ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপন নম্বর-স্যাটেলাইট ফোনে চলতো শেখ হাসিনার শেষ মুহূর্তের যোগাযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার

জুলাই-আগস্টে পুরো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে তোলা গোপন নম্বর আর স্যাটেলাইট ফোনে চালিয়েছেন শেষ মুহূর্তের সব যোগাযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম উন্মোচন করেছে শেখ হাসিনার সেই গোপন টেলিকম নেটওয়ার্ক আর পলায়ন পর্বের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আখলাকুস সাফা জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

২০২৪ সাল। জুলাই অভ্যুত্থানে ফুঁসে ওঠা রাজপথ। আন্দোলন দমাতে সারাদেশে নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। ডিজিটাল যোগাযোগের পথ বন্ধ করে চলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। সারাদেশ বিচ্ছিন্ন হলেও গণভবনে থামেনি ইন্টারনেটের গতি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের (বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট) বিশেষ ব্যাকআপ ব্যবস্থায় চলে শেখ হাসিনার হাই-স্পিড ইন্টারনেট। গণভবনের ছাদে বসানো হয়েছিল টাওয়ার ডাম্প। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রযুক্তি দল খুঁজে পেয়েছে তার অকাট্য প্রমাণ।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, তখন সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গণভবনে ইন্টারনেটের সংযোগ ছিল। কনফিগার করে সেখানে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছে।

১ আগস্টই পরিস্থিতি বুঝে যান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৩ আগস্ট একদফা ঘোষণার পর তার ফোন থেকে যোগাযোগ করা হয় অন্তত ৭০টি নম্বরে। এর মধ্যে ১১টি নম্বরের নাম-ছবি ও এনআইডি থাকলেও বাস্তবে সেসব ব্যক্তির কোনো অস্তিত্বই নেই।

৪ আগস্ট নিজের ব্যবহৃত ফোন নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েন শেখ হাসিনা। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন স্যাটেলাইট ফোন ও গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বর। স্যাটেলাইট ফোনেই সরাসরি যোগাযোগ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে, আশ্রয় চান সাময়িক।

দিল্লির সবুজ সংকেতের পর শুরু হয় চটজলদি পলায়ন পর্ব। বিমানবাহিনীর এমআই-সেভেন্টিন হেলিকপ্টারে চড়ে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা পৌঁছান কুর্মিটোলার এয়ার মুভমেন্টে। সেখানকার ভিআইপি রুমে কাটানো ২০ মিনিটে দুটি ফোনালাপ সারেন তিনি। একটি বিদেশে থাকা মেয়ে পুতুলের নামে নিবন্ধিত নম্বর। কিন্তু নম্বরটি অ্যাক্টিভ ছিল দেশেই। আর অন্যটিতে কথা বলেন উড্ডয়নের ঠিক এক মিনিট আগে।

সূত্রগুলো বলছে, ১ আগস্ট থেকেই স্বজনদের গোপনে দেশ ছাড়ার টেক্সট মেসেজ দিতে থাকেন শেখ হাসিনা। যদিও সব এসএমএসের ফরেনসিক শেষ হয়নি এখনও।

শেখ হাসিনার যোগাযোগের সব তথ্যই মুছে দিয়েছিলেন গুমের মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনাকর্তা জিয়াউল আহসান। তার জলসিড়ির বাড়িতে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব সার্ভার সিস্টেম।

এ প্রসঙ্গে তানভীর হাসান জোহা বলেন, ওই ভবনে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। তিনি জোর করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিয়েছিলেন। তার মানে সেখানে নিজস্ব ‘ডিজিটাল আয়নাঘর’ বানিয়েছিলেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপন নম্বর-স্যাটেলাইট ফোনে চলতো শেখ হাসিনার শেষ মুহূর্তের যোগাযোগ

আপডেট টাইম : ১২:১৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই-আগস্টে পুরো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে তোলা গোপন নম্বর আর স্যাটেলাইট ফোনে চালিয়েছেন শেষ মুহূর্তের সব যোগাযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম উন্মোচন করেছে শেখ হাসিনার সেই গোপন টেলিকম নেটওয়ার্ক আর পলায়ন পর্বের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আখলাকুস সাফা জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

২০২৪ সাল। জুলাই অভ্যুত্থানে ফুঁসে ওঠা রাজপথ। আন্দোলন দমাতে সারাদেশে নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। ডিজিটাল যোগাযোগের পথ বন্ধ করে চলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। সারাদেশ বিচ্ছিন্ন হলেও গণভবনে থামেনি ইন্টারনেটের গতি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের (বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট) বিশেষ ব্যাকআপ ব্যবস্থায় চলে শেখ হাসিনার হাই-স্পিড ইন্টারনেট। গণভবনের ছাদে বসানো হয়েছিল টাওয়ার ডাম্প। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রযুক্তি দল খুঁজে পেয়েছে তার অকাট্য প্রমাণ।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, তখন সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গণভবনে ইন্টারনেটের সংযোগ ছিল। কনফিগার করে সেখানে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছে।

১ আগস্টই পরিস্থিতি বুঝে যান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৩ আগস্ট একদফা ঘোষণার পর তার ফোন থেকে যোগাযোগ করা হয় অন্তত ৭০টি নম্বরে। এর মধ্যে ১১টি নম্বরের নাম-ছবি ও এনআইডি থাকলেও বাস্তবে সেসব ব্যক্তির কোনো অস্তিত্বই নেই।

৪ আগস্ট নিজের ব্যবহৃত ফোন নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েন শেখ হাসিনা। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন স্যাটেলাইট ফোন ও গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বর। স্যাটেলাইট ফোনেই সরাসরি যোগাযোগ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে, আশ্রয় চান সাময়িক।

দিল্লির সবুজ সংকেতের পর শুরু হয় চটজলদি পলায়ন পর্ব। বিমানবাহিনীর এমআই-সেভেন্টিন হেলিকপ্টারে চড়ে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা পৌঁছান কুর্মিটোলার এয়ার মুভমেন্টে। সেখানকার ভিআইপি রুমে কাটানো ২০ মিনিটে দুটি ফোনালাপ সারেন তিনি। একটি বিদেশে থাকা মেয়ে পুতুলের নামে নিবন্ধিত নম্বর। কিন্তু নম্বরটি অ্যাক্টিভ ছিল দেশেই। আর অন্যটিতে কথা বলেন উড্ডয়নের ঠিক এক মিনিট আগে।

সূত্রগুলো বলছে, ১ আগস্ট থেকেই স্বজনদের গোপনে দেশ ছাড়ার টেক্সট মেসেজ দিতে থাকেন শেখ হাসিনা। যদিও সব এসএমএসের ফরেনসিক শেষ হয়নি এখনও।

শেখ হাসিনার যোগাযোগের সব তথ্যই মুছে দিয়েছিলেন গুমের মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনাকর্তা জিয়াউল আহসান। তার জলসিড়ির বাড়িতে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব সার্ভার সিস্টেম।

এ প্রসঙ্গে তানভীর হাসান জোহা বলেন, ওই ভবনে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। তিনি জোর করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিয়েছিলেন। তার মানে সেখানে নিজস্ব ‘ডিজিটাল আয়নাঘর’ বানিয়েছিলেন তিনি।