ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে লেনদেন না করার বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, ৬ বিল পাস পুরো ঢাকা শহর সিসিটিভি নজরদারিতে আনতে যাচ্ছে সরকার আমাকে সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে : রুমিন ফারহানা বন্যপ্রাণী অপরাধ ঠেকাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা চান পরিবেশমন্ত্রী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকায় উন্নীতে উদ্যোগ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য: স্পিকার

মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার

বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মায়ের কবরে আমীরুল ইসলামকে দাফন করা হয়।

শুক্রবার আসর নামাজের পর মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে তার দ্বিতীয় জানাজা বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৩টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমীরুল ইসলামের মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হয়।

এর আগে জুমার নামাজের পর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুরে নেওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন আমীরুল ইসলাম। চার দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য অল্প বয়সেই শিশু একাডেমির অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে এই পুরস্কার আরও পাঁচবার পান তিনি।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আমীরুল ইসলাম সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার, ছোটদের মেলা পুরস্কার, শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার, হাবীবুর রহমান শিশুসাহিত্য পুরস্কার, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার এবং কলকাতার অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।

তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক। শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি।

আমীরুল ইসলাম বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’-এর প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক ‘আসন্ন’-এর সম্পাদক হিসেবে প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার ছোটদের জন্য প্রকাশিত প্রথম চার রঙের কিশোর পাতা সম্পাদনা করেন পাঁচ বছর। সবশেষে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই শিশুসাহিত্যিক।

ভ্রমণ ছিল তার অন্যতম প্রিয় শখ। বিশ্বের বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুরনো বই ও চিত্রকলা সংগ্রহ, বই পড়া, দাবা খেলা এবং রবীন্দ্রসংগীত শোনা ছিল তার পছন্দের বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে লেনদেন না করার বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল

মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম

আপডেট টাইম : ০৬:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মায়ের কবরে আমীরুল ইসলামকে দাফন করা হয়।

শুক্রবার আসর নামাজের পর মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে তার দ্বিতীয় জানাজা বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৩টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমীরুল ইসলামের মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হয়।

এর আগে জুমার নামাজের পর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুরে নেওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন আমীরুল ইসলাম। চার দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য অল্প বয়সেই শিশু একাডেমির অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে এই পুরস্কার আরও পাঁচবার পান তিনি।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আমীরুল ইসলাম সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার, ছোটদের মেলা পুরস্কার, শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার, হাবীবুর রহমান শিশুসাহিত্য পুরস্কার, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার এবং কলকাতার অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।

তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক। শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি।

আমীরুল ইসলাম বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’-এর প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক ‘আসন্ন’-এর সম্পাদক হিসেবে প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার ছোটদের জন্য প্রকাশিত প্রথম চার রঙের কিশোর পাতা সম্পাদনা করেন পাঁচ বছর। সবশেষে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই শিশুসাহিত্যিক।

ভ্রমণ ছিল তার অন্যতম প্রিয় শখ। বিশ্বের বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুরনো বই ও চিত্রকলা সংগ্রহ, বই পড়া, দাবা খেলা এবং রবীন্দ্রসংগীত শোনা ছিল তার পছন্দের বিষয়।