ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনিকা কবির ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার

রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধর ও হয়রানির অভিযোগে রুশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি নোটিশের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেটিজেনরা দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

গত ১০ মার্চ গুলশান-২ এলাকার রয়্যাল ব্লু প্লাজার সামনে টিকটক ভিডিও ধারণের সময় এক বৃদ্ধ পথচারীর সঙ্গে মনিকা কবিরের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধের ব্যাগের কোনা মনিকার গায়ে লাগায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আঘাত করছেন এবং ব্যাগ ছুড়ে ফেলছেন।

এ ঘটনায় ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং তার বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা ও ওয়ার্ক পারমিট সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো উত্তাপ ছড়িয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, একজন বিদেশি নাগরিক হয়ে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা এবং একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, ভিউ এবং জনপ্রিয়তার লোভে ইনফ্লুয়েন্সারদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কাম্য নয়।

অন্যদিকে, নেটিজেনদের একটি বড় অংশ এই আইনি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মনিকা কবিরের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে যে তীব্র সাইবার বুলিং ও নারীবিদ্বেষী আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তা অনভিপ্রেত। সমালোচকদের মতে, দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক মডেল বা তারকা খোলামেলা পোশাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা সামাজিক ঘৃণা ছড়াতে দেখা যায় না। এভাবে ‘বেছে বেছে’ প্রতিক্রিয়া জানানোর তীব্র নিন্দা জানান তারা।

সামাজিক মাধ্যমে একজন মন্তব্য করেছেন, “মনিকা কবিরের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, যা এক ধরনের ‘রেডিক্যালাইজেশন’। এটি আসলে আইনের শাসনের চেয়ে ‘ফুটেজ খাওয়ার’ ধান্দা বেশি।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। তবে সমালোচনা যেন গঠনমূলক হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক নেটিজেন শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, একজন ভিন্ন সংস্কৃতির বিদেশি নারীর প্রতি এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ ও সাইবার বুলিং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য একটি নেতিবাচক ও নারীবিরোধী বার্তা বয়ে আনতে পারে, যা দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্য করতে পারে।

সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া বা অহেতুক বিদ্বেষ ছড়ানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ হোক নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিবিদ্বেষ বা সাইবার বুলিংয়ে রূপ না নেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মনিকা কবির ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট টাইম : ০১:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধর ও হয়রানির অভিযোগে রুশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি নোটিশের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেটিজেনরা দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

গত ১০ মার্চ গুলশান-২ এলাকার রয়্যাল ব্লু প্লাজার সামনে টিকটক ভিডিও ধারণের সময় এক বৃদ্ধ পথচারীর সঙ্গে মনিকা কবিরের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধের ব্যাগের কোনা মনিকার গায়ে লাগায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আঘাত করছেন এবং ব্যাগ ছুড়ে ফেলছেন।

এ ঘটনায় ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং তার বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা ও ওয়ার্ক পারমিট সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো উত্তাপ ছড়িয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, একজন বিদেশি নাগরিক হয়ে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা এবং একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, ভিউ এবং জনপ্রিয়তার লোভে ইনফ্লুয়েন্সারদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কাম্য নয়।

অন্যদিকে, নেটিজেনদের একটি বড় অংশ এই আইনি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মনিকা কবিরের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে যে তীব্র সাইবার বুলিং ও নারীবিদ্বেষী আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তা অনভিপ্রেত। সমালোচকদের মতে, দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক মডেল বা তারকা খোলামেলা পোশাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা সামাজিক ঘৃণা ছড়াতে দেখা যায় না। এভাবে ‘বেছে বেছে’ প্রতিক্রিয়া জানানোর তীব্র নিন্দা জানান তারা।

সামাজিক মাধ্যমে একজন মন্তব্য করেছেন, “মনিকা কবিরের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, যা এক ধরনের ‘রেডিক্যালাইজেশন’। এটি আসলে আইনের শাসনের চেয়ে ‘ফুটেজ খাওয়ার’ ধান্দা বেশি।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। তবে সমালোচনা যেন গঠনমূলক হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক নেটিজেন শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, একজন ভিন্ন সংস্কৃতির বিদেশি নারীর প্রতি এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ ও সাইবার বুলিং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য একটি নেতিবাচক ও নারীবিরোধী বার্তা বয়ে আনতে পারে, যা দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্য করতে পারে।

সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া বা অহেতুক বিদ্বেষ ছড়ানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ হোক নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিবিদ্বেষ বা সাইবার বুলিংয়ে রূপ না নেয়।