ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমরাহ পালনে যত পুরস্কার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার
‘হজ’ আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ অভিপ্রায় বা সংকল্প করা, কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা করা। ওমরাহ অর্থ পরিদর্শন। হজের সময় ব্যতীত বছরের যেকোনো দিন ওমরাহ পালন করা যায়। ওমরাহ পালনের মধ্যে অনেক ফজিলত রয়েছে। একজন গুনাহগার বান্দা ওমরাহ পালনের মাধ্যমে জীবনের যাবতীয় গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে থাকেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহগুলোর কাফফারাস্বরূপ। কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই।’ (ইবনে মাজাহ : ২৮৮৮)
ওমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর দাওয়াতি মেহমান। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর পথে যুদ্ধে বিজয়ী, হজকারী ও ওমরাহকারী আল্লাহর মেহমান বা প্রতিনিধি।
আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আর তারা তাঁর কাছে যা চেয়েছেন তিনি তাদের তা দিয়েছেন’ (ইবনে মাজাহ : ২৮৯৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান বা প্রতিনিধি। তারা আল্লাহকে ডাকলে তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন। তারা তাঁর কাছে মাগফিরাত কামনা করলে তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২৮৯২)
ওমরাহ পালনের লক্ষ্য নিয়ে যারা বায়তুল্লাহর উদ্দেশে যাত্রা করবেন আল্লাহ তাদের প্রতি কদমে কদমে নেকি লিখে দেবেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি যখন বায়তুল্লাহর উদ্দেশে ঘর থেকে বের হবে, তোমার বাহনের প্রত্যেকবার মাটিতে পা রাখা এবং পা তোলার বিনিময়ে তোমার জন্য একটি করে নেকি লেখা হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করা হবে’ (তাবারানি : ১৩৫৬৬)।
ওমরাহ পালনের মাধ্যমে মানুষের অভাব-অনটন দূর হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ পরপর করতে থাকো, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন দূর করে দেয় কামারের হাপর লোহার ময়লাকে’ (নাসায়ি : ২৬৩১)।
বায়তুল্লাহর তওয়াফ মানুষকে পাপমুক্ত করে দেয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পঞ্চাশবার বায়তুল্লাহ তওয়াফ করবে সে তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মতো পাপমুক্ত হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি : ৮৬৬)
ওমরাহর সফরে মক্কা ও মদিনার অনেক ঐতিহাসিক স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। মক্কায় উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে– সাফা-মারওয়া পাহাড়, রাসুল (সা.)-এর বাড়ি, হজরত খাদিজা (রা.)-এর সমাধি, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, জাবলে সুর, জিন্দা কবর, মসজিদে মাশয়ারিল হারাম, জান্নাতুল মোয়াল্লাহ, মসজিদে আয়েশা (রা.), মসজিদে জিন, আরাফার ময়দান, মিনা, মসজিদে নামিরা, মসজিদে খাইফ, জামারাহ, মুজদালিফাসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য স্থান।
মদিনার উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে– রাসুল (সা.)-এর রওজা, মসজিদে নববী, রিয়াদুল জান্নাহ, উহুদের ময়দান, মসজিদে কুবা, মসজিদে কেবলাতাইন, বীরে আলি, জান্নাতুল বাকি, মসজিদে খন্দক, মসজিদে বেলাল, মসজিদে ইজাবা, মসজিদে গামামা, খেজুর বাগান, মসজিদে ওমরসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য স্থান।
এ ছাড়া জমজম কূপের পানি পানের মাধ্যমে ওমরাহ পালনকারীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করে থাকেন। অনেক অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতার নিয়তে জমজমের পানি পান করে থাকেন। বরকতময় জমজমের পানি পানের অনেক ফজিলত রয়েছে। মহান আল্লাহ সবাইকে ওমরাহ পালনের তওফিক দান করুক।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ পালনে যত পুরস্কার

আপডেট টাইম : ১২:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
‘হজ’ আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ অভিপ্রায় বা সংকল্প করা, কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা করা। ওমরাহ অর্থ পরিদর্শন। হজের সময় ব্যতীত বছরের যেকোনো দিন ওমরাহ পালন করা যায়। ওমরাহ পালনের মধ্যে অনেক ফজিলত রয়েছে। একজন গুনাহগার বান্দা ওমরাহ পালনের মাধ্যমে জীবনের যাবতীয় গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে থাকেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহগুলোর কাফফারাস্বরূপ। কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই।’ (ইবনে মাজাহ : ২৮৮৮)
ওমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর দাওয়াতি মেহমান। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর পথে যুদ্ধে বিজয়ী, হজকারী ও ওমরাহকারী আল্লাহর মেহমান বা প্রতিনিধি।
আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আর তারা তাঁর কাছে যা চেয়েছেন তিনি তাদের তা দিয়েছেন’ (ইবনে মাজাহ : ২৮৯৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান বা প্রতিনিধি। তারা আল্লাহকে ডাকলে তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন। তারা তাঁর কাছে মাগফিরাত কামনা করলে তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২৮৯২)
ওমরাহ পালনের লক্ষ্য নিয়ে যারা বায়তুল্লাহর উদ্দেশে যাত্রা করবেন আল্লাহ তাদের প্রতি কদমে কদমে নেকি লিখে দেবেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি যখন বায়তুল্লাহর উদ্দেশে ঘর থেকে বের হবে, তোমার বাহনের প্রত্যেকবার মাটিতে পা রাখা এবং পা তোলার বিনিময়ে তোমার জন্য একটি করে নেকি লেখা হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করা হবে’ (তাবারানি : ১৩৫৬৬)।
ওমরাহ পালনের মাধ্যমে মানুষের অভাব-অনটন দূর হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ পরপর করতে থাকো, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন দূর করে দেয় কামারের হাপর লোহার ময়লাকে’ (নাসায়ি : ২৬৩১)।
বায়তুল্লাহর তওয়াফ মানুষকে পাপমুক্ত করে দেয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পঞ্চাশবার বায়তুল্লাহ তওয়াফ করবে সে তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মতো পাপমুক্ত হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি : ৮৬৬)
ওমরাহর সফরে মক্কা ও মদিনার অনেক ঐতিহাসিক স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। মক্কায় উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে– সাফা-মারওয়া পাহাড়, রাসুল (সা.)-এর বাড়ি, হজরত খাদিজা (রা.)-এর সমাধি, জাবালে রহমত, জাবালে নুর, জাবলে সুর, জিন্দা কবর, মসজিদে মাশয়ারিল হারাম, জান্নাতুল মোয়াল্লাহ, মসজিদে আয়েশা (রা.), মসজিদে জিন, আরাফার ময়দান, মিনা, মসজিদে নামিরা, মসজিদে খাইফ, জামারাহ, মুজদালিফাসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য স্থান।
মদিনার উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে– রাসুল (সা.)-এর রওজা, মসজিদে নববী, রিয়াদুল জান্নাহ, উহুদের ময়দান, মসজিদে কুবা, মসজিদে কেবলাতাইন, বীরে আলি, জান্নাতুল বাকি, মসজিদে খন্দক, মসজিদে বেলাল, মসজিদে ইজাবা, মসজিদে গামামা, খেজুর বাগান, মসজিদে ওমরসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য স্থান।
এ ছাড়া জমজম কূপের পানি পানের মাধ্যমে ওমরাহ পালনকারীরা আত্মতৃপ্তি লাভ করে থাকেন। অনেক অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতার নিয়তে জমজমের পানি পান করে থাকেন। বরকতময় জমজমের পানি পানের অনেক ফজিলত রয়েছে। মহান আল্লাহ সবাইকে ওমরাহ পালনের তওফিক দান করুক।