ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশার নামাজের বিরতিসহ দুই নোটিশ খারিজ, যে কারণ জানালেন স্পিকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিন রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের উত্থাপিত দু’টি বিশেষ অধিকারের নোটিশ কার্যপ্রণালী বিধির আওতায় না থাকায় তা খারিজ করে দিয়েছেন স্পিকার। সংসদের ফ্লোর পাওয়ার সিরিয়াল নির্ধারণে স্টাফদের সহযোগিতা নেওয়া এবং এশার নামাজের বিরতি সংক্রান্ত পৃথক দু’টি নোটিশে রুলিং দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তার প্রথম নোটিশে উল্লেখ করে জানান, অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডার বা সম্পূরক প্রশ্ন করার জন্য অনেক সদস্য একসঙ্গে হাত তুললে স্পিকারের পক্ষে সবার সিরিয়াল মনে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানে সামনের টেবিলে দায়িত্বরত কোনও স্টাফ যদি কে আগে হাত তুললেন, সেই সিরিয়াল লিখে স্পিকারকে সহায়তা করেন, তবে সদস্যদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

এই প্রস্তাবের জবাবে স্পিকার সংসদকে জানান, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সংসদ পরিচালনায় সব ধরনের সহায়তা করে থাকেন। তবে কার্যপ্রণালী বিধির ৫৪(৩) বিধি অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় সম্পর্কে সরাসরি সংসদে প্রশ্ন তোলা বিধিসম্মত নয়। এ ধরনের কোনও পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মাধ্যমে স্পিকারকে জানানো যেতে পারে।

স্পিকার আরও বলেন, বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপনের সাফল্য নির্ভর করে সরাসরি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ওপর। তাই ১৬৪ বিধিতে এই নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অপরদিকে, সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় নোটিশটি ছিল সংসদে এশার নামাজের বিরতি দেওয়া প্রসঙ্গে। নোটিশে সদস্য দাবি করেন যে, জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হলেও এশার নামাজের ক্ষেত্রে কোনও বিরতি দেওয়া হচ্ছে না।

এর জবাবে স্পিকার সংসদকে জানান, সংসদের প্রচলিত রেওয়াজ ও ঐতিহ্য অনুসারে বৈঠক চলাকালীন কেবল আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এশার নামাজের জন্য সংসদে কখনোই বিরতি দেওয়ার প্রথা ছিল না। তবে সংসদ সদস্যরা এশার নামাজ পড়ে নিতে পারেন বলে জানান তিনি।

স্পিকার বলেন, অধিবেশন চলাকালীন কোনও সদস্য চাইলে এশার নামাজ পড়ে নিতে পারেন এবং এতে কোনও বাধা নেই। যেহেতু বিষয়টি সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের আওতায় পড়ে না, তাই ১৬৪ বিধিতে এই নোটিশটিও গ্রহণ করা গেলো না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এশার নামাজের বিরতিসহ দুই নোটিশ খারিজ, যে কারণ জানালেন স্পিকার

আপডেট টাইম : ১২:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিন রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের উত্থাপিত দু’টি বিশেষ অধিকারের নোটিশ কার্যপ্রণালী বিধির আওতায় না থাকায় তা খারিজ করে দিয়েছেন স্পিকার। সংসদের ফ্লোর পাওয়ার সিরিয়াল নির্ধারণে স্টাফদের সহযোগিতা নেওয়া এবং এশার নামাজের বিরতি সংক্রান্ত পৃথক দু’টি নোটিশে রুলিং দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তার প্রথম নোটিশে উল্লেখ করে জানান, অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডার বা সম্পূরক প্রশ্ন করার জন্য অনেক সদস্য একসঙ্গে হাত তুললে স্পিকারের পক্ষে সবার সিরিয়াল মনে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানে সামনের টেবিলে দায়িত্বরত কোনও স্টাফ যদি কে আগে হাত তুললেন, সেই সিরিয়াল লিখে স্পিকারকে সহায়তা করেন, তবে সদস্যদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

এই প্রস্তাবের জবাবে স্পিকার সংসদকে জানান, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সংসদ পরিচালনায় সব ধরনের সহায়তা করে থাকেন। তবে কার্যপ্রণালী বিধির ৫৪(৩) বিধি অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় সম্পর্কে সরাসরি সংসদে প্রশ্ন তোলা বিধিসম্মত নয়। এ ধরনের কোনও পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মাধ্যমে স্পিকারকে জানানো যেতে পারে।

স্পিকার আরও বলেন, বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপনের সাফল্য নির্ভর করে সরাসরি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ওপর। তাই ১৬৪ বিধিতে এই নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অপরদিকে, সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় নোটিশটি ছিল সংসদে এশার নামাজের বিরতি দেওয়া প্রসঙ্গে। নোটিশে সদস্য দাবি করেন যে, জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হলেও এশার নামাজের ক্ষেত্রে কোনও বিরতি দেওয়া হচ্ছে না।

এর জবাবে স্পিকার সংসদকে জানান, সংসদের প্রচলিত রেওয়াজ ও ঐতিহ্য অনুসারে বৈঠক চলাকালীন কেবল আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এশার নামাজের জন্য সংসদে কখনোই বিরতি দেওয়ার প্রথা ছিল না। তবে সংসদ সদস্যরা এশার নামাজ পড়ে নিতে পারেন বলে জানান তিনি।

স্পিকার বলেন, অধিবেশন চলাকালীন কোনও সদস্য চাইলে এশার নামাজ পড়ে নিতে পারেন এবং এতে কোনও বাধা নেই। যেহেতু বিষয়টি সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের আওতায় পড়ে না, তাই ১৬৪ বিধিতে এই নোটিশটিও গ্রহণ করা গেলো না।