ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতারা এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত ‘জুলাইয়ের চিঠি’ এবং ‘ছাদ আকাশের গল্প’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র দুইটি প্রদর্শন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি গণঅভ্যুত্থানে আহতসহ সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাইকমিশনার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে অভিহিত করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেন। হাইকমিশনার গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, গৃহবধূ, নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচকরা বাংলাদেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন

আপডেট টাইম : ১১:২১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতারা এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত ‘জুলাইয়ের চিঠি’ এবং ‘ছাদ আকাশের গল্প’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র দুইটি প্রদর্শন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা পর্বে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি গণঅভ্যুত্থানে আহতসহ সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাইকমিশনার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসাবে অভিহিত করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেন। হাইকমিশনার গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, গৃহবধূ, নারী ও শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ মুগ্ধসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচকরা বাংলাদেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।