ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঢাবির ডিন থেকে বাউবির উপাচার্য হচ্ছেন ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখছে সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক নূরুর ইন্তেকাল শাসক হিসেবে নয় জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ঈদের ছুটিতে মেট্রো রেলে উপচে পড়া ভিড় ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারা কঠিন পরিস্থিতিতেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ইরান যুদ্ধ যেভাবে ইংল্যান্ডে বলের সংকট তৈরি করল মসজিদের আজান শুনে আসে সাপ, শেষ হলেই অদৃশ্য পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আছে ভিজিটিং কার্ডও, অথচ সব ভুয়া

মসজিদের আজান শুনে আসে সাপ, শেষ হলেই অদৃশ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি মসজিদকে ঘিরে এক রহস্য তৈরি হয়েছে। মসজিদটিতে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো, আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিকে ঘিরে  নানা রহস্য আর জল্পনা কল্পনা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় গভীর রাতে বা ফজরের আগে শোনা যায় ওজুর পানির শব্দ যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এ ঘটনা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আলীম ফজল জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।

তবে ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির ডিন থেকে বাউবির উপাচার্য হচ্ছেন ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখছে সরকার

মসজিদের আজান শুনে আসে সাপ, শেষ হলেই অদৃশ্য

আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি মসজিদকে ঘিরে এক রহস্য তৈরি হয়েছে। মসজিদটিতে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো, আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিকে ঘিরে  নানা রহস্য আর জল্পনা কল্পনা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় গভীর রাতে বা ফজরের আগে শোনা যায় ওজুর পানির শব্দ যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এ ঘটনা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আলীম ফজল জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।

তবে ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।