ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সিএনজি সিন্ডিকেটের কবলে আজমিরীগঞ্জ–হবিগঞ্জ সড়ক, নীরব প্রশাসন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ২৮ বার

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ সড়কে যেন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছে। নির্ধারিত ভাড়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিএনজি চালকদের একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে—আর এই অনিয়মের বোঝা টানতে হচ্ছে অসহায় সাধারণ যাত্রীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা নির্ধারিত, সেখানে যাত্রী বেশি হলেই হঠাৎ করেই তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়া দিতে চান, তাকে গাড়িতে উঠতেই দেওয়া হয় না। যেন আইন নয়, চালকদের ইচ্ছাই এখানে শেষ কথা।

প্রশ্ন উঠেছে—এই অতিরিক্ত ভাড়ার পেছনে কারা? কার ছত্রছায়ায় এমন প্রকাশ্য অনিয়ম দিনের পর দিন চলতে পারে? এটি কি শুধুই কিছু চালকের স্বেচ্ছাচারিতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো শক্তিশালী ‘দুর্নীতির সন্তান’?

ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, এটি আর শুধু ভাড়া বাড়ানোর বিষয় নয়—এটি সাধারণ মানুষের ওপর পরিকল্পিত জুলুম। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াত করা শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের যাত্রীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছেন না।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রশাসন কি এই অনিয়ম দেখছে না, নাকি দেখেও দেখছে না? যদি দেখে, তবে কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, “এই ভাড়ার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির শেষ হবে না।”

এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি সত্যিই এই ‘দুর্নীতির সন্তানের’ খোঁজে নামবে, নাকি যাত্রীদের আর্তনাদই থেকে যাবে অন্ধকারে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন

সিএনজি সিন্ডিকেটের কবলে আজমিরীগঞ্জ–হবিগঞ্জ সড়ক, নীরব প্রশাসন

আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ সড়কে যেন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছে। নির্ধারিত ভাড়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিএনজি চালকদের একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে—আর এই অনিয়মের বোঝা টানতে হচ্ছে অসহায় সাধারণ যাত্রীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা নির্ধারিত, সেখানে যাত্রী বেশি হলেই হঠাৎ করেই তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়া দিতে চান, তাকে গাড়িতে উঠতেই দেওয়া হয় না। যেন আইন নয়, চালকদের ইচ্ছাই এখানে শেষ কথা।

প্রশ্ন উঠেছে—এই অতিরিক্ত ভাড়ার পেছনে কারা? কার ছত্রছায়ায় এমন প্রকাশ্য অনিয়ম দিনের পর দিন চলতে পারে? এটি কি শুধুই কিছু চালকের স্বেচ্ছাচারিতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো শক্তিশালী ‘দুর্নীতির সন্তান’?

ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, এটি আর শুধু ভাড়া বাড়ানোর বিষয় নয়—এটি সাধারণ মানুষের ওপর পরিকল্পিত জুলুম। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াত করা শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের যাত্রীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছেন না।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রশাসন কি এই অনিয়ম দেখছে না, নাকি দেখেও দেখছে না? যদি দেখে, তবে কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, “এই ভাড়ার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির শেষ হবে না।”

এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি সত্যিই এই ‘দুর্নীতির সন্তানের’ খোঁজে নামবে, নাকি যাত্রীদের আর্তনাদই থেকে যাবে অন্ধকারে?