এবার প্রশাসনের ৩১তম ব্যাচ থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাচ্ছেন। ৩০ ব্যাচের বাদ পড়া কর্মকর্তারাও উপসচিব হিসেবে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। যে কোনো সময় পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
এ ছাড়া প্রশাসনের শীর্ষ পদেও পরিবর্তন আসছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে নতুন মুখ আসতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে শূন্যপদের ফলে শীর্ষ পদে রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে থাকা কোনো কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার আলোচনা রয়েছে। আবার প্রশাসন ক্যাডারের নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই নতুন পদায়ন দেওয়া হতে পারে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনে যুগ্ম সচিব পদোন্নতি ছিল সবচেয়ে বড়। উপসচিব পদের ১৭৯ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব বানিয়েছে সরকার। গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপনে ১৭২ জনকে এবং পরে আরেক প্রজ্ঞাপনে ৭ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিসিএস ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা যুগ্ম সচিব হলেন। এসব বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর বক্তব্য মেলেনি।
জানা গেছে, উপসচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পদোন্নতির জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচকে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে এই ব্যাচের কর্মকর্তারা বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। এই ব্যাচের পদোন্নতির যোগ্য আছেন ছয় শতাধিক কর্মকর্তা।
এর আগে গত মাসে ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের এবং ২৪ ব্যাচের বাদ পড়াদের যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের ১৩৮ এবং অন্য ক্যাডার মিলিয়ে ২৪তম ব্যাচের প্রায় ১৯০ জন কর্মকর্তাকে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করার সুপারিশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২৪ ব্যাচের ৮০ জনকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব করা হয়েছিল। আর ২৫তম ব্যাচের মোট ১৭০ জনের মধ্যে ৮০ জনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮০ জন ইতোমধ্যে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং তাদের অনেকে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, অনেকে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে থাকা ১৫তম ব্যাচের দুজন উপসচিবকেও যুগ্ম সচিব করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদ নতুন সরকার আসার পর থেকেই শূন্য। চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩০ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলামের পদটি শূন্য হয়েছে। বদলির কারণে খালি রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদ। চলতি মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অক্টোবরে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারেরও অবসরে যাওয়ার কথা।
এরই মধ্যে ২৯ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। একই দিনে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান। তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সচিব ও সমমর্যাদার পদে কর্মরত ৭৯ জন। এর মধ্যে ২৩ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। ১০ জন সচিবকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কারণে একজন সচিবকে করা হয়েছে ওএসডি। বর্তমানে তাদের কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব ও কাজ নেই।
Reporter Name 
























