ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিঠামইন বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর হত্যা, স্ত্রীর মামলায় তিনজনের নাম, খোঁজা হচ্ছে নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ বার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর তাঁর স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা তিন আসামিকেই ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিঠামইন থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন নিহতের স্ত্রী।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন— বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হামলার পর স্থানীয় জনতা মো. হেলালকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মতে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইন বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর হত্যা, স্ত্রীর মামলায় তিনজনের নাম, খোঁজা হচ্ছে নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের

আপডেট টাইম : ০৫:২৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর তাঁর স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা তিন আসামিকেই ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিঠামইন থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন নিহতের স্ত্রী।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন— বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হামলার পর স্থানীয় জনতা মো. হেলালকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মতে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।