ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনার চরে ফুটছে হাজারো সূর্যমুখী, ছুটে আসছেন ফুলপ্রেমীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ১২ বার

ভোরের আলো ফুটতেই যমুনা নদীর তীরে ঝলমল করে ওঠে সূর্যমুখী ফুলের সোনালি হাসি। সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলগুলো যেন অভিবাদন জানাচ্ছে নতুন দিনকে। ফুলের বাগানে সারাদিন চলে মৌমাছি আর প্রজাপতির মেলা। নয়নজুড়ানো এই দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিনোদনপ্রেমীরা। তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের সেলফি আর আড্ডায় মুখরিত এখন যমুনার পাড়।

টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবার সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে অধিক লাভ এবং তেলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সূর্যমুখী এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ অনেক কম, কিন্তু লাভ কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া এর তেলের পুষ্টিগুণ ও বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় তারা দিন দিন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফুলপ্রেমীদের মতে, যমুনার পাড়ে এমন দৃশ্য মানসিক প্রশান্তি দেয়। কৃষি খাতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জেলাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। বিশেষ করে কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে টাঙ্গাইলের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমানা আক্তার জানান, এবার টাঙ্গাইল সদরে ২৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সার ও উন্নত মানের বীজ দিয়ে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এটি একইসঙ্গে তৈল বীজের চাহিদা মেটাচ্ছে এবং পর্যটনের সুযোগ তৈরি করছে।”

সারা বছরই টাঙ্গাইলে নানা ফসলের আবাদ হলেও, সূর্যমুখী এখন নতুন সম্ভাবনা। সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পারলে, এই সোনালি ফুলই বদলে দিতে পারে জেলার অর্থনৈতিক চিত্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনার চরে ফুটছে হাজারো সূর্যমুখী, ছুটে আসছেন ফুলপ্রেমীরা

আপডেট টাইম : ১১:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ভোরের আলো ফুটতেই যমুনা নদীর তীরে ঝলমল করে ওঠে সূর্যমুখী ফুলের সোনালি হাসি। সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলগুলো যেন অভিবাদন জানাচ্ছে নতুন দিনকে। ফুলের বাগানে সারাদিন চলে মৌমাছি আর প্রজাপতির মেলা। নয়নজুড়ানো এই দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিনোদনপ্রেমীরা। তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের সেলফি আর আড্ডায় মুখরিত এখন যমুনার পাড়।

টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবার সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে অধিক লাভ এবং তেলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সূর্যমুখী এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ অনেক কম, কিন্তু লাভ কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া এর তেলের পুষ্টিগুণ ও বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় তারা দিন দিন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফুলপ্রেমীদের মতে, যমুনার পাড়ে এমন দৃশ্য মানসিক প্রশান্তি দেয়। কৃষি খাতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জেলাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। বিশেষ করে কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে টাঙ্গাইলের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমানা আক্তার জানান, এবার টাঙ্গাইল সদরে ২৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সার ও উন্নত মানের বীজ দিয়ে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এটি একইসঙ্গে তৈল বীজের চাহিদা মেটাচ্ছে এবং পর্যটনের সুযোগ তৈরি করছে।”

সারা বছরই টাঙ্গাইলে নানা ফসলের আবাদ হলেও, সূর্যমুখী এখন নতুন সম্ভাবনা। সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পারলে, এই সোনালি ফুলই বদলে দিতে পারে জেলার অর্থনৈতিক চিত্র।