ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অবৈধ লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতের অধিকাংশই চুরি বিমান মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেট দূর করতে চেষ্টা চলছ: আফরোজা খানম ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীতে মোতায়েন থাকবে সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিট একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা একটি ইয়ারবাড কতদিন ব্যহবার করা যায় তুচ্ছ ঘটনায় শিল্পীদের আদালতে নেওয়া যন্ত্রণাদায়ক কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে শোনা যায়নি জুমার আজান বিচ্ছেদ হলে রোনালদোর সম্পদের কতটা যাবে জর্জিনার হাতে, ফাঁস ‘গোপন’ চুক্তির তথ্য ১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন জন্মদিনে বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম, ত্যাগ ও মানুষের ভালোবাসায় অমর এক জীবন

সরকারি চিকিৎসকের দরজায় নির্দেশনাটি কে লাগিয়েছে খোঁজা হচ্ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনও সম্বোধন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা একটি নির্দেশনাও টানানো হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।

নির্দেশনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনও চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

জরুরি বিভাগের দরজায় এমন নির্দেশনা লাগানোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির বিধিমালায়ও এমন কোনও নির্দেশনা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় লাগানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আজ আমার নজরে এসেছে। বিকালে আমি নিজে স্টাফদের মাধ্যমে সেটি ছিঁড়ে ফেলেছি। একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি মানবিক হবেন। রোগীদের সেবা দেওয়াই তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। স্যার ও ম্যাডাম—এভাবে বলতেই হবে, এমন নির্দেশনা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনা টানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা–সমালোচনা ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনাটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বেশির ভাগ মানুষই গ্রামের মানুষ। তাদের কেউ হতদরিদ্র, কেউ কম শিক্ষিত, আবার কেউ সহজ–সরল প্রকৃতির। আঞ্চলিক ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী তারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য থাকে না বলে তারা জানান।

তাদের মতে, চিকিৎসা নিতে এসে সম্বোধনের ধরন নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া রোগীদের জন্য অস্বস্তিকর।

সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। মহিলাগোরে আপা আর পুরুষদের ভাই বইল্যা ডাকি। এই হাসপাতালের ডাক্তাররারে ভাই বা আপা কইলে তারা চেইত্যা যায়। সেবা দেওনের বদলে উল্টা রাগারাগি করে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, কয়েক মাস আগে হাসপাতালে নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই কর্মচারী বলেন, ‘আমিও একবার এক নারী চিকিৎসককে “আপা” বলে সম্বোধন করেছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং পরে “ম্যাডাম” অথবা “স্যার” বলে সম্বোধন করতে বলেন।’

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই কয়েকজন চিকিৎসক জানান, এমন নির্দেশনার কারণে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে যেন নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়। তাদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কোন নারী চিকিৎসকের কারণে ওই নির্দেশনা লাগানো হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে নবীন কয়েকজন নারী ডাক্তার আছেন। তাদের মধ্য থেকে কারও কারণে এমন নির্দেশনা দরজায় লাগানো হয়েছে বলে শুনেছি। তবে নির্দিষ্ট কোনও ডাক্তার বা কোন নারী চিকিৎসকের কারণে এমন অদ্ভুত নির্দেশনা লাগানো হয়েছে, সেটি আমি খতিয়ে দেখছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। এটাই আমার দায়িত্ব। আমাকে কেউ “তুই” বলে সম্বোধন করলেও আমি কিছু মনে করি না। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টির বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবো। কোনও ডাক্তারকে স্যার ও ম্যাডাম বলে ডাকতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অবৈধ লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতের অধিকাংশই চুরি

সরকারি চিকিৎসকের দরজায় নির্দেশনাটি কে লাগিয়েছে খোঁজা হচ্ছে

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনও সম্বোধন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা একটি নির্দেশনাও টানানো হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।

নির্দেশনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনও চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

জরুরি বিভাগের দরজায় এমন নির্দেশনা লাগানোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির বিধিমালায়ও এমন কোনও নির্দেশনা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় লাগানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আজ আমার নজরে এসেছে। বিকালে আমি নিজে স্টাফদের মাধ্যমে সেটি ছিঁড়ে ফেলেছি। একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি মানবিক হবেন। রোগীদের সেবা দেওয়াই তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। স্যার ও ম্যাডাম—এভাবে বলতেই হবে, এমন নির্দেশনা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনা টানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা–সমালোচনা ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনাটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বেশির ভাগ মানুষই গ্রামের মানুষ। তাদের কেউ হতদরিদ্র, কেউ কম শিক্ষিত, আবার কেউ সহজ–সরল প্রকৃতির। আঞ্চলিক ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী তারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য থাকে না বলে তারা জানান।

তাদের মতে, চিকিৎসা নিতে এসে সম্বোধনের ধরন নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া রোগীদের জন্য অস্বস্তিকর।

সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। মহিলাগোরে আপা আর পুরুষদের ভাই বইল্যা ডাকি। এই হাসপাতালের ডাক্তাররারে ভাই বা আপা কইলে তারা চেইত্যা যায়। সেবা দেওনের বদলে উল্টা রাগারাগি করে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, কয়েক মাস আগে হাসপাতালে নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই কর্মচারী বলেন, ‘আমিও একবার এক নারী চিকিৎসককে “আপা” বলে সম্বোধন করেছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং পরে “ম্যাডাম” অথবা “স্যার” বলে সম্বোধন করতে বলেন।’

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই কয়েকজন চিকিৎসক জানান, এমন নির্দেশনার কারণে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে যেন নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়। তাদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কোন নারী চিকিৎসকের কারণে ওই নির্দেশনা লাগানো হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে নবীন কয়েকজন নারী ডাক্তার আছেন। তাদের মধ্য থেকে কারও কারণে এমন নির্দেশনা দরজায় লাগানো হয়েছে বলে শুনেছি। তবে নির্দিষ্ট কোনও ডাক্তার বা কোন নারী চিকিৎসকের কারণে এমন অদ্ভুত নির্দেশনা লাগানো হয়েছে, সেটি আমি খতিয়ে দেখছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। এটাই আমার দায়িত্ব। আমাকে কেউ “তুই” বলে সম্বোধন করলেও আমি কিছু মনে করি না। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টির বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবো। কোনও ডাক্তারকে স্যার ও ম্যাডাম বলে ডাকতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।’