ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

ডাবের খোসা-টায়ার কেনা বন্ধ, ফের চালুর বিষয়ে নিরুত্তর ডিএনসিসি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩৬ বার

চার বছর আগের কথা। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরই অংশ হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্য, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা ও টায়ার কেনার উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।

করপোরেশন থেকে অর্থছাড় না করায় দুই বছর আগে আলোচিত ওই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফের এক কার্যক্রম শুরু হবে কি না প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

অর্থছাড় না হলেও শুরুতে কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজ উদ্যোগে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনেছিলেন। কিন্তু তারা কোনো বিল পাননি। আবার যারা কাউন্সিলর অফিসে পরিত্যক্ত পণ্য জমা দিয়েছেন, তাদের অনেকেও টাকা পাননি।

এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ডিএনসিসির অধিকাংশ কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান। পরে ডিএনসিসির মেয়রসহ সব কাউন্সিলরকে অব্যাহতি দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এডিস মশা নিধনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনতে করপোরেশন থেকে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।-ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী

নাগরিকেরা জানান, ডিএনসিসির ওয়ার্ডভিত্তিক পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা ও টায়ার কেনার উদ্যোগটি ভালো ছিল। এটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন ডেঙ্গুর প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হতো, অন্যদিকে শহরটাও অনেক পরিষ্কার থাকতো। এখন বর্ষা মৌসুম। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উচিত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা।

তবে ডিএনসিসির দাবি, নগর কর্তৃপক্ষের (সাবেক মেয়র আতিকের সময়) কর্মপন্থা পুরোপুরি ঠিক ছিল না। সব কাজেই তড়িঘড়ি করা হয়েছিল। তহবিল গঠন বা অর্থছাড় না করেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কেনার ঘোষণা দিয়েছিলেন আতিকুল ইসলাম। যে কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুন করে ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেয়ে নাগরিকদের মধ্যে জনসচেতনতায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএসসিসি।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এডিস মশা নিধনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনতে করপোরেশন থেকে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শুধু কাউন্সিলর কার্যালয়েই এ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ ছিল। ফলে কেউ পণ্য নিতে অনেক দূর হেঁটে বা রিকশা ভাড়া দিয়ে কাউন্সিলর কার্যালয়ে যেতেন না। এক পর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।’

এখন নতুন করে তা চালু করা হবে কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

যে কারণে পরিত্যক্ত পণ্য কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়

কীটতত্ত্ববিদের তথ্যমতে, খাল ও ড্রেনের ময়লা পানিতে এডিস মশা জন্মায় না। পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, দইয়ের কাপ, টায়ার, কমোড, রঙের কৌটায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্মায়। তাই এসব পরিত্যক্ত দ্রব্য কিনে নিতে উদ্যোগ নিয়েছিল ডিএনসিসি।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী চিপসের প্যাকেট বা সমজাতীয় প্যাকেট প্রতি পিস এক টাকা, আইসক্রিম, ডিসপোজেবল কাপ এক টাকা, ডাবের খোসা দুই টাকা, কনডেন্স মিল্কের কৌটা দুই টাকা, মাটি, প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইন তিন টাকা, অন্য পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের দ্রব্য প্রতি কেজি ১০ টাকা, পরিত্যক্ত টায়ার প্রতি পিস ৫০ টাকা, পরিত্যক্ত পলিথিন প্রতি কেজি ১০ টাকা, পরিত্যক্ত স্যানিটারি ওয়্যার কমোড, বেসিন প্রতি পিস ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়।

এই মূল্যতালিকা ডিএনসিসির প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য কিনছিল কাউন্সিলর অফিস। পরে এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বর্জ্য পরিদর্শক আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নিয়ে ফেলা হতো।

ভাটারার কুড়িল মিয়াবাড়ি রোডের ক-১৮৫/৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ছিল ডিএনসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয়। ২০২৪ সালের মে মাসে এই কার্যালয়ে পরিত্যক্ত পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানো ছিল। সেখানে স্থানীয় অনেকের পরিত্যক্ত পণ্য নিয়ে বিক্রি করতে দেখা গিয়েছিল। তবে এখন সেখানে মূল্যতালিকা নেই। কাউকে পরিত্যক্ত চায়ের কাপ, চিপসের প্যাক, পলিথিন কিনতেও দেখা যায়নি।

ডিএনসিসির উদ্যোগে জনগণ সাড়া দিয়েছিল। তবে তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। এখন তা চালু হবে কি না, তা বর্তমান প্রশাসক ভালো জানেন। কারণ, একেক মেয়র বা প্রশাসক একেক আইডিয়া নিয়ে চলেন। এটা নতুন প্রশাসক শুরু করতে পারেন।-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার

একাইভাবে সম্প্রতি ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় (বনানী), ২০ নম্বর নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় (মহাখালী), ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় (দক্ষিণ বাড্ডা), ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয়ে (ফার্মগেট) গিয়ে কোথাও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনতে দেখা যায়নি। উল্টো এসব কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনের সড়ক, ফুটপাতে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত পণ্য ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

গুলশান-১, গুলশান-২, বনানী, কড়াইল বস্তি এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এই ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সচিব মোহাম্মদ আব্বাছ আলী বলেন, পরিত্যক্ত বর্জ্য কেনার ওই উদ্যোগে সাড়া মেলেনি। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

ডিএনসিসির পরিত্যক্ত পণ্য কেনায় ‘গোঁড়ায় গলদ’ ছিল

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, ডিএনসিসিতে মোট ৫৪টি ওয়ার্ড। আট থেকে ১০টি পাড়া বা মহল্লা নিয়ে একেকটি ওয়ার্ড। এসব মহল্লার পরিত্যক্ত বর্জ্য কেনার একটিই জায়গা ছিল, সেটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়। কেউ চাইলেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য সংগ্রহ করে কাউন্সিলর কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। আবার যারা বিক্রি করতে যেতেন, তাদেরও ঠিকমতো টাকা দেওয়া হয়নি। যেহেতু অর্থই ছাড় করা হয়নি। এমন অবস্থায় উদ্যোগটি থমকে যায়।
উত্তরার ফায়দাবাদ, কোটবাড়ী, মৌশাইর ও চালাবন এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড। ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল পরিত্যক্ত পণ্য কেনা নিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈমের।

তখন নাঈম জাগো নিউজকে বলেন, যারা কাউন্সিলর অফিসে পরিত্যক্ত পণ্য জমা দিচ্ছেন, দিন-তারিখ দিয়ে তাদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর তালিকা করে রাখা হচ্ছে। করপোরেশন থেকে টাকা পেলে সবাইকে ডেকে নিয়ে টাকা বিতরণ করা হবে।’

মহাখালীর বাসিন্দা সারোয়ার আলম বলেন, ‘ডিএনসিসির ওই ঘোষণার পর এলাকার অনেক টোকাই, গৃহকর্মী, পরিত্যক্ত পলিথিন, প্লাস্টিক সংগ্রহ করছিলেন। অনেক চায়ের দোকানি নিজ দোকানের ব্যবহৃত চায়ের কাপ, পলিথিনও বস্তায় ভরে কাউন্সিলর অফিসে দিয়ে আসছেন। কিন্তু তখন তাদের অনেককে টাকা দেওয়া হয়নি। এরপর সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।’

ডিএনসিসির ওই উদ্যোগ ইতিবাচক ছিল বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির উদ্যোগে জনগণ সাড়া দিয়েছিল। তবে তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। এখন তা চালু হবে কি না, তা বর্তমান প্রশাসক ভালো জানেন। কারণ, একেক মেয়র বা প্রশাসক একেক আইডিয়া নিয়ে চলেন। এটা নতুন প্রশাসক শুরু করতে পারেন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

ডাবের খোসা-টায়ার কেনা বন্ধ, ফের চালুর বিষয়ে নিরুত্তর ডিএনসিসি

আপডেট টাইম : ০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চার বছর আগের কথা। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরই অংশ হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্য, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা ও টায়ার কেনার উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।

করপোরেশন থেকে অর্থছাড় না করায় দুই বছর আগে আলোচিত ওই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফের এক কার্যক্রম শুরু হবে কি না প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

অর্থছাড় না হলেও শুরুতে কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজ উদ্যোগে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনেছিলেন। কিন্তু তারা কোনো বিল পাননি। আবার যারা কাউন্সিলর অফিসে পরিত্যক্ত পণ্য জমা দিয়েছেন, তাদের অনেকেও টাকা পাননি।

এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ডিএনসিসির অধিকাংশ কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান। পরে ডিএনসিসির মেয়রসহ সব কাউন্সিলরকে অব্যাহতি দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এডিস মশা নিধনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনতে করপোরেশন থেকে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।-ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী

নাগরিকেরা জানান, ডিএনসিসির ওয়ার্ডভিত্তিক পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা ও টায়ার কেনার উদ্যোগটি ভালো ছিল। এটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন ডেঙ্গুর প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হতো, অন্যদিকে শহরটাও অনেক পরিষ্কার থাকতো। এখন বর্ষা মৌসুম। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উচিত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা।

তবে ডিএনসিসির দাবি, নগর কর্তৃপক্ষের (সাবেক মেয়র আতিকের সময়) কর্মপন্থা পুরোপুরি ঠিক ছিল না। সব কাজেই তড়িঘড়ি করা হয়েছিল। তহবিল গঠন বা অর্থছাড় না করেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কেনার ঘোষণা দিয়েছিলেন আতিকুল ইসলাম। যে কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুন করে ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেয়ে নাগরিকদের মধ্যে জনসচেতনতায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএসসিসি।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এডিস মশা নিধনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনতে করপোরেশন থেকে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শুধু কাউন্সিলর কার্যালয়েই এ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ ছিল। ফলে কেউ পণ্য নিতে অনেক দূর হেঁটে বা রিকশা ভাড়া দিয়ে কাউন্সিলর কার্যালয়ে যেতেন না। এক পর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।’

এখন নতুন করে তা চালু করা হবে কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

যে কারণে পরিত্যক্ত পণ্য কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়

কীটতত্ত্ববিদের তথ্যমতে, খাল ও ড্রেনের ময়লা পানিতে এডিস মশা জন্মায় না। পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, দইয়ের কাপ, টায়ার, কমোড, রঙের কৌটায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্মায়। তাই এসব পরিত্যক্ত দ্রব্য কিনে নিতে উদ্যোগ নিয়েছিল ডিএনসিসি।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী চিপসের প্যাকেট বা সমজাতীয় প্যাকেট প্রতি পিস এক টাকা, আইসক্রিম, ডিসপোজেবল কাপ এক টাকা, ডাবের খোসা দুই টাকা, কনডেন্স মিল্কের কৌটা দুই টাকা, মাটি, প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইন তিন টাকা, অন্য পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের দ্রব্য প্রতি কেজি ১০ টাকা, পরিত্যক্ত টায়ার প্রতি পিস ৫০ টাকা, পরিত্যক্ত পলিথিন প্রতি কেজি ১০ টাকা, পরিত্যক্ত স্যানিটারি ওয়্যার কমোড, বেসিন প্রতি পিস ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়।

এই মূল্যতালিকা ডিএনসিসির প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য কিনছিল কাউন্সিলর অফিস। পরে এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বর্জ্য পরিদর্শক আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নিয়ে ফেলা হতো।

ভাটারার কুড়িল মিয়াবাড়ি রোডের ক-১৮৫/৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ছিল ডিএনসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয়। ২০২৪ সালের মে মাসে এই কার্যালয়ে পরিত্যক্ত পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানো ছিল। সেখানে স্থানীয় অনেকের পরিত্যক্ত পণ্য নিয়ে বিক্রি করতে দেখা গিয়েছিল। তবে এখন সেখানে মূল্যতালিকা নেই। কাউকে পরিত্যক্ত চায়ের কাপ, চিপসের প্যাক, পলিথিন কিনতেও দেখা যায়নি।

ডিএনসিসির উদ্যোগে জনগণ সাড়া দিয়েছিল। তবে তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। এখন তা চালু হবে কি না, তা বর্তমান প্রশাসক ভালো জানেন। কারণ, একেক মেয়র বা প্রশাসক একেক আইডিয়া নিয়ে চলেন। এটা নতুন প্রশাসক শুরু করতে পারেন।-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার

একাইভাবে সম্প্রতি ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় (বনানী), ২০ নম্বর নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় (মহাখালী), ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় (দক্ষিণ বাড্ডা), ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয়ে (ফার্মগেট) গিয়ে কোথাও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য কিনতে দেখা যায়নি। উল্টো এসব কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনের সড়ক, ফুটপাতে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত পণ্য ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

গুলশান-১, গুলশান-২, বনানী, কড়াইল বস্তি এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এই ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সচিব মোহাম্মদ আব্বাছ আলী বলেন, পরিত্যক্ত বর্জ্য কেনার ওই উদ্যোগে সাড়া মেলেনি। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

ডিএনসিসির পরিত্যক্ত পণ্য কেনায় ‘গোঁড়ায় গলদ’ ছিল

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, ডিএনসিসিতে মোট ৫৪টি ওয়ার্ড। আট থেকে ১০টি পাড়া বা মহল্লা নিয়ে একেকটি ওয়ার্ড। এসব মহল্লার পরিত্যক্ত বর্জ্য কেনার একটিই জায়গা ছিল, সেটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়। কেউ চাইলেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিকপণ্য সংগ্রহ করে কাউন্সিলর কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। আবার যারা বিক্রি করতে যেতেন, তাদেরও ঠিকমতো টাকা দেওয়া হয়নি। যেহেতু অর্থই ছাড় করা হয়নি। এমন অবস্থায় উদ্যোগটি থমকে যায়।
উত্তরার ফায়দাবাদ, কোটবাড়ী, মৌশাইর ও চালাবন এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড। ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল পরিত্যক্ত পণ্য কেনা নিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈমের।

তখন নাঈম জাগো নিউজকে বলেন, যারা কাউন্সিলর অফিসে পরিত্যক্ত পণ্য জমা দিচ্ছেন, দিন-তারিখ দিয়ে তাদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর তালিকা করে রাখা হচ্ছে। করপোরেশন থেকে টাকা পেলে সবাইকে ডেকে নিয়ে টাকা বিতরণ করা হবে।’

মহাখালীর বাসিন্দা সারোয়ার আলম বলেন, ‘ডিএনসিসির ওই ঘোষণার পর এলাকার অনেক টোকাই, গৃহকর্মী, পরিত্যক্ত পলিথিন, প্লাস্টিক সংগ্রহ করছিলেন। অনেক চায়ের দোকানি নিজ দোকানের ব্যবহৃত চায়ের কাপ, পলিথিনও বস্তায় ভরে কাউন্সিলর অফিসে দিয়ে আসছেন। কিন্তু তখন তাদের অনেককে টাকা দেওয়া হয়নি। এরপর সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।’

ডিএনসিসির ওই উদ্যোগ ইতিবাচক ছিল বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির উদ্যোগে জনগণ সাড়া দিয়েছিল। তবে তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। এখন তা চালু হবে কি না, তা বর্তমান প্রশাসক ভালো জানেন। কারণ, একেক মেয়র বা প্রশাসক একেক আইডিয়া নিয়ে চলেন। এটা নতুন প্রশাসক শুরু করতে পারেন।’