ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকার যানজট নিরসনে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের আশ্বাস দিয়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর মন্ত্রিসভায় সোমবার ফাইল উঠলে বৃহস্পতিবারই গেজেট ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখ প্রকাশের পর কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি প্রত্যাহার বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম সবচেয়ে ভয়ংকর: প্রধানমন্ত্রী জনগণকে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ আইজিপির জলের বুকে লাল শাপলার নকশিকাঁথা শাড়িকাণ্ডের আরেক মামলায় তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ, নারাজি দেবেন বাদী

ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন পরীক্ষা, ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দ্বার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্ড কোম্পানি (এমএসডি) ও মডার্না। অস্ত্রোপচারের পর উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের একটি বিশেষ ভ্যাকসিনের সঙ্গে ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক

ফল পাওয়ার দাবি করেছে এই প্রতিষ্ঠান দুটি। ‘ইনটিসমেরান’ নামের এই ভ্যাকসিনটি প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। এ কারণে এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার ভ্যাকসিন’বলা হয়।

ভ্যাকসিনটি তৈরির জন্য প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের সামান্য অংশ সংগ্রহ করা হয়। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য বিশেষ এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে সাহায্য করে।

ফেজ-৩ পর্যায়ের এই গবেষণায় এক হাজারের বেশি উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগী অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের পর একদল রোগীকে শুধু কিট্রুডা (আধুনিক ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ) দেওয়া হয়, অন্যদলকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে নেওয়া রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে। তবে এই সুফল কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটি।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসার বিভাগের জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, নতুন এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. লেনার্ড লিও মনে করেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে রোগীর নিজের ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা করছে মডার্না ও এমএসডি। তবে চিকিৎসাটি সাধারণ রোগীদের জন্য চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গবেষণাটির আরও বিস্তারিত ফলাফল আগামী অক্টোবরে একটি মেডিকেল সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মডার্না ও এমএসডি নামক প্রতিষ্ঠান দুটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার যানজট নিরসনে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন পরীক্ষা, ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দ্বার

আপডেট টাইম : ১০:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্ড কোম্পানি (এমএসডি) ও মডার্না। অস্ত্রোপচারের পর উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের একটি বিশেষ ভ্যাকসিনের সঙ্গে ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক

ফল পাওয়ার দাবি করেছে এই প্রতিষ্ঠান দুটি। ‘ইনটিসমেরান’ নামের এই ভ্যাকসিনটি প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। এ কারণে এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার ভ্যাকসিন’বলা হয়।

ভ্যাকসিনটি তৈরির জন্য প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের সামান্য অংশ সংগ্রহ করা হয়। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীর জন্য বিশেষ এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে সাহায্য করে।

ফেজ-৩ পর্যায়ের এই গবেষণায় এক হাজারের বেশি উচ্চঝুঁকির মেলানোমা রোগী অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের পর একদল রোগীকে শুধু কিট্রুডা (আধুনিক ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ) দেওয়া হয়, অন্যদলকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে নেওয়া রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে। তবে এই সুফল কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটি।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসার বিভাগের জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, নতুন এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. লেনার্ড লিও মনে করেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে রোগীর নিজের ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা করছে মডার্না ও এমএসডি। তবে চিকিৎসাটি সাধারণ রোগীদের জন্য চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গবেষণাটির আরও বিস্তারিত ফলাফল আগামী অক্টোবরে একটি মেডিকেল সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মডার্না ও এমএসডি নামক প্রতিষ্ঠান দুটি।