ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরামপুরে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সবজি, কাঁচা মরিচের দাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হয়েছে। এ উপজেলায় উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়ে থাকে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক দিনের ঘন বর্ষণে অনেক সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাইরে চালান যাচ্ছে না এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদাও পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। এ সংকটের কারণে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আজ রোববার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ১৫ টাকার পটল ৫০ টাকায়, ২৫ টাকার মুখিকচু ৫০ টাকায়, ২০ টাকার ঢেঁড়স ৫০ টাকায় এবং ৬০ টাকার করলা ১২০ টাকায়। একইভাবে অন্যান্য সবজির দামও প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে।

একই সঙ্গে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। ৩০ টাকার পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা ও ঘন বর্ষণের কারণে বাজারে কাঁচা মরিচের যে দাম বেড়েছে, তাই এক কেজির জায়গায় আধা কেজি নিলাম ১২০ টাকায়। বাসায় কাঁচা মরিচের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। এদিকে মোকাম থেকে কাঁচা মরিচের আমদানি কম, তাই বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে দাম বেশি।’

সবজি চাষি আনিছুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টিতে সবজি খেত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় অল্প সবজি নিয়ে বাজারে এসেছি।’

সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশি দামে সবজি কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় আজকের পত্রিকাকে জানান, বর্ষা মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে ১১৫ হেক্টর সবজি খেতের মধ্যে আংশিকভাবে প্রায় ২ হেক্টর জমির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরামপুরে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সবজি, কাঁচা মরিচের দাম

আপডেট টাইম : ১১:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করা হয়েছে। এ উপজেলায় উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়ে থাকে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক দিনের ঘন বর্ষণে অনেক সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাইরে চালান যাচ্ছে না এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদাও পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। এ সংকটের কারণে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আজ রোববার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ১৫ টাকার পটল ৫০ টাকায়, ২৫ টাকার মুখিকচু ৫০ টাকায়, ২০ টাকার ঢেঁড়স ৫০ টাকায় এবং ৬০ টাকার করলা ১২০ টাকায়। একইভাবে অন্যান্য সবজির দামও প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে।

একই সঙ্গে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। ৩০ টাকার পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা ও ঘন বর্ষণের কারণে বাজারে কাঁচা মরিচের যে দাম বেড়েছে, তাই এক কেজির জায়গায় আধা কেজি নিলাম ১২০ টাকায়। বাসায় কাঁচা মরিচের ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। এদিকে মোকাম থেকে কাঁচা মরিচের আমদানি কম, তাই বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে দাম বেশি।’

সবজি চাষি আনিছুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টিতে সবজি খেত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় অল্প সবজি নিয়ে বাজারে এসেছি।’

সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশি দামে সবজি কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় আজকের পত্রিকাকে জানান, বর্ষা মৌসুমের টানা বৃষ্টিতে ১১৫ হেক্টর সবজি খেতের মধ্যে আংশিকভাবে প্রায় ২ হেক্টর জমির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।