আমরা সারা দিন যাই করি না কেন, শরীর তাতে ক্যালরি খরচ করে। যতবেশি পরিশ্রম, ক্যালরি বার্নও ততবেশি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় অনেকের শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্যালরি খরচ হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ওজন, দেখা দেয় স্থূলতা। বর্তমানে এটি শুধু একটি সাধারণ সমস্যা নয়, বরং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে ক্যালরির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। অর্থাৎ আপনি যত ক্যালরি গ্রহণ করছেন, তার একটি বড় অংশ শরীরকে বার্ন করতে হবে। যদি খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করা হয় এবং তা খরচ না হয়, তা হলে শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে। তবে বাস্তবতা হলো, সময়ের অভাব বা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে জীবনযাপনে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে সহজেই ক্যালরি বার্ন বাড়ানো সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শরীর শুধু ব্যায়ামের সময়ই নয়, ঘুমের মধ্যেও ক্যালরি পোড়ায়। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো স্বাভাবিক কাজেও শক্তি ব্যয় হয়। এই স্বাভাবিক শক্তি খরচের হারকে বলা হয় বেসাল মেটাবলিক রেট বা বিএমআর। এই হার ঠিক রাখাই সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খুব কম ক্যালরি খরচ হলে যেমন ওজন বাড়ে, তেমনি প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
তাই যারা জিমে যাওয়ার সুযোগ পান না বা আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করতে পারেন না, তাদের জন্য কিছু সহজ উপায় কার্যকর হতে পারে।
প্রথমত হাঁটাচলা বাড়ানো অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে সহজেই ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালরি পর্যন্ত বার্ন করা সম্ভব। এটি হতে পারে বাড়ির বারান্দায়, ছাদে কিংবা আশপাশের খোলা জায়গায়। বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই এই অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।
দ্বিতীয়ত ফোনে কথা বলার সময় বসে না থেকে দাঁড়িয়ে বা হেঁটে কথা বলার অভ্যাস করুন। অনেকেই দীর্ঘ সময় ফোনে কাটান। এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করলে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন হয়।
তৃতীয়ত লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়। প্রতিদিন কয়েকবার সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করলে অল্প সময়েই ভালো পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র দুই মিনিট সিঁড়ি ভাঙলে প্রায় ২৫ ক্যালরি পর্যন্ত বার্ন হতে পারে।
চতুর্থত পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। অনেকেই ভাবেন, শুধু ব্যায়াম করলেই ওজন কমবে। কিন্তু ঘুমের অভাব মেটাবলিজমকে ধীর করে দেয় এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের ক্যালরি ব্যবস্থাপনাকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে।
পঞ্চমত চুইংগাম চিবানোর মতো ছোট অভ্যাসও কিছুটা ক্যালরি বার্নে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি অযথা খাওয়ার প্রবণতা কমাতেও সাহায্য করে।
এ ছাড়া খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ফাইবারসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত সূর্যের আলো গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করা যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সুস্থ থাকতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট সচেতনতা ও অভ্যাসই পারে ক্যালরি বার্ন বাড়াতে এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি এসব সহজ উপায় মেনে চললে শরীর থাকবে ফিট, মনও থাকবে সতেজ।
Reporter Name 
























