ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, টানা ছুটির সুযোগ কত দিন বিএনপি একাত্তর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসিনাকে হ্যান্ডকাফ পরেই দেশে আসতে হবে: প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের দশম শ্রেণির ছাত্রী যুথি হত্যায় সাবেক প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে : মির্জা ফয়সল সরকারের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে যুক্ত হলেন ৮ শীর্ষ উদ্যোক্তা ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ

দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো আবারও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রতিটি অপতৎপরতার জবাব দেওয়া হবে। ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়েও দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটিয়ে মানুষ তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ১৯৭১, ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মতো আবারও ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সমবেত হন। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিকেল ৩টার পর তাঁর নেতৃত্বে ‘সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক র‍্যালি শুরু হয়।

র‍্যালিটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

র‍্যালিতে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলীয় সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, টানা ছুটির সুযোগ কত দিন

দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো আবারও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রতিটি অপতৎপরতার জবাব দেওয়া হবে। ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়েও দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটিয়ে মানুষ তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ১৯৭১, ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মতো আবারও ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সমবেত হন। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিকেল ৩টার পর তাঁর নেতৃত্বে ‘সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক র‍্যালি শুরু হয়।

র‍্যালিটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

র‍্যালিতে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলীয় সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।