ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার
বৈশাখের শুরুতেই বাড়তে শুরু করে গরমের তীব্রতা। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত হাওয়ায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে অসহনীয় গরমের তীব্রতা। গরম ও অস্বস্তিতে রাস্তায় চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজন একটু শীতলতার খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠছে। কেউ কেউ হাতে, মুখে মাথায় ও শরীরে পানি ছিটিয়ে একটু স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিফতরের তথ্যমতে, রাজধানীতে গরম বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে গরমের অনুভূতিও। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী ও রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও আরও দুটি জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি বা এর চেয়ে বেশি। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৫ ও কুষ্টিয়ায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুক্রবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী কয়েকদিন সারা দেশে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, টানা চার দিন তাপপ্রবাহ চলার পর গত বৃহস্পতিবার তা কমে যায়। তবে শুক্রবার আবারও গরম বেড়েছে। এছাড়াও অন্তত চার জেলায় এদিন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি ছিল। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে, তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। কিন্তু আবহাওয়া অধিদফতর তাপপ্রবাহ ঘোষণা করছে না।
চার জেলায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকার পরও কেন তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হচ্ছে না, এর জবাবে অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, অন্তত ৪৮ ঘণ্টা টানা তাপপ্রবাহ না বয়ে গেলে তা ঘোষণা করা হয় না। বৃহস্পতিবারও তাপপ্রবাহ ছিল না। আবার শনিবার তাপপ্রবাহ নাও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমে পরদিন থেকে তা আবার বাড়তে পারে। তাই তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হচ্ছে না।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায়।
শনিবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনও বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
রোববারের আবহাওয়াও প্রায় একই রকম থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন হবে না।
সোমবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা উত্তপ্ত হতে শুরু করবে। এ দিন ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে এ দিনও তাপমাত্রা আরও সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সংকেত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত অবস্থায় জানানো হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি

আপডেট টাইম : ০১:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখের শুরুতেই বাড়তে শুরু করে গরমের তীব্রতা। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত হাওয়ায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে অসহনীয় গরমের তীব্রতা। গরম ও অস্বস্তিতে রাস্তায় চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজন একটু শীতলতার খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠছে। কেউ কেউ হাতে, মুখে মাথায় ও শরীরে পানি ছিটিয়ে একটু স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিফতরের তথ্যমতে, রাজধানীতে গরম বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে গরমের অনুভূতিও। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী ও রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও আরও দুটি জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি বা এর চেয়ে বেশি। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৫ ও কুষ্টিয়ায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুক্রবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী কয়েকদিন সারা দেশে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, টানা চার দিন তাপপ্রবাহ চলার পর গত বৃহস্পতিবার তা কমে যায়। তবে শুক্রবার আবারও গরম বেড়েছে। এছাড়াও অন্তত চার জেলায় এদিন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি ছিল। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে, তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। কিন্তু আবহাওয়া অধিদফতর তাপপ্রবাহ ঘোষণা করছে না।
চার জেলায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকার পরও কেন তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হচ্ছে না, এর জবাবে অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, অন্তত ৪৮ ঘণ্টা টানা তাপপ্রবাহ না বয়ে গেলে তা ঘোষণা করা হয় না। বৃহস্পতিবারও তাপপ্রবাহ ছিল না। আবার শনিবার তাপপ্রবাহ নাও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমে পরদিন থেকে তা আবার বাড়তে পারে। তাই তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হচ্ছে না।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায়।
শনিবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনও বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
রোববারের আবহাওয়াও প্রায় একই রকম থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন হবে না।
সোমবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা উত্তপ্ত হতে শুরু করবে। এ দিন ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে এ দিনও তাপমাত্রা আরও সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সংকেত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত অবস্থায় জানানো হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।