ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ধর্ষণের পর মাসহ শিশুকে হত্যা, কথিত সাংবাদিক গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

মাদারীপুরের শিবচরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং পরে তারঅভিযোগে ফারুক মোল্লা নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলেকে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ঘাতক। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সম্প্রতি একটি মামলায় শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ফারুকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুকের সঙ্গে শাম্পার যোগাযোগ তৈরি হয়। সম্পর্কের সূত্রে গত বুধবার ফারুক শাম্পাকে নিজ বাসায় ডেকে আনেন। পরবর্তীতে রাতে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার কাছে থাকা স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা নিজের কাছে রেখে মরদেহ ওই এলাকার পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখে।

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ শাম্পার পরিচয় বের করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে তার বাবা গতকাল বৃহস্পতিবার শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওইদিন রাতেই রাজৈর থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, শাম্পাকে হত্যার সময় তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরও সঙ্গে ছিল। পরবর্তীতে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথা ফারুক স্বীকার করেছে। তবে শিশুটির মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। আর এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফারুকের বাসা থেকে শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, এক জোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।

শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এই হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মঈন খান এবার দেশের ‘এক নম্বর’ মন্ত্রী

ধর্ষণের পর মাসহ শিশুকে হত্যা, কথিত সাংবাদিক গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং পরে তারঅভিযোগে ফারুক মোল্লা নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলেকে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ঘাতক। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সম্প্রতি একটি মামলায় শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ফারুকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুকের সঙ্গে শাম্পার যোগাযোগ তৈরি হয়। সম্পর্কের সূত্রে গত বুধবার ফারুক শাম্পাকে নিজ বাসায় ডেকে আনেন। পরবর্তীতে রাতে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার কাছে থাকা স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা নিজের কাছে রেখে মরদেহ ওই এলাকার পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখে।

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ শাম্পার পরিচয় বের করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে তার বাবা গতকাল বৃহস্পতিবার শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওইদিন রাতেই রাজৈর থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, শাম্পাকে হত্যার সময় তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরও সঙ্গে ছিল। পরবর্তীতে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথা ফারুক স্বীকার করেছে। তবে শিশুটির মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। আর এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফারুকের বাসা থেকে শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, এক জোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।

শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এই হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।’