ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় সহনশীল অর্থনীতির তাগিদ পরিবেশমন্ত্রীর হুতির হামলায় সৌদির ফ্লাইটে ব্যাঘাত, বিড়ম্বনায় পবিত্র ওমরাহ যাত্রীরা চলনবিল পাখির কলকাকলীতে মুখরিত ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান ৪০০ অতিথির সৌদিতে এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন ইবি শিক্ষার্থীর দল দুর্গাপূজাকে ঘিরে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ : ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার

বিএনপি সরকারের ঘোষিত প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের যৌথ বার্ষিক আলোচনার দ্বিপক্ষীয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত এ কর্মসূচি দুটির প্রশংসা করে উন্নয়ন সহযোগীরা।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে দরিদ্র হয়ে পড়া মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমবে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) এ ধরনের কর্মসূচিকে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, অতীতের সরকারের সময় তালিকায় ত্রুটি থাকায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। সে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি ও ফার্মার্স কার্ডকে প্রধান হাতিয়ার করা হয়েছে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক মনে করে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গের কথা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা জানান, অতীতে কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির কারণে রাজস্ব বাড়েনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে। ফলে গত ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রক্ষেপণে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবিক ফল প্রমাণে কাজ করছে।

ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়ে তিতুমীর জানান, অতীতে ব্যাংক লুটপাটের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইতিমধ্যে সংস্কারের ফলে ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা টাকা তুলতে পারছেন। অন্যান্য সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বিষয়ে ‘রেজল্যুশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমছে, যা ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

অর্থ উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, সরকার ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও এক্সপোর্ট গেটওয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সমন্বিত অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

আপডেট টাইম : ০৩:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি সরকারের ঘোষিত প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের যৌথ বার্ষিক আলোচনার দ্বিপক্ষীয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত এ কর্মসূচি দুটির প্রশংসা করে উন্নয়ন সহযোগীরা।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে দরিদ্র হয়ে পড়া মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমবে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) এ ধরনের কর্মসূচিকে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, অতীতের সরকারের সময় তালিকায় ত্রুটি থাকায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। সে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি ও ফার্মার্স কার্ডকে প্রধান হাতিয়ার করা হয়েছে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক মনে করে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গের কথা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা জানান, অতীতে কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির কারণে রাজস্ব বাড়েনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে। ফলে গত ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রক্ষেপণে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবিক ফল প্রমাণে কাজ করছে।

ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়ে তিতুমীর জানান, অতীতে ব্যাংক লুটপাটের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইতিমধ্যে সংস্কারের ফলে ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা টাকা তুলতে পারছেন। অন্যান্য সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বিষয়ে ‘রেজল্যুশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমছে, যা ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

অর্থ উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, সরকার ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও এক্সপোর্ট গেটওয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সমন্বিত অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন করছে।