ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কানায় কানায় পূর্ণ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও সাক্ষী হলো ঈদের উচ্ছ্বাস ও ভক্তির। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তবে সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় মুসল্লিদের ঢল। রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আগেই উপস্থিত হন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।

এবারের ঈদ জামাতকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন নোয়াখালীর সেনবাগের দেলোয়ার হোসেন। চার বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে তিনি একাই শোলাকিয়ায় আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন বোন জামাই মোস্তফা ও ছেলে আইয়ান হোসেন শাহীন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সেহরি খেয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ যাত্রা শেষে তারা কিশোরগঞ্জে পৌঁছে প্রথমে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেন এবং বর্তমানে অবস্থান করছেন ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত মসজিদ বাগে জান্নাতে। সেখানেই তারা রাত্রিযাপন করে ঈদের জামাতে অংশ নেন।

দেলোয়ার বলেন, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। চার বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে কথা দিয়েছিলাম শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়ব। তারা না এলেও আমি আমার কথা রেখেছি। তার সঙ্গে থাকা মোস্তফা জানান, শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা এবং পাগলা মসজিদে জুমার নামাজ— দুটিই তাদের জন্য দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারোভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ এক ঈদের মোনাজাতে মুসল্লিদের সমাগমকে ‘সোয়া লাখ’ বলে উল্লেখ করেন। সেখান থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

অন্য একটি মতে, এক ঈদ জামাতে প্রায় সোয়া লাখ (১ লাখ ২৫ হাজার) মুসল্লির উপস্থিতির পর এই নামটি প্রচলিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াক্‌ফ করেন। বর্তমানে মাঠটি ৭ একর জায়গার উপর অবস্থিত।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কখনো ভাটা পড়েনি।

ঐতিহাসিক ও জনসমাগমের দিক থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই ঈদগাহ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়। ১৯৯তম জামাত ঘিরে এবারও সেই ঐতিহ্য, আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা গেল শোলাকিয়ায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কানায় কানায় পূর্ণ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

আপডেট টাইম : ০৯:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও সাক্ষী হলো ঈদের উচ্ছ্বাস ও ভক্তির। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তবে সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় মুসল্লিদের ঢল। রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আগেই উপস্থিত হন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।

এবারের ঈদ জামাতকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন নোয়াখালীর সেনবাগের দেলোয়ার হোসেন। চার বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে তিনি একাই শোলাকিয়ায় আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন বোন জামাই মোস্তফা ও ছেলে আইয়ান হোসেন শাহীন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সেহরি খেয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ যাত্রা শেষে তারা কিশোরগঞ্জে পৌঁছে প্রথমে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেন এবং বর্তমানে অবস্থান করছেন ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত মসজিদ বাগে জান্নাতে। সেখানেই তারা রাত্রিযাপন করে ঈদের জামাতে অংশ নেন।

দেলোয়ার বলেন, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। চার বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে কথা দিয়েছিলাম শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়ব। তারা না এলেও আমি আমার কথা রেখেছি। তার সঙ্গে থাকা মোস্তফা জানান, শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা এবং পাগলা মসজিদে জুমার নামাজ— দুটিই তাদের জন্য দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারোভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ এক ঈদের মোনাজাতে মুসল্লিদের সমাগমকে ‘সোয়া লাখ’ বলে উল্লেখ করেন। সেখান থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

অন্য একটি মতে, এক ঈদ জামাতে প্রায় সোয়া লাখ (১ লাখ ২৫ হাজার) মুসল্লির উপস্থিতির পর এই নামটি প্রচলিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াক্‌ফ করেন। বর্তমানে মাঠটি ৭ একর জায়গার উপর অবস্থিত।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কখনো ভাটা পড়েনি।

ঐতিহাসিক ও জনসমাগমের দিক থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই ঈদগাহ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়। ১৯৯তম জামাত ঘিরে এবারও সেই ঐতিহ্য, আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা গেল শোলাকিয়ায়।