ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি নয়, প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে—এটাই একুশের চেতনার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় বেদি। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত অভিভাবক—সবাই সারিবদ্ধভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ও ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন নিয়ে কথা বলেন।

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, একুশ শুধু একটি দিবস নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। আমি প্রতিবছর সন্তানদের নিয়ে এখানে আসি, যাতে তারা দেশের জন্মের সত্যিকারের ইতিহাস জানে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকাল ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু আমরা জানি কারা রক্ত দিয়েছে, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, কারা রাজপথে নেমেছে। তাদের অবদান খাটো করা বা আড়াল করা মানে একুশের চেতনাকে অসম্মান করা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকাগার। এখান থেকেই বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ না হলে ১৯৭১-এর পথ এত দ্রুত তৈরি হতো না।

তার ভাষায়, যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদানকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতোই তুলে ধরতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি। “রক্ত দিয়ে যখন আমরা ভাষা পেলাম, তখন জাতি বুঝে গিয়েছিল—অধিকার আদায়ে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এরপর একের পর এক আন্দোলনের পথ তৈরি হয়েছে। তাই একুশ শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও।”

তিনি বলেন, ইতিহাসে কার অবদান কতটুকু—তা গবেষণা ও সত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তা পরিবর্তন করা উচিত নয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুদের হাত ধরে অনেক অভিভাবক শহীদ মিনারে এসেছেন। তারা সন্তানদের ভাষা আন্দোলনের গল্প শোনাচ্ছেন, শহীদদের নাম বলছেন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শিখাচ্ছেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। একুশের এই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ইতিহাসের সত্য সংরক্ষণ ও প্রাপ্য স্বীকৃতির দাবি উচ্চারিত হতে দেখা যায় সাধারণ মানুষের কণ্ঠে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে

আপডেট টাইম : ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি নয়, প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে—এটাই একুশের চেতনার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় বেদি। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত অভিভাবক—সবাই সারিবদ্ধভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ও ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন নিয়ে কথা বলেন।

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, একুশ শুধু একটি দিবস নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। আমি প্রতিবছর সন্তানদের নিয়ে এখানে আসি, যাতে তারা দেশের জন্মের সত্যিকারের ইতিহাস জানে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকাল ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু আমরা জানি কারা রক্ত দিয়েছে, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, কারা রাজপথে নেমেছে। তাদের অবদান খাটো করা বা আড়াল করা মানে একুশের চেতনাকে অসম্মান করা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকাগার। এখান থেকেই বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ না হলে ১৯৭১-এর পথ এত দ্রুত তৈরি হতো না।

তার ভাষায়, যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদানকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতোই তুলে ধরতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি। “রক্ত দিয়ে যখন আমরা ভাষা পেলাম, তখন জাতি বুঝে গিয়েছিল—অধিকার আদায়ে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এরপর একের পর এক আন্দোলনের পথ তৈরি হয়েছে। তাই একুশ শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও।”

তিনি বলেন, ইতিহাসে কার অবদান কতটুকু—তা গবেষণা ও সত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তা পরিবর্তন করা উচিত নয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুদের হাত ধরে অনেক অভিভাবক শহীদ মিনারে এসেছেন। তারা সন্তানদের ভাষা আন্দোলনের গল্প শোনাচ্ছেন, শহীদদের নাম বলছেন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শিখাচ্ছেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। একুশের এই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ইতিহাসের সত্য সংরক্ষণ ও প্রাপ্য স্বীকৃতির দাবি উচ্চারিত হতে দেখা যায় সাধারণ মানুষের কণ্ঠে।