জনগণের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। মানুষের নিরাপত্তা ছিল না, সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। ওই সময়ে ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অঘটন ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা-অর্চনা চলছে। এ জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
আইজিপি বলেন, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এ দেশেরই মানুষ। আমরা একে অপরের ভাই। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সবাই মিলে শান্তি বজায় রাখতে হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এ জন্য পুলিশকে নিজেদের মনে করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে আলী হোসেন ফকির বলেন, মা দুর্গার অসুরবধ অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও অশান্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষাকে নিজেদের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত করতে হবে।ন
পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা গুজব ছড়ালে তা যাচাই না করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, ডিজিটাল যুগে নানা ধরনের তথ্য ছড়াতে পারে। তাই কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস করা বা তা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূজা উদ্যাপন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় সভা হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় সব অপশক্তি, অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি সবার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
Reporter Name 




















