ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেটটা একটু স্লো করে দাও—পলককে ওবায়দুল কাদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেই নির্দেশনা অনুমোদন করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তা কার্যকর করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আজ রোববার ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে এ-সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড জমা দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ। পরে তা ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়।

কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘ইন্টারনেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?’ তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ পলক বলেন, ‘বলা আছে তো…।’ পরে শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করেই ইন্টারনেট স্লো করতে বলেন ওবায়দুল কাদের।

শুনানির সময় বিটিআরসির একটি নথিও জমা দেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। সেই নথিতে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে দেশের ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ১৫৩টি সাইটে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গাজী তামিম শুনানিতে বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরে আন্দোলনকারীদের ধরে জামায়াত-শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। তাই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা ছিল অপরাধ।

শুনানির একপর্যায়ে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের কল রেকর্ডও শোনানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই নাছির উদ্দীন ফোনে চট্টগ্রামে চালানো সহিংসতার খবরাখবর জানান নানককে। একই সঙ্গে মুরাদপুরে নিহত তিনজনের একজনকে নিজেদের লোক বলে দাবি করেন তিনি। তখন নানক বলেন, ‘জানাজা-টানাজা পড়িয়ে একটা ইস্যু করেন।’

এই মামলায় ২ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় ৪ আগস্ট থেকে। এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।

গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। সে সঙ্গে পলাতক থাকা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরও একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মারধর করতে সাদ্দামকে বলতে শোনা যায়।

ইলিয়াস আলীকে গুমের মামলায় সাইফুরের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এই পরোয়ানা জারি করেন। সে সঙ্গে এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেটটা একটু স্লো করে দাও—পলককে ওবায়দুল কাদের

আপডেট টাইম : ১১:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেই নির্দেশনা অনুমোদন করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তা কার্যকর করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আজ রোববার ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে এ-সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড জমা দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ। পরে তা ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়।

কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘ইন্টারনেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?’ তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ পলক বলেন, ‘বলা আছে তো…।’ পরে শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করেই ইন্টারনেট স্লো করতে বলেন ওবায়দুল কাদের।

শুনানির সময় বিটিআরসির একটি নথিও জমা দেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। সেই নথিতে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে দেশের ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ১৫৩টি সাইটে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গাজী তামিম শুনানিতে বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরে আন্দোলনকারীদের ধরে জামায়াত-শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। তাই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা ছিল অপরাধ।

শুনানির একপর্যায়ে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের কল রেকর্ডও শোনানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই নাছির উদ্দীন ফোনে চট্টগ্রামে চালানো সহিংসতার খবরাখবর জানান নানককে। একই সঙ্গে মুরাদপুরে নিহত তিনজনের একজনকে নিজেদের লোক বলে দাবি করেন তিনি। তখন নানক বলেন, ‘জানাজা-টানাজা পড়িয়ে একটা ইস্যু করেন।’

এই মামলায় ২ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় ৪ আগস্ট থেকে। এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।

গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। সে সঙ্গে পলাতক থাকা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরও একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মারধর করতে সাদ্দামকে বলতে শোনা যায়।

ইলিয়াস আলীকে গুমের মামলায় সাইফুরের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এই পরোয়ানা জারি করেন। সে সঙ্গে এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী।