দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব এবং একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতের বেহাল বা ভয়াবহ দৈন্যদশা ফুটে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭৪ জনসহ মোট ২১১ শিশু মারা গেছে। দেশজুড়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৪৬৭ এবং নিশ্চিত হাম রোগী তিন হাজার ১৯২ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন মারা গেছে, যার মধ্যে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব। আক্রান্ত রোগীরা ঢাকার বাইরে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় সবাই রাজধানীমুখী। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে হামের চিকিৎসা নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। যদিও সরকারিভাবে বলা হচ্ছেÑ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে হামের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ম্যালেরিয়া মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৬ সালে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ম্যালেরিয়া মুক্ত ঘোষণার পরিকল্পনা আছে। ২০২৭ সালের মধ্যে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ম্যালেরিয়া রোগী প্রতি এক হাজারের মধ্যে ১-এর নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই সময়ে ম্যালেরিয়ায় বাণিজ্য সচিবের মৃত্যু দেশের স্বাস্থ্য খাতের গভীর সংকটকে নতুন করে উন্মোচন করেছে; যা বেশ কিছু দিন ধরে জমে উঠছিল। যদিও বাণিজ্য সচিব বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্স (এমসি১৪) ২৬-২৯ মার্চ ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যামেরুন থেকেই তিনি ম্যালেরিয়া-আক্রান্ত হন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার সম্মিলিত প্রতিফলন স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান দুরবস্থা। হঠাৎ করে এসব রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। যদিও এক্ষেত্রে সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের একটি মাত্র সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। আর তাতে ধস নেমেছে স্বাস্থ্য খাতে। দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাত এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে শুধু হাম বা ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার নয়; সামনে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আরো ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। শঙ্কা রয়েছে ডিপথেরিয়া, টিবি, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশির প্রাদুর্ভাবের। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। টিকা কার্যক্রমে ভাটা, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের বেতন বন্ধÑ সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। একই সঙ্গে ম্যালেরিয়া বা নতুন যেকোনো রোগ দেখা দিলে এ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে দেশের মানুষকে জানাতে হবে। দ্রুত পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, ওপি (অপারেশনাল প্ল্যান) বন্ধ করা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈজ্ঞানিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। যার নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান এবং ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ হতে পারে। এই থমকে যাওয়া খাতে গতি ফেরাতে এখন বর্তমান সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের মতে, ওপিতে পাঁচ বছর মেয়াদি খাতভিত্তিক ব্যাপক কর্মসূচি পরিচালিত হতো। প্রায় ৩৪-৩৫টি ওপি দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কাজ হতো। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ওপি বন্ধ করে দেয়। আর এতে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয় স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে দীর্ঘদিন থেকে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে প্রায়শই নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। রংপুরে এর আগে অ্যানথ্রাক্স, হাম-রুবেলার মতো রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এ থেকে উত্তরণে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ইতোমধ্যে চীন সরকারের অর্থায়নে ও উপহার হিসেবে রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার একটি অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতালটি উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে। এভাবে অন্যান্য শহরগুলোতে চীন বা অন্য কোনো দেশের সহায়তায় আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে দুটি জিনিস ছিল। একটি ছিল বাজেট, যেটি পাঁচ বছরের জন্য ছিল। কাজেই পাঁচ বছর ধরে কাজটি এগিয়ে নেয়া যেত। তাতে কাজের ধারাবাহিকতা থাকত এবং তার একটি ইমপ্যাক্ট থাকত, স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি ইমপ্যাক্ট। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বিরাজমান। তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য খাতে কিন্তু অনেকগুলো অর্জন রয়েছে। যেমন টিকায় বিশ্বের অন্যতম ভালো দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। বেশ কয়েকটা রোগ যেমনÑ শিশুদের ধনুষ্টংকার, পোলিও, কালাজ্বরসহ গোদ রোগ নির্মূল হয়েছে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন যেÑ একটি সিস্টেমের মাধ্যমে কত বিশাল অর্জন হয়েছে। সেই ওপি যখন বন্ধ করা হলো, তার বিকল্প কিন্তু কিছু করা হলো না।
প্রফেসর ডা. বে-নজির আহমেদ আরো বলেন, ২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার হলো, তাদের সময় ধরতে গেলে অর্থপ্রবাহ শূন্যের কাছে চলে আসে। সব মিলিয়ে আমাদের জনস্বাস্থ্য ভীষণ হুমকিতে পড়ে। একদিকে বাজেট ছিল না, অন্যদিকে টিকাদানকর্মী, স্বাস্থ্য-সহকারীদের বিভিন্ন আন্দোলন টিকা প্রয়োগকে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ওপি না থাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে উল্লেখ করে ডা. বে-নজির বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে আমরা হাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। কিন্তু গত এক বছর টিকা না দেয়ায় পরিস্থিতি কোন অবস্থায় গেল? এখান থেকে স্পষ্ট ওপি না থাকায়, জনস্বাস্থ্যবান্ধব কর্মসূচিগুলো না থাকায় আমাদের সামনে আরো অনেক ভোগান্তি আছে। ডিপথেরিয়ায়, টিবি, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশিÑ এ রকম প্রতিরোধযোগ্য যতগুলো রোগ আছে, সবগুলোর ঝুঁঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, মানুষের টিকা শুধু নয়; কুকুরের টিকাও দীর্ঘদিন দেয়া হচ্ছে না। এতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জলাতঙ্কে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে মৃত্যু হয় ১৯ জনের।
সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনার ভারতে পলায়নের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও গতি বাড়বে, কমবে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি। দায়িত্ব নেয়ার পর এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকারের দেড় বছরের পরিসংখ্যান মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বপ্নের ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। বাড়ছে অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা।
তথ্য মতে, আগে সরকারিভাবে টিকা কেনা হতো ইউনিসেফ থেকে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ইউনিসেফ এবং ৫০ শতাংশ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণে টিকা কেনায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব ধরনের টিকার সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট এখনো বিদ্যমান। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সবার পরিশ্রমে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, যে টিকাগুলো সরকারের কাছে থাকার কথা, সেগুলো গত ১৬ মার্চ থেকে শেষ হওয়া শুরু করেছে। এপ্রিলে পেন্টাভ্যাক্স এমএম; ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিংকাশি) এবং টিটেনাসসহ সবই মোটামুটি শেষ হওয়ার পথে। অবশ্য এই সংকটের সমাধানে সরকার নতুন করে টিকা কেনার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সরকার সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কিনতে তাদের কাছে টাকাও পাঠিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই টিকার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, ভেজাল খাদ্য গ্রহণ থেকে শুরু করে পারিপার্শ্বিক নানা কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এটি দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা। তিনি বলেন, বর্তমান টিকাকেন্দ্রিক সংকটই স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা নয়; ভেজাল ও খাদ্যাভ্যাসসহ অন্যান্য কারণে প্রতিদিনই ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, স্ট্রোক, হৃদরোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা বাড়ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের এই সংকট থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পৃথক বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রক্রিয়াধীন। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য খাতে সফল দেশগুলোর সহযোগিতা নিয়ে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলেন তিনি।
তবে যক্ষ্মা ও হামসহ দেশে কোনো টিকার ঘাটতি নেই উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো টিকার ঘাটতি নেই। সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ আছে। গ্রাম এলাকায় ও আমাদের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত বিনা বাধায় আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। তবে আগামী মাসে একটি জায়গায় আমাদের কিছু ঘাটতি দেখা দিতে পারে, সেটি হলোÑ দশমিক শূন্য ৫ সিরিঞ্জ। সে ঘাটতি পূরণ করতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এটি পাইপলাইনে আছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে আমরা সিরিঞ্জের এ ঘাটতিও পূরণ করতে পারব। ইউনিসেফের মাধ্যমে আমরা আংশিক সিরিঞ্জ আগামী সাত দিনের মধ্যে নিয়ে নেবো। আর বাকিগুলো মে মাসের মধ্যে তারা আমাদের সরবরাহ করবে। দেশে চলমান টিকা কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের সহায়তায় দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছি। আগামী ২০ এপ্রিল বৃহৎ পরিসরে শুরু হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত রাজধানী ঢাকা-নির্ভর। হামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হামের রোগী নিয়ে ঢাকায় আসায় ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর কিছুটা চাপ পড়েছে। এই সমস্যা সমাধানে আমরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু করেছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাম-শহরের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূরীকরণে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. কবিরুল বাশার বলেছেন, বাণিজ্য সচিব মশাবাহিত ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু একটি দুঃখজনক সংবাদ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মশার ওপর যে নজরদারি (সার্ভিলেন্স) চালানো হচ্ছে, তাতে ম্যালেরিয়া বহনকারী এনোফিলিস মশার প্রায় ছয়টি প্রজাতি পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহের গবেষণাতেও ঢাকাতে এনোফিলিস মশার ভালো উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে ঢাকার উত্তরা এলাকায় এই মশার ঘনত্ব সবচাইতে বেশি দেখা গেছে। পৃথিবীর অনেক বড় শহরেই ‘আরবান ম্যালেরিয়া’র নজির আছে, তাই ঢাকাও এর বাইরে নয়। তবে বাণিজ্য সচিবের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। সেখান থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা বা সন্দেহ করছি। তবে বাংলাদেশে যেহেতু ঢাকা শহরে এনোফিলিস মশার অস্তিত্ব আছে, আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বাইরে থেকে এলে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তাই এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ম্যালেরিয়া বহনকারী মশার ক্ষমতা এবং তাদের সংক্রমণের হার নিয়ে আরো গভীর গবেষণা প্রয়োজন। একই সাথে আগাম প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ড. কবিরুল বাশার।
Reporter Name 
























