চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গত সাত দিনে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি আবেদন করেছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য এসব আবেদন জমা পড়েছে। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে আবেদনকারীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। ২০২৪ সালে মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। সেই হিসাবে আগের দুই বছরের তুলনায় এবার আবেদনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আবেদন গ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর রবিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্য ও বিষয়ভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে। ১২ নভেম্বরের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বর পরীক্ষকদের ব্রিফিং এবং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য কম্পিউটার সেলে পাঠাতে হবে। এরপর ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর পরিবর্তিত নম্বর অন্তর্ভুক্তি ও উত্তরপত্রের কোড যাচাই করা হবে। ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর নম্বর পরিবর্তন হওয়া উত্তরপত্রগুলো চূড়ান্তভাবে যাচাই শেষে ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।
গত ৩১ অক্টোবর চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলে পাসের হার দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন ছাত্রী।
Reporter Name 

























