ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তিতে কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭ বার

মেহেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে সরাসরি ডিলার পর্যায়ে ডিজেল সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ১৭টি ডিলার পয়েন্টে সরাসরি কৃষকদের হাতে তেল পৌঁছে দেওয়ায় সেচ কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে। যদিও ৫ লিটারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমে আসায় এবং সরাসরি সংগ্রহ নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সীমান্তঘেঁষা এই জেলার হাজারো চাষি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩-৪ দিন ধরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানি থেকে সীমিত পরিসরে বরাদ্দ নিয়ে ডিলাররা কৃষকদের হাতে ডিজেল তুলে দিচ্ছেন। আগে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও প্রভাবশালী ক্রেতাদের ভিড়ে কৃষকরা প্রাধান্য পেতেন না বলে অভিযোগ ছিল। ডিলার পয়েন্টগুলোতে এখন তুলনামূলক সহজেই তেল মেলায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা কেটেছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। দিনের পর দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। অন্যদিকে যানবাহনের মালিক ও প্রভাবশালী ক্রেতাদের কারণে কৃষকরা প্রাধান্য পেতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ফিলিং স্টেশনে লাইন দিয়েও তেল পাওয়া যেত না। অনেক সময় গাড়ির মালিকরা আগে তেল নিয়ে চলে যেত। এখন ডিলার পয়েন্টে এসে সহজেই তেল পাচ্ছি, এতে আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তেল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু আজ ডিলার পয়েন্ট থেকে খুব সহজেই তেল পেয়েছি। যদি পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকে, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে।

ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তিতে কৃষক

বর্তমানে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি সেচ ইঞ্জিনের জন্য ৫ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও এই পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম, তবুও কৃষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই মনে করছেন, সরবরাহ বাড়ানো গেলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে ডিলারদের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে। গাংনী উপজেলার বজলু স্টোরের স্বত্বাধিকারী ডিলার বজলু মিয়া জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি পর্যাপ্ত সরবরাহ পাই, তাহলে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জ্বালানি তেল মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, জেলায় ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি একটি প্যাকড পয়েন্ট ও ১৬ জন ডিলারের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি কার্যক্রম চালু রয়েছে। আমরা আশা করছি, গত বছরের মতো এবারও পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যাতে কোনো অসাধু চক্র বা মধ্যস্বত্বভোগী এই সুযোগে পরিস্থিতি জটিল করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তিতে কৃষক

আপডেট টাইম : ০৪:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে সরাসরি ডিলার পর্যায়ে ডিজেল সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ১৭টি ডিলার পয়েন্টে সরাসরি কৃষকদের হাতে তেল পৌঁছে দেওয়ায় সেচ কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে। যদিও ৫ লিটারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমে আসায় এবং সরাসরি সংগ্রহ নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সীমান্তঘেঁষা এই জেলার হাজারো চাষি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩-৪ দিন ধরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানি থেকে সীমিত পরিসরে বরাদ্দ নিয়ে ডিলাররা কৃষকদের হাতে ডিজেল তুলে দিচ্ছেন। আগে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও প্রভাবশালী ক্রেতাদের ভিড়ে কৃষকরা প্রাধান্য পেতেন না বলে অভিযোগ ছিল। ডিলার পয়েন্টগুলোতে এখন তুলনামূলক সহজেই তেল মেলায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা কেটেছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। দিনের পর দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। অন্যদিকে যানবাহনের মালিক ও প্রভাবশালী ক্রেতাদের কারণে কৃষকরা প্রাধান্য পেতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ফিলিং স্টেশনে লাইন দিয়েও তেল পাওয়া যেত না। অনেক সময় গাড়ির মালিকরা আগে তেল নিয়ে চলে যেত। এখন ডিলার পয়েন্টে এসে সহজেই তেল পাচ্ছি, এতে আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তেল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু আজ ডিলার পয়েন্ট থেকে খুব সহজেই তেল পেয়েছি। যদি পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকে, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে।

ডিলার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তিতে কৃষক

বর্তমানে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি সেচ ইঞ্জিনের জন্য ৫ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও এই পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম, তবুও কৃষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই মনে করছেন, সরবরাহ বাড়ানো গেলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে ডিলারদের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে। গাংনী উপজেলার বজলু স্টোরের স্বত্বাধিকারী ডিলার বজলু মিয়া জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি পর্যাপ্ত সরবরাহ পাই, তাহলে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও জ্বালানি তেল মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, জেলায় ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি একটি প্যাকড পয়েন্ট ও ১৬ জন ডিলারের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি কার্যক্রম চালু রয়েছে। আমরা আশা করছি, গত বছরের মতো এবারও পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যাতে কোনো অসাধু চক্র বা মধ্যস্বত্বভোগী এই সুযোগে পরিস্থিতি জটিল করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।