ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে ‘৩৬ জুলাই’ হলো মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রূপান্তরের অঙ্গীকার আনসার-ভিডিপির ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বপ্নযাত্রায় ধীরগতি তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন দেখা হবে রাজপথে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রীকে কর্নেল অলি সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাদুঘর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণার কেন্দ্র : ড. ইউনূস

বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করল পাকিস্তান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার

পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা (তাঁরা পাকিস্তানি নাগরিক হলেও) ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে কোথাও সংবাদ সংগ্রহ করতে চাইলে আগে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের জারি করা ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম সীমিত করা নয়, বরং বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই, তথ্য সংগ্রহে সমন্বয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা। তবে নির্দেশিকায় এনওসি পেতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

সমালোচকদের মতে, বাস্তবে এই বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সংকুচিত করবে। পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৩তম অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা নওয়াজ খোখর বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করলে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, কারণ, সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষ তথ্যের জন্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।

দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সামরিক শাসনসহ নানা রাজনৈতিক সময় পার করলেও এমন কঠোর বিধিনিষেধ তিনি আগে দেখেননি বলে জানান। তাঁর মতে, তিনটি বড় শহরের বাইরে যেতে সাংবাদিকদের সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা শুধু চলাচলের স্বাধীনতাই নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও ক্ষুণ্ন করবে।

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার’ বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সাংবাদিকদের স্বীকৃতি বাতিল করা হতে পারে। তবে আইনজীবীদের একাংশের দাবি, এসব শর্তের ভাষা অস্পষ্ট এবং এর কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তাঁদের মতে, এটি মূলত নির্বাহী আদেশ, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা।

এদিকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল ও পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়ে। সম্প্রতি সেখানে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় অবিলম্বে এলাকা ছাড়তে ও নতুন করে এনওসির আবেদন করতে বলা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ওই অঞ্চলে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে বিবিসিসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেখান থেকে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এই নির্দেশনা আসে। এ ছাড়া আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশও সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি

বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করল পাকিস্তান

আপডেট টাইম : ০৭:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা (তাঁরা পাকিস্তানি নাগরিক হলেও) ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে কোথাও সংবাদ সংগ্রহ করতে চাইলে আগে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের জারি করা ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম সীমিত করা নয়, বরং বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই, তথ্য সংগ্রহে সমন্বয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা। তবে নির্দেশিকায় এনওসি পেতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

সমালোচকদের মতে, বাস্তবে এই বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সংকুচিত করবে। পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৩তম অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা নওয়াজ খোখর বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করলে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, কারণ, সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষ তথ্যের জন্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।

দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সামরিক শাসনসহ নানা রাজনৈতিক সময় পার করলেও এমন কঠোর বিধিনিষেধ তিনি আগে দেখেননি বলে জানান। তাঁর মতে, তিনটি বড় শহরের বাইরে যেতে সাংবাদিকদের সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা শুধু চলাচলের স্বাধীনতাই নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও ক্ষুণ্ন করবে।

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার’ বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সাংবাদিকদের স্বীকৃতি বাতিল করা হতে পারে। তবে আইনজীবীদের একাংশের দাবি, এসব শর্তের ভাষা অস্পষ্ট এবং এর কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তাঁদের মতে, এটি মূলত নির্বাহী আদেশ, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা।

এদিকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল ও পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়ে। সম্প্রতি সেখানে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় অবিলম্বে এলাকা ছাড়তে ও নতুন করে এনওসির আবেদন করতে বলা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ওই অঞ্চলে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে বিবিসিসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেখান থেকে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এই নির্দেশনা আসে। এ ছাড়া আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশও সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।