের আনন্দ র‌্যালি বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা

এনজিওরা নেই কৃষকের পাশে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭
  • ৩৪৮ বার

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ১৫ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলেও অন্য কোন এনজিও বা উন্নয়ন সংস্থা সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে এখনও দাঁড়ায়নি বা সহায়তা করার ঘোষণা দেয়নি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হাওরের এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও সহায়তা করছেন না সুনামগঞ্জ জেলায় অর্থ লগ্নিকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও)।
তবে এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পদক্ষেপ এর সুনামগঞ্জ অঞ্চলের কর্মকর্তা মুজিবুল হক বলেন, ‘কাজ করছে না, একথা সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্র্যাক শুরু করেছে, আমরা শুরু করেছি। অন্যরা পর্যায়ক্রমে করবেন।’
ব্র্যাক গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলায় ফসল হারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রক্রিয়াজাত গো খাদ্য বিতরণ করেছে। আগামী কয়েক দিন পর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করবে বলে জানা গেছে।
শাল্লা উপজেলার মুক্তার গ্রামের কৃষক ব্রজেন্দ্র দাস বলেন,‘ আমাদের এলাকার সব কৃষকের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও সংস্থার লোকজন এখন কোন ধরনের সাহায্য-সহাযোগিতা নিয়ে আসেনি। হাওরের মানুষ মহা বিপদে পড়ছে এবার। উল্টো কিছু কিছু এনজিও সংস্থা ঋণের কিস্তির জন্য কৃষকদের চাপ প্রয়োগ করছে। টাকা দেয়ার
জন্য নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা বলেন,‘ হাওরাঞ্চলের এবারের সমস্যা খুব গভীর। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। ব্র্যাকের পাশাপাশি সুনামগঞ্জে কর্মরত সকল এনজিওকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে ও সহায়তা করতে হবে। না হলে হাওরের এই সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হবে।’
এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুজিবুল হক বলেন,‘ সকল এনজিও প্রতিষ্ঠান আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়। আমরা পদক্ষেপের পক্ষ থেকে কম সুদে ঋণ বিতরণ করছি। আগামী ২৮ এপ্রিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ২৯ তারিখ ত্রাণ বিতরণ করব। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ও সহায়তা করার বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটির একটি নির্দেশনা জারী করেছে। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে একটি সভা করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুনামগঞ্জের কর্মকর্তাগণ ঢাকায় চিঠি লিখেছেন। আমরা আশা করি সকল প্রতিষ্ঠানই সাধ্যমত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করবেন। ’
ব্র্যাক এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক সুনামগঞ্জের খরকে বলেন,‘ ব্র্যাক হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা দিয়েছে। আমরা শুধুমাত্র সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০ হাজার ৭৫০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও ৫০০ করে নগদ টাকা প্রদান করব। গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলার ৩২৮টি কৃষক পরিবারকে ৪৪ কেজি করে গো খাদ্য প্রদান করা হয়েছে। দিরাইয়ে মোট ১৮৪০টি কৃষক পরিবারকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর যুবদলের আনন্দ র‌্যালি

এনজিওরা নেই কৃষকের পাশে

আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ১৫ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলেও অন্য কোন এনজিও বা উন্নয়ন সংস্থা সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে এখনও দাঁড়ায়নি বা সহায়তা করার ঘোষণা দেয়নি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হাওরের এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও সহায়তা করছেন না সুনামগঞ্জ জেলায় অর্থ লগ্নিকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও)।
তবে এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পদক্ষেপ এর সুনামগঞ্জ অঞ্চলের কর্মকর্তা মুজিবুল হক বলেন, ‘কাজ করছে না, একথা সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্র্যাক শুরু করেছে, আমরা শুরু করেছি। অন্যরা পর্যায়ক্রমে করবেন।’
ব্র্যাক গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলায় ফসল হারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রক্রিয়াজাত গো খাদ্য বিতরণ করেছে। আগামী কয়েক দিন পর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করবে বলে জানা গেছে।
শাল্লা উপজেলার মুক্তার গ্রামের কৃষক ব্রজেন্দ্র দাস বলেন,‘ আমাদের এলাকার সব কৃষকের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও সংস্থার লোকজন এখন কোন ধরনের সাহায্য-সহাযোগিতা নিয়ে আসেনি। হাওরের মানুষ মহা বিপদে পড়ছে এবার। উল্টো কিছু কিছু এনজিও সংস্থা ঋণের কিস্তির জন্য কৃষকদের চাপ প্রয়োগ করছে। টাকা দেয়ার
জন্য নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা বলেন,‘ হাওরাঞ্চলের এবারের সমস্যা খুব গভীর। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। ব্র্যাকের পাশাপাশি সুনামগঞ্জে কর্মরত সকল এনজিওকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে ও সহায়তা করতে হবে। না হলে হাওরের এই সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হবে।’
এনজিও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এর সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুজিবুল হক বলেন,‘ সকল এনজিও প্রতিষ্ঠান আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়। আমরা পদক্ষেপের পক্ষ থেকে কম সুদে ঋণ বিতরণ করছি। আগামী ২৮ এপ্রিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ২৯ তারিখ ত্রাণ বিতরণ করব। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ও সহায়তা করার বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরটির একটি নির্দেশনা জারী করেছে। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে একটি সভা করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুনামগঞ্জের কর্মকর্তাগণ ঢাকায় চিঠি লিখেছেন। আমরা আশা করি সকল প্রতিষ্ঠানই সাধ্যমত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করবেন। ’
ব্র্যাক এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান দৈনিক সুনামগঞ্জের খরকে বলেন,‘ ব্র্যাক হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা দিয়েছে। আমরা শুধুমাত্র সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০ হাজার ৭৫০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল ও ৫০০ করে নগদ টাকা প্রদান করব। গতকাল বুধবার দিরাই উপজেলার ৩২৮টি কৃষক পরিবারকে ৪৪ কেজি করে গো খাদ্য প্রদান করা হয়েছে। দিরাইয়ে মোট ১৮৪০টি কৃষক পরিবারকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।