কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, কোনো নতুন প্রস্তাবও নয়, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ। তবে একটি যোগ্য সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়ার কথা বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল দিয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকবে।
এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, ইসি পুনর্গঠনে সংবিধানের ১১৮-এর (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার ওপর আস্থা রাখছে দলটি।
ইসি গঠন নিয়ে কোনো প্রস্তাব না থাকলেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে কমিশনসংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান আওয়ামী লীগের সংলাপসংক্রান্ত কমিটির একজন সদস্য।
বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবেন।
এর আগে দেশের অপর প্রধান দল বিএনপিসহ সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, বিএনপি জোটের শরিক এলডিপিসহ আরো কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপ করেন রাষ্ট্রপতি।
বিএনপি সব দলের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনের প্রস্তাব দেয় রাষ্ট্রপতির কাছে। জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ কয়েকটি দল ইসি গঠনে সংবিধানে বর্ণিত আইণ প্রণয়নের পরামর্শ দেয়।
তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, ইসি গঠনের জন্য যে সময় আছে, তা আইন প্রণয়ন ও নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট নয়।
সংলাপসংক্রান্ত কমিটির ওই সদস্য বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে এত দ্রুত আইন প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা নিরসনের জন্য আওয়ামী লীগ কমিশনসংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করার প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে একটি যোগ্য সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়ার কথা বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল দিয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকবে বলে দলটির সংলাপ কমিটির এই সদস্য জানান।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সবকিছুতেই রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখবে বলে তারা জানান।
নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব ও সুপারিশমালা তৈরি করতে দলটির পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা কয়েক দফায় বৈঠক করে এ-সংক্রান্ত একটি রূপরেখা তৈরি করেছিল। এরপর ৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত দলীয় বক্তব্য কী হবে সেটি চূড়ান্ত করে দলটি।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাদের।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে দলের প্রতিনিধিদলে কারা থাকবেন সে বিষয়েও গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আওয়ামী লীগ। তবে মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গভবনে দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেবে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপিত প্রস্তাব ও সুপারিশমালা সম্পর্কে জানাতে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তরে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রেসকে বলা যাবে না। কাল রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গেলেই জানা যাবে কারা কারা যাচ্ছেন।
তবে আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় সভাপতির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এম জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুর করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচন এবং ওই সব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হবে বলে আ.লীগ নেতারা জানান।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে সংলাপ শুরু করেন। প্রথমে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ২২টি দলের সঙ্গে পৃথকভাবে সংলাপে বসেন রাষ্ট্রপ্রধান।
আগামী ফেব্রুয়ারি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই নতুন কমিশন নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যে কমিশন নিয়োগ দেবেন তার অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে এই কমিশনে কে আসবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মধ্যে জোর আলোচনা আছে।
Reporter Name 






















