ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সংসদ সচিবালয় কমিশন গঠন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল ইরান; পরমুহূর্তেই ইসরায়েলে অপ্রতিরোধ্য ক্লাস্টার বোমা হামলা, চাকুরীচ্যুত হল মার্কিন সেনাপ্রধান ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে সাহায্যের ধুম ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় ডুবল ধান, হাওরে কৃষকের কান্না

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) স্বল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম প্রায় এক দশকের নিবিড় গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এই প্রিমিয়াম মানের ধানের জাতটি উদ্ভাবন করেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি ধানের জাতসহ মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৫টি। যা বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো: রনি ইসলাম গবেষকদের বরাত দিয়ে জানান, বাংলাদেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। তবে ‘জিএইউ ধান ৪’ তার ব্যতিক্রম। এ জাতটি দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা অল্প সময়েই জমি খালি করতে পারেন এবং সহজেই একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পান। ফলে এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। একইসাথে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে আউশ মৌসুমে এ জাতটি চাষযোগ্য এবং তুলনামূলক কম পানির প্রয়োজন হওয়ায় ধান নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গবেষকরা জানান, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশে চিকন চালের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে গবেষকদ্বয় প্রচলিত আউশ ধানের জাত পারিজা’র সাথে উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান ২’ এর সঙ্করায়ন করেন। সেই সঙ্করায়নের মধ্য থেকে বহু গবেষণাধর্মী নির্বাচনের মাধ্যমে জিএইউ-৯৯৭৪-৫২-৭-২ লাইনটি কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। প্রায় দশ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে নিবিড় পরীক্ষার মাধ্যমে লাইনটি ধারাবাহিকভাবে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেয়।

তারা আরও জানান, ২০২২ সালের আউশ মৌসুমে এর আঞ্চলিক অভিযোজন পরীক্ষা, ২০২৩ সালে আঞ্চলিক উপযোগিতা যাচাই এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ১০টি অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়। সব পরীক্ষায় স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত হওয়ায় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান ৪’ নামের এ জাতটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হয়।

পুষ্টিগুণে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ এ ধানের চালে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ, যা শর্করা জাতীয় খাদ্য সহজে ভেঙে শক্তি সরবরাহ ও হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। একইসাথে এতে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ, যা মানবদেহের গঠন, বৃদ্ধি ও কোষ মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এটি শুধু উৎপাদনশীলই নয়, পুষ্টিমানেও সমৃদ্ধ একটি ধানের জাত।

‘জিএইউ ধান ৪’-এর দানা লম্বা ও চিকন এবং এটি তুলনামূলক কম সময়ে পরিপক্ব হয়। সাধারণত বীজ বপনের তিন মাস থেকে তিন মাস ১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। পুষ্ট ১০০০ ধানের ওজন প্রায় ২০ গ্রাম এবং অনুকূল পরিবেশে সহজেই হেক্টর প্রতি পাঁচ থেকে পাঁচ দশমিক পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এ জাতের ধান চাষে প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও সুবিধাজনক।

উন্নত এ জাতটি বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধক হবার কারণে সাধারণ জাতের তুলনায় এটি গড়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম, যা বাংলাদেশের মতো কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম। এছাড়া জলবায়ু সহনশীল হওয়ায় এটি দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে চাষের জন্য উপযোগী ও লাভজনক একটি জাত।

এক্ষেত্রে বেলে দো-আঁশ বা এটেল দো-আঁশ মাটি এ জাতের চাষের জন্য ভালো। ‘জিএইউ ধান ৪’-এর জন্য বীজতলায় বীজ ফেলার উপযুক্ত সময় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ। এক্ষেত্রে কাদা জমিতে এর চারা রোপণ করতে হয় এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সে.মি এবং গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫ সে.মি বজায় রাখা উত্তম।

এ প্রসঙ্গে ‘জিএইউ ধান ৪’-এর অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো: মসিউল ইসলাম বলেন, ‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষকদের জন্য এমন একটি আউশ ধানের জাত তৈরি করা, যা স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেবে, একইসাথে হবে চিকন ও বাজারজাতযোগ্য। এ জাতটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অসামান্য অর্জনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান গবেষকদ্বয়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সবসময়ই কৃষকের কল্যাণ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হয়। ‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবন আমাদের গবেষকদের অধ্যবসায়, মেধা ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই জাতটি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন

আপডেট টাইম : ১১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) স্বল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম প্রায় এক দশকের নিবিড় গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এই প্রিমিয়াম মানের ধানের জাতটি উদ্ভাবন করেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি ধানের জাতসহ মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৫টি। যা বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো: রনি ইসলাম গবেষকদের বরাত দিয়ে জানান, বাংলাদেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। তবে ‘জিএইউ ধান ৪’ তার ব্যতিক্রম। এ জাতটি দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা অল্প সময়েই জমি খালি করতে পারেন এবং সহজেই একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পান। ফলে এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। একইসাথে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে আউশ মৌসুমে এ জাতটি চাষযোগ্য এবং তুলনামূলক কম পানির প্রয়োজন হওয়ায় ধান নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গবেষকরা জানান, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশে চিকন চালের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে গবেষকদ্বয় প্রচলিত আউশ ধানের জাত পারিজা’র সাথে উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান ২’ এর সঙ্করায়ন করেন। সেই সঙ্করায়নের মধ্য থেকে বহু গবেষণাধর্মী নির্বাচনের মাধ্যমে জিএইউ-৯৯৭৪-৫২-৭-২ লাইনটি কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। প্রায় দশ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে নিবিড় পরীক্ষার মাধ্যমে লাইনটি ধারাবাহিকভাবে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেয়।

তারা আরও জানান, ২০২২ সালের আউশ মৌসুমে এর আঞ্চলিক অভিযোজন পরীক্ষা, ২০২৩ সালে আঞ্চলিক উপযোগিতা যাচাই এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ বীজ প্রত্যয়ন অ্যাজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ১০টি অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়। সব পরীক্ষায় স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত হওয়ায় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান ৪’ নামের এ জাতটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হয়।

পুষ্টিগুণে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ এ ধানের চালে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ, যা শর্করা জাতীয় খাদ্য সহজে ভেঙে শক্তি সরবরাহ ও হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। একইসাথে এতে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ, যা মানবদেহের গঠন, বৃদ্ধি ও কোষ মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এটি শুধু উৎপাদনশীলই নয়, পুষ্টিমানেও সমৃদ্ধ একটি ধানের জাত।

‘জিএইউ ধান ৪’-এর দানা লম্বা ও চিকন এবং এটি তুলনামূলক কম সময়ে পরিপক্ব হয়। সাধারণত বীজ বপনের তিন মাস থেকে তিন মাস ১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। পুষ্ট ১০০০ ধানের ওজন প্রায় ২০ গ্রাম এবং অনুকূল পরিবেশে সহজেই হেক্টর প্রতি পাঁচ থেকে পাঁচ দশমিক পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এ জাতের ধান চাষে প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও সুবিধাজনক।

উন্নত এ জাতটি বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধক হবার কারণে সাধারণ জাতের তুলনায় এটি গড়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম, যা বাংলাদেশের মতো কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম। এছাড়া জলবায়ু সহনশীল হওয়ায় এটি দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে চাষের জন্য উপযোগী ও লাভজনক একটি জাত।

এক্ষেত্রে বেলে দো-আঁশ বা এটেল দো-আঁশ মাটি এ জাতের চাষের জন্য ভালো। ‘জিএইউ ধান ৪’-এর জন্য বীজতলায় বীজ ফেলার উপযুক্ত সময় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ। এক্ষেত্রে কাদা জমিতে এর চারা রোপণ করতে হয় এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সে.মি এবং গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫ সে.মি বজায় রাখা উত্তম।

এ প্রসঙ্গে ‘জিএইউ ধান ৪’-এর অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো: মসিউল ইসলাম বলেন, ‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষকদের জন্য এমন একটি আউশ ধানের জাত তৈরি করা, যা স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেবে, একইসাথে হবে চিকন ও বাজারজাতযোগ্য। এ জাতটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অসামান্য অর্জনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান গবেষকদ্বয়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সবসময়ই কৃষকের কল্যাণ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হয়। ‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবন আমাদের গবেষকদের অধ্যবসায়, মেধা ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই জাতটি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’