ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সিএনজি সিন্ডিকেটের কবলে আজমিরীগঞ্জ–হবিগঞ্জ সড়ক, নীরব প্রশাসন মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রবীণ অভিজ্ঞতা বনাম নবীনের চ্যালেঞ্জে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠ আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’, যে সুবিধা পাবেন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা বিকেলে, বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে যেসব সুবিধা মেলানিয়া ট্রাম্পের সম্মেলনের সমাপনীতে ডা. জুবাইদা রহমান আগামী মাসে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল পল্লবীতে আলোচিত যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় দুই ‘শুটার’ গ্রেফতার : র‍্যাব কী মধু রশীদ মিয়াতে ইরানের হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় ১৩ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে: নিউইয়র্ক

মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রবীণ অভিজ্ঞতা বনাম নবীনের চ্যালেঞ্জে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার

Oplus_16908288

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় গ্রাম থেকে বাজার—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা। প্রবীণ ও নবীন—দুই ধারার প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক সমীকরণ।

৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। তার রাজনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করেই অতীতে নির্বাচনের চিত্র নির্ধারিত হতো বলে স্থানীয়দের অভিমত। ফলে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে সাহস পেতেন না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই প্রভাব কিছুটা কমে আসায় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহ বেড়েছে বিভিন্ন মহলে।
এবারের নির্বাচনে প্রবীণ রাজনীতিক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বুলবুলের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর এই অভিজ্ঞ নেতা মিঠামইন শাখার সাবেক সভাপতি এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে সুপরিচিত। অতীতের একাধিক নির্বাচনে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি। তবুও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও সক্রিয়তার কারণে তিনি এখনও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রবীণ বামপন্থী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে তার সমর্থকদের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৯৮৩ সালে স্থানীয় নির্বাচনে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির বড় ভাইকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

নবীন প্রার্থীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। কিশোরগঞ্জ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ও জেলা জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট আবু সায়েম মজুমদার ইতোমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মুখ হলেও এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীরও প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর সিনিয়র নেতা মাওলানা শেরজাহান মোমেনীর সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে প্রবীণ অভিজ্ঞতা ও নবীন উদ্যমের লড়াইয়ে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী থাকবেন এবং ভোটারদের আস্থা কে অর্জন করবেন—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ স্থানীয়দের মধ্যে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনজি সিন্ডিকেটের কবলে আজমিরীগঞ্জ–হবিগঞ্জ সড়ক, নীরব প্রশাসন

মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রবীণ অভিজ্ঞতা বনাম নবীনের চ্যালেঞ্জে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠ

আপডেট টাইম : ০৯:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় গ্রাম থেকে বাজার—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা। প্রবীণ ও নবীন—দুই ধারার প্রার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক সমীকরণ।

৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। তার রাজনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করেই অতীতে নির্বাচনের চিত্র নির্ধারিত হতো বলে স্থানীয়দের অভিমত। ফলে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে সাহস পেতেন না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই প্রভাব কিছুটা কমে আসায় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহ বেড়েছে বিভিন্ন মহলে।
এবারের নির্বাচনে প্রবীণ রাজনীতিক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বুলবুলের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর এই অভিজ্ঞ নেতা মিঠামইন শাখার সাবেক সভাপতি এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে সুপরিচিত। অতীতের একাধিক নির্বাচনে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি। তবুও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও সক্রিয়তার কারণে তিনি এখনও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রবীণ বামপন্থী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে তার সমর্থকদের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৯৮৩ সালে স্থানীয় নির্বাচনে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির বড় ভাইকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

নবীন প্রার্থীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। কিশোরগঞ্জ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ও জেলা জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট আবু সায়েম মজুমদার ইতোমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মুখ হলেও এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীরও প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর সিনিয়র নেতা মাওলানা শেরজাহান মোমেনীর সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে প্রবীণ অভিজ্ঞতা ও নবীন উদ্যমের লড়াইয়ে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী থাকবেন এবং ভোটারদের আস্থা কে অর্জন করবেন—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ স্থানীয়দের মধ্যে।