ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম থেকে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে, ১৪ বছরের মানবিক উদ্যোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার
বাংলাদেশের একটি গ্রাম থেকে ১৪ বছর আগে শুরু হওয়া একটি মানবিক উদ্যোগ এবার জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আলোচনায় অংশ নিয়েছে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিবরিয়া (সিআইপি) ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ ও সাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব আয়োজনে দারিদ্র্য, বৈষম্য, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাউন্ডেশনটি বর্তমানে ১৫টি দেশে ‘ফাইভ জিরো গ্লোবাল ক্যাম্পেইন’ বা ‘পাঁচ শূন্য বৈশ্বিক প্রচারাভিযান’ নিয়ে কাজ করছে। উদ্যোগটির পাঁচটি লক্ষ্য হলো— শূন্য ভিক্ষাবৃত্তি, শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য গৃহহীনতা, চিকিৎসাবিহীন শূন্য মৃত্যু এবং শূন্য অদক্ষ মানুষ।

এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহায়তাকে নিজেদের কার্যক্রমের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের একটি পার্শ্ব-আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন।

নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছে জাতিসংঘ।ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এরই মধ্যে মানবিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গোলাম কিবরিয়ার ‘মানবিক সমতা সভ্যতা’ দর্শনের মূল লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদা, সুযোগ, শিক্ষা, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও উন্নয়নের অধিকার পাবে। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সমতা, সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিশ্বের শুধু প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বিশ্বকে এগিয়ে নিতে প্রজ্ঞা, সহযোগিতা ও মানবিকতার প্রয়োজন।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের মানবিক অগ্রাধিকারগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, প্রচলিত দাতব্য কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে মানুষের মর্যাদা, সুযোগের সমতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম থেকে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে, ১৪ বছরের মানবিক উদ্যোগ

আপডেট টাইম : ০১:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের একটি গ্রাম থেকে ১৪ বছর আগে শুরু হওয়া একটি মানবিক উদ্যোগ এবার জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আলোচনায় অংশ নিয়েছে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিবরিয়া (সিআইপি) ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ ও সাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব আয়োজনে দারিদ্র্য, বৈষম্য, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাউন্ডেশনটি বর্তমানে ১৫টি দেশে ‘ফাইভ জিরো গ্লোবাল ক্যাম্পেইন’ বা ‘পাঁচ শূন্য বৈশ্বিক প্রচারাভিযান’ নিয়ে কাজ করছে। উদ্যোগটির পাঁচটি লক্ষ্য হলো— শূন্য ভিক্ষাবৃত্তি, শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য গৃহহীনতা, চিকিৎসাবিহীন শূন্য মৃত্যু এবং শূন্য অদক্ষ মানুষ।

এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহায়তাকে নিজেদের কার্যক্রমের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের একটি পার্শ্ব-আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন।

নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছে জাতিসংঘ।ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এরই মধ্যে মানবিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গোলাম কিবরিয়ার ‘মানবিক সমতা সভ্যতা’ দর্শনের মূল লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদা, সুযোগ, শিক্ষা, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও উন্নয়নের অধিকার পাবে। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সমতা, সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিশ্বের শুধু প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বিশ্বকে এগিয়ে নিতে প্রজ্ঞা, সহযোগিতা ও মানবিকতার প্রয়োজন।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের মানবিক অগ্রাধিকারগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, প্রচলিত দাতব্য কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে মানুষের মর্যাদা, সুযোগের সমতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে তারা।