কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমপি, কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, মঈনুল ইসলাম খান এমপি, মো. সাইফুল আলম এমপি এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এমপি।
বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি), বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্পটির বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি পরবর্তী বৈঠকে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে, আগের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের তালিকা কমিটির সদস্যদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এসব প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র উপস্থাপন করে সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ কেন বাড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সমস্যা, যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করা, সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করে স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। একই সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য পদের বিপরীতে সুপরিকল্পিত কর্মভার নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন কমিটির সভাপতি।
বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবরা, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরগুলোর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Reporter Name 




















