জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। এ মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আগামী ৯ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ফলে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী।
ঘটনার প্রায় ২৯ বছর পর, গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে রোববার ধার্য করা হয়, যা আবারও পিছিয়ে গেল।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সালমান শাহের আসল নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তার মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ভাই শাহরান শাহসহ স্বজনেরা নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাকে দেখতে যান। সেদিন নীলা চৌধুরী ও শাহরানের সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল।
সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। স্ত্রী সামিরা ও বাসার কর্মচারী আবুল তাদের এ তথ্য জানান। একই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা সামিরাকে জানিয়ে সিলেটে রওনা হওয়ার পথে পরে দেখা করবেন বলে বাসা ত্যাগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, তার ‘কিছু একটা হয়েছে’। দ্রুত বাসায় গিয়ে তারা সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার গলায় দড়ির দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলচে চিহ্ন দেখা যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়। প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
Reporter Name 

























