ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

পাহাড়ি এলাকায় বিষমুক্ত সজনের আবাদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০১৭
  • ৫১৪ বার

পাহাড়ের জনপদে এখন অনেক ভাল ভাল সবজির আবাদ হয়, এরমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে সজনে।

এখন সজনের মৌসুম। এটি ফাল্গুন মাসের প্রথমেই ধরা পড়ে। চৈত্রমাসজুড়ে বিক্রি হয়। এ সবজিটি এক সময় হবিগঞ্জের জেলার সর্বত্র চাষ হতো। এখন শুধু ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে জেলার পাহাড়ি এলাকায়। এ মৌসুমে সজনের ভাল ফলন হয়েছে পাহাড়ে।

চুনারুঘাট উপজেলা দেউন্দি চা-বাগান এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি সজনের গাছ। অনেকে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। আবার নিজেদের খাবারে সবজির চাহিদা মেটাচ্ছেন। এভাবে জেলার পাহাড়ি এলাকার প্রতিটি চা-বাগান, আদিবাসী পুঞ্জির বাড়ি সজনে চাষ হচ্ছে। এর ফলনে কোন সার বা বিষ প্রয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে না।

আলাপকালে চা-বাগান ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন জানান, বাগানের উঁচু-ঢালু স্থানের মাটিতে সজনের ভাল ফলন হয়ে থাকে। এগুলোতে পুষ্টি রয়েছে।

শ্রমিক সরদার সূর্য মাল বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি গাছ রয়েছে। প্রতিবছর সবকটি গাছে সজনে ধরে। নিজেদের খাবারসহ বিক্রি করে ভাল টাকা পাওয়া যায়।’ তিনি জানান, মৌসুম শেষে, গাছের কিছু কিছু ডাল কেটে দিতে হয়। এতে নতুন ডালে বেশি ফলন হয়।

বাহুবলের পুটিজুরী পাহাড়ের কালিগজিয়া পুঞ্জির বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ি বাড়ি সজনে গাছ রয়েছে। গাছে সজনে ধরা পড়ে। এসব সজনে তারা বিক্রি করার পাশাপাশি নিজেরা খেতে থাকেন। তারা জানান, সজনে চাষে কোন খরচ নেই। বরং বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের পাইকারি ক্রেতা মোতাব্বির হোসেন বলেন, ‘গ্রামে এখনও কিছু কিছু বাড়িতে সজনের চাষ হয়। তবে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে পাহাড়ে। তাই আমরা পাহাড় থেকে সজনে ক্রয় করে বাজারে খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি। এতে ভাল হচ্ছে। ক্রেতারাও বিষমুক্ত সজনে খেতে পারছেন।’

ক্রেতা অলি মিয়া বলেন, ‘এক আঁটি সজনে ৪০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। এ সবজি খেয়ে স্বাদ পাওয়া যায়।’ আরেক ক্রেতা সুজন চৌধুরী বলেন, ‘সজনে খেতে হলে শুকনো শিমের বীজ ও শুঁটকীর প্রয়োজন। সাথে মাছ দিলে আরও ভাল স্বাদ পাওয়া যায়।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, পাহাড়ে ব্যাপকভাবে সজনের চাষ হচ্ছে। সবজিটির পুষ্টিগুণও ভাল। তাই আমরা এই সবজি চাষিদের উৎসাহ প্রদান করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড

পাহাড়ি এলাকায় বিষমুক্ত সজনের আবাদ

আপডেট টাইম : ১১:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০১৭

পাহাড়ের জনপদে এখন অনেক ভাল ভাল সবজির আবাদ হয়, এরমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে সজনে।

এখন সজনের মৌসুম। এটি ফাল্গুন মাসের প্রথমেই ধরা পড়ে। চৈত্রমাসজুড়ে বিক্রি হয়। এ সবজিটি এক সময় হবিগঞ্জের জেলার সর্বত্র চাষ হতো। এখন শুধু ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে জেলার পাহাড়ি এলাকায়। এ মৌসুমে সজনের ভাল ফলন হয়েছে পাহাড়ে।

চুনারুঘাট উপজেলা দেউন্দি চা-বাগান এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি সজনের গাছ। অনেকে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। আবার নিজেদের খাবারে সবজির চাহিদা মেটাচ্ছেন। এভাবে জেলার পাহাড়ি এলাকার প্রতিটি চা-বাগান, আদিবাসী পুঞ্জির বাড়ি সজনে চাষ হচ্ছে। এর ফলনে কোন সার বা বিষ প্রয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে না।

আলাপকালে চা-বাগান ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন জানান, বাগানের উঁচু-ঢালু স্থানের মাটিতে সজনের ভাল ফলন হয়ে থাকে। এগুলোতে পুষ্টি রয়েছে।

শ্রমিক সরদার সূর্য মাল বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি গাছ রয়েছে। প্রতিবছর সবকটি গাছে সজনে ধরে। নিজেদের খাবারসহ বিক্রি করে ভাল টাকা পাওয়া যায়।’ তিনি জানান, মৌসুম শেষে, গাছের কিছু কিছু ডাল কেটে দিতে হয়। এতে নতুন ডালে বেশি ফলন হয়।

বাহুবলের পুটিজুরী পাহাড়ের কালিগজিয়া পুঞ্জির বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ি বাড়ি সজনে গাছ রয়েছে। গাছে সজনে ধরা পড়ে। এসব সজনে তারা বিক্রি করার পাশাপাশি নিজেরা খেতে থাকেন। তারা জানান, সজনে চাষে কোন খরচ নেই। বরং বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের পাইকারি ক্রেতা মোতাব্বির হোসেন বলেন, ‘গ্রামে এখনও কিছু কিছু বাড়িতে সজনের চাষ হয়। তবে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে পাহাড়ে। তাই আমরা পাহাড় থেকে সজনে ক্রয় করে বাজারে খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি। এতে ভাল হচ্ছে। ক্রেতারাও বিষমুক্ত সজনে খেতে পারছেন।’

ক্রেতা অলি মিয়া বলেন, ‘এক আঁটি সজনে ৪০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। এ সবজি খেয়ে স্বাদ পাওয়া যায়।’ আরেক ক্রেতা সুজন চৌধুরী বলেন, ‘সজনে খেতে হলে শুকনো শিমের বীজ ও শুঁটকীর প্রয়োজন। সাথে মাছ দিলে আরও ভাল স্বাদ পাওয়া যায়।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, পাহাড়ে ব্যাপকভাবে সজনের চাষ হচ্ছে। সবজিটির পুষ্টিগুণও ভাল। তাই আমরা এই সবজি চাষিদের উৎসাহ প্রদান করছি।