ভোরের আলো ফোটার আগেই পদ্মা নদীর তীরে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। একের পর এক নৌকা ভিড়তে থাকে ঘাটে। নৌকা থেকে নামানো হয় ঝুড়ি আর ডালাভর্তি টাটকা ইলিশ। সকাল ছয়টা থেকে নয়টা- মাত্র তিন ঘণ্টার এই বাজারেই চলে জমজমাট বেচাকেনা। অল্প সময়েই লেনদেন হয় লাখ লাখ টাকার মাছ।
প্রায় শত বছরের পুরোনো শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরের এই মাছের ঘাটে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় নিলামের ডাক। একেকজন নিলামদার উচ্চস্বরে দর হাঁকেন, আর ক্রেতারা জানান নিজেদের প্রস্তাবিত দাম। মুহূর্তেই জমে ওঠে প্রাণবন্ত এক পরিবেশ। নিলাম পদ্ধতির কারণেই এই বাজার পেয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা কিনে নেন বড় সাইজের ইলিশসহ পছন্দের মাছ।
পদ্মার ইলিশই এই হাটের প্রধান আকর্ষণ। তবে নদীর বোয়াল, রুই, কাতলা, আইড়, বেলে-সহ নানা দেশীয় মাছের সমারোহও চোখে পড়ে এখানে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এখানকার মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
তবে, সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা সংকটও। আধুনিক অবকাঠামোর অভাব, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানির দুর্ভোগে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।
পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই সুরেশ্বর মাছের হাট পুরো এলাকার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। পরিকল্পিতভাবে আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকেই আরও বড় পরিসরে ইলিশ বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়েও পদ্মাপাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী হাটে প্রতিদিনই লেনদেন হয় লাখ-লাখ টাকার মাছ। পদ্মার ঢেউ আর মানুষের নিরলস পরিশ্রমে টিকে আছে শতবর্ষের এই মাছের বাজার।
Reporter Name 
























