সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, দেশের সব মানুষের পরিচয় বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন যুদ্ধের মাঠে শতসহস্র মানুষ, লাখো মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন। কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান। আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।’
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মী কোন ধর্মের বা আমার সামনে কিংবা পেছনের কর্মী কোন ধর্মের।’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মা-বোন, শিশু, তরুণ ও যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ সারা দেশে রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন।’
আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলিবিদ্ধ মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদের ধরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন।’

আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা কারও ধর্ম জানতে চাননি। ধর্মের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে রাত সোয়া ৮টার দিকে পূজামণ্ডপে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল দাস, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীবধর তমাল এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমানসহ অন্য নেতারা।
Reporter Name 




















