ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

১০ এয়ারবাস কিনতে ৭ অক্টোবর চুক্তি করবে বিমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৯ বার

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় সই হবে। এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজ এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে বলে জানিয়েছিলেন। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।’

মন্ত্রী জানিয়েছেন, এয়ারবাসগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে এয়ারবাস কেনার এই চুক্তির মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও দিয়ে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের যাত্রী চাহিদা পূরণ করা হতে পারে। এতে যেখানে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার উড়োজাহাজ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। অতীতে বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির জেট উড়োজাহাজের বেশির ভাগই বোয়িংয়ের তৈরি। ফলে এ৩৫০ ও এ৩২১নিও যুক্ত হলে বিমান বোয়িং ও এয়ারবাস দুই নির্মাতার উড়োজাহাজের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

এদিকে, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিমান আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

পরে এই ক্রয় পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। এতে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে মোট ৩৫টি। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজগুলো হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে বিমান।

এয়ারবাসের সঙ্গে ৭ অক্টোবরের চুক্তি সই হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে এত দিন বোয়িংনির্ভর ক্রয় পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে এয়ারবাসও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

১০ এয়ারবাস কিনতে ৭ অক্টোবর চুক্তি করবে বিমান

আপডেট টাইম : ১২:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় সই হবে। এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজ এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে বলে জানিয়েছিলেন। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।’

মন্ত্রী জানিয়েছেন, এয়ারবাসগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে এয়ারবাস কেনার এই চুক্তির মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও দিয়ে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের যাত্রী চাহিদা পূরণ করা হতে পারে। এতে যেখানে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার উড়োজাহাজ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। অতীতে বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির জেট উড়োজাহাজের বেশির ভাগই বোয়িংয়ের তৈরি। ফলে এ৩৫০ ও এ৩২১নিও যুক্ত হলে বিমান বোয়িং ও এয়ারবাস দুই নির্মাতার উড়োজাহাজের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

এদিকে, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিমান আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

পরে এই ক্রয় পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। এতে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে মোট ৩৫টি। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজগুলো হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে বিমান।

এয়ারবাসের সঙ্গে ৭ অক্টোবরের চুক্তি সই হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে এত দিন বোয়িংনির্ভর ক্রয় পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে এয়ারবাসও।