ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকতে বোলিংয়ে দারুণ কিছু করতে হতো বাংলাদেশকে। শুরুতে সেভাবে করতে পারছিলেন না টাইগার বোলাররা। তবে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগেনি। চোট থেকে ফিরেই জাদু দেখালেন শরিফুল ইসলাম। নিজের পেস, গতি আর বাউন্স দিয়ে পরাস্ত করছেন অসি ব্যাটারদের। ফাইফার তুলে নিয়েছেন তিনি। দ্রুত ৪ ব্যাটারকে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এতে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩১.১ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া।
এতো সময় দুই প্রান্ত থেকেই পেসারদের দিয়ে বল করাচ্ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথমবার বোলিংয়ে পরিবর্তন আনলেন তিনি। বল তুলে দিলেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। হতাশ করেননি তিনি। প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ৩১তম ওভারের শেষ বলে ফিরিয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারিকে। ৮ বলে ৫ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
পরের ওভারে বোলিংয়ে আসেন শরিফুল। তার তৃতীয় বলে ব্যাট-বলে সংযোগ করতে পারেননি বেউ ওয়েবস্টার। বল গিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। আম্পায়ার আউট দিলে, রিভিউ নেন ওয়েবস্টার। তবে রিভিউ তার পক্ষে যায়নি। ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক মেরে।
এরপর পঞ্চম বলে লিটন দাসের ক্যাচ বানান প্যাট কামিন্সকে। শরিফুলের বাউন্সার বুঝতে পারেননি অসি অধিনায়ক। গ্লাভস ছুঁয়ে বল চলে যায় লিটন দাসের হাতে। বাংলাদেশের আবেদনে আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে দেন। ২ বলে কোনো রানই করতে পারেননি কামিন্স। কামিন্সকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করে নেন শরিফুল। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।
নিজের পরের ওভারে এসে আরেক শিকার ধরেন শরিফুল। এবার ফেরান মিচেল স্টার্ককে। ৬ বল খেলে ১ রান করতে পেরেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ককে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুল।
এতো সময় দুই প্রান্ত থেকেই পেসারদের দিয়ে বল করাচ্ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথমবার বোলিংয়ে পরিবর্তন আনছেন তিনি। বল তুলে দিলেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। হতাশ করেননি তিনি। প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ৩১তম ওভারের শেষ বলে ফিরিয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারিকে। গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরেছেন তিনি।
বোলিংয়ে এসেই জোড়া উইকেট তুলে নিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। আভাস দিয়েছিলেন আগ্রাসী বোলিংয়ের। এরপরই অবশ্য চা-বিরতিতে যায় দুই দল। চা-পান করে এসে ফুরফুরে মেজাজে ব্যাট করছিলেন স্টিভেন স্মিথ আর ক্যামেরন গ্রিন। শতকের দিকে ছুটছিল এই জুটি। অবশেষে স্মিথকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙলেন শরিফুল।
দ্রুতই উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে হতাশ করছিলেন স্মিথ আর গ্রিন। তাদের সাবলীল ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল আজ আর কোনো উইকেটই নিতে পারবে না বাংলাদেশ। সেই ধারণা ভেঙে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দিলেন শরিফুল।
২৬তম ওভারে শরিফুলের বল গিযে আঘাত হানে স্মিথের প্যাডে। বাংলাদেশের জোড়ালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ারও। রিভিউ নেন স্মিথ। রিপ্লেতে দেখা যায়, ইম্প্যাক্ট ও হিটিং দুটোই আম্পায়ারস কল। ফলে অনেকটা ভাগ্যের জোরেই উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ। ৭৪ বলে ৪২ রান করে আউট হয়েছেন স্মিথ। ১০৮ বলে ৭৭ রানের জুটি ভেঙেছে গ্রিনের সঙ্গে।
একটু আগে যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটাররা হাঁসফাঁস করে ফিরেছেন, সেখানেই দারুণ ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন ট্রাভিস হেড। এক সঙ্গীকে হারালেও মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন হেড। বোলিংয়ে এসেই অসি শিবিরে হানা দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এই দুই ব্যাটারকেই ফিরিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন হেড। ২৭ বলে ২২ রান করে ফেলেছিলেন তিনি। আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই হেডকে বোল্ড করে ফেরালেন শরিফুল।
এরপর ওভারের পঞ্চম বলে আরেক ব্যাটার লাবুশেনকেও দেখালেন ড্রেসিংরুমের পথ। তিনিও শরিফুলের বলে বোর্ড হয়েছেন। বল গিয়ে আঘাত করেছে স্টাম্পের মাথায়। ৯ বলে ৪ রান এসেছে লাবুশেনের ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিলেন তাসকিন
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ছয় ওভারেই তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশের পাঁচ উইকেট। টাইগারদের সাফল্য অতটা নয়। তবে বোলিংয়ে তৃতীয় ওভারের মধ্যে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশও। উইকেট এনে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
ডারউইন টেস্টে ব্যর্থতার কারনে স্কোয়াড এবং একাদশে পরিবর্তন এনেছিল অস্ট্রেলিয়া। জ্যাক ওয়েদারাল্ডের পরিবর্তে ফেরানো হয়েছিল ম্যাথু রেনশকে। তিনিও অসিদের খুশি করতে পারেননি। ফিরেছেন তাসকিন আহমেদের বলে। ১০ বলে ৮ রান করেছেন তিনি।
ব্যাটিং ধসে ৬৪ রানেই অলআউট বাংলাদেশ
দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশকে দুঃস্বপ্ন দেখালেন মিচেল স্টার্ক। সেশন বদলানোর পর বদলালো সেই নামও। দ্বিতীয় সেশনে সেই দায়িত্ব নিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অসি পেসারদের গতি, বাউন্স আর সুইংয়ে অসহায় বাংলাদেশ। সফরকারীদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে চারজনই ফিরলেন রানের খাতা খোলার আগেই। বাকি যারা রান পেরেন তারাও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। কোনোমতে পঞ্চাশ পার করে থামল বাংলাদেশ।
মাত্র অর্ধশত রান তুলে দিনের দ্বিতীয় সেশনেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সর্বসাকুল্যে ৩৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ৬৪ রান করেছে বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে যেন রীতিমতো চোখে সরষে ফুল দেখেছে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নিতে পারেনি টপঅর্ডার কিংবা মিডলঅর্ডারের কোনো ব্যাটার। আগের ম্যাচে যেই স্টার্ক উইকেট না পেয়ে হতাশায় পুড়েছেন, আজ প্রথম সাত ওভারেই তিনি ধরেছেন পাঁচ শিকার। তুলে নিয়েছেন ফাইফার। বাকি কাজটা সেরেছেন প্যাট কামিন্স আর হ্যাজলউডরা।
ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্টার্কের বলে ওপেনার সাদমান ইসলাম ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিনের হাতে। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেটে স্থায়ীত্ব হয়েছে ২ বল। তিনিও রানের খাতা খুলতে পারেননি। স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়েছেন বেউ ওয়েবস্টারকে।
একই পথের পথিক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটে তিনিও এক বলের বেশি সময় থাকতে পারেননি। ৫ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি লিটন দাসও। এই দুই ব্যাটারই স্টার্কের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে রানের দেখা পেয়েছেন কেবল মুমিনুল হক। ১৬ বলে ৫ রান করে ধরা পড়েছেন গ্রিনের হাতে।
এমন ব্যাটিং ধসের বিপরীতে কিছুটা আশা দেখিয়েছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ। ধংস্তুপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি। ষষ্ঠ উইকেটে ৫৩ বলে ৯ রানের জুটি ভেঙেছে প্যাট কামিন্সের বলে মুশফিক বোল্ড হয়ে ফিরলে। ৪২ বল থেকে ৫ রান এসেছে মুশির ব্যাট থেকে।
এতেই শঙ্কা জেগেছিল মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই গুটিয়ে যাওয়ার। তেমনটা হতে দেননি মিরাজ আর হাসান মাহমুদ। ৫৫ বলে ১৫ রানের জুটি গড়ে প্রথম সেশন পার করেন তারা। তবে দ্বিতীয় সেশনে ফিরতেই আবারও শুরু হয় ব্যাটিং ধস। দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই মিরাজকে ফেরান কামিন্স। ওযেবস্টারকে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ১১ রান।
এরপর আর বেশি সময় টিকতে পারেননি হাসানও। পরের ওভারেই জস হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৬ বলে ১০ রান করে ফিরেছেন হাসান। দ্রুতই ড্রেসিংরুমের পথে ধরেছেন তাসকিনও। ৭ বলে ১ রান করে কামিন্সের শিকার হয়েছেন তিনি।
তাসকিন যখন ফেরেন তখন ৯ উইকেটে বাংলাদেশের রান ৩৯ রান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান ৪৩। সেই লজ্জার রেকর্ড ভাঙারও শঙ্কা জেগেছিল। তবে তাইজুল ইসলাম আর শরিফুল ইসলামের জুটিতে সেই লজ্জার রেকর্ড ছাড়ায় বাংলাদেশ। পার করে অর্ধশত রানের গণ্ডি।
বাংলাদেশের লজ্জার রেকর্ড ছাড়াতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন শরিফুল। ইনিংসে সবচেয়ে বেশি তিনটি চার মারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের বলে উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৯ বলে ১৪ রান করেন শরিফুল।
Reporter Name 
























