ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

আলেমরা যে কারণে জামায়াতকে ভোট দিতে নিষেধ করছেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার

মুসলমানদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ৬ ফেব্রুয়ারি ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় বোখারি শরিফ খতম অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘সমস্ত মুসলমানদেরও বলুন, তাদের (জামায়াতকে) ভোট দেওয়া জায়েজ হবে না। হারাম।’ তার এ বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু তাই নয় ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াতকে ভোট না দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, জামায়াতের প্রতীকের ‘এক পাল্লায় আমেরিকা অন্য পাল্লায় ভারত’। বিশেষ করে ‘জামায়াতকে ভোট দিয়ে বেহেস্তে যাওয়া যাবে’ এমন প্রচারণার পর দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেমরা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় আলেম সমাজের একটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারির বাংলাদেশ দারুল ইফতা ও গবেষণা পরিষদের আহবায়ক মুফতি আজিজুল ইসলাম কাসেমী বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম ও মুফতিগণের পক্ষে এক বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে ‘ঈমানদাররা মন দিয়ে পড়ুন। জামায়াতিরা কেন ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে? কেন তাদেরকে ভোট দিলে ঈমান থাকবে না? কেন শীর্ষ আলেমগণ তাদেরকে ভোট দেওয়া হারাম বলছেন? বাক্যগুলি বলতে বলতে নরমাল হয়ে গেছে, নরমাল হয়ে যাওয়াটাই ইবলিসের কৌশলগত বিজয়, আর যদি মুখে ইসলামের কথা বললেও এই বিশ্বাসের উপর কারো মৃত্যু হয়, সে মৃত্যু হবে কুফরি মৃত্যু। সেটা হবে ইবলিসের আসল বিজয়।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান মার্কিন মিডিয়ার সাথে সাক্ষাতকার বলেছেন, আমরা শরিয়া নয় বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ (দৈনিক নয়া দিগন্ত)। সেখানে তিনি ইনক্লুসিভ তথা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন। এই ‘ইনক্লুসিভ’ শব্দটি ইদানীং বেশি ব্যবহার কেন করা হয়? মূলত সঠিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানুষকে, মিশ্র বা শির্কি বিশ্বাসে দাখিল করে কৌশলে বোকা বানানোর জন্য। এটা মূলত শয়তানী বাস্তবায়নের মারাত্মক ফাঁদ। মুসলমান হতে হলে জীবনের যেসব বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বিধানদাতার বিধানকে অবধারিতভাবে মানতে হয়, সুকৌশলে সেগুলো অস্বীকার করার ভয়ংকর এক প্রতারণার কৌশলগত ইংরেজি পরিভাষা হলো “ইনক্লুসিভ”। যেখানে ভালো মন্দের বিভাজন করার সুযোগ থাকবেন। মন্দের বিরোধিতা করার সুযোগ থাকবেনা। এটি পশ্চিমা অমানবিক নিষ্ঠুর শাসনের বৈধতার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

বহুত্ববাদের নামে সেক্যুলারিজম এর পরিবর্তে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন বা ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করার সুযোগ না নিয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের সুযোগে পশ্চিমাদের ঢুকিয়ে দেওয়া জামায়াতের বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তি, বেছে নেওয়া জায়েজ হবে কী? উত্তর হচ্ছে, নতুন মোড়কে পুরনো মদ আরো বেশি মাদকদ্রব্য মিশ্রিত করে পান করার একটি জঘন্য কৌশল। এটি সেকুলারিজমের চেয়ে শতগুণ ভয়ংকর সমকামী ট্রান্স জেন্ডার মতবাদ। এর পক্ষে ভোট দেওয়া নাজায়েজ ও হারাম।

সারা পৃথিবীর আত্মসমর্পণকারী জাতিকে প্রগতির নামে সুকৌশলে নৈতিকতা বিবর্জিত, নাস্তিক মনা, ধর্মীয় মূল্যবোধহীন বস্তুবাদী, পুঁজির গোলাম, স্থায়ী সুদখোর বানানোর একটি কৌশলগত শব্দ এই ‘প্রগতিশীল’। গত জানুয়ারি মাসে জামায়াত শিবির নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে “প্রগতিশীল” বলে ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে সমান পরিচয় এবং অধিকার নিয়ে বিএনপি বা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ভোট দিয়ে নিজ নিজ বিশ্বাস নিয়ে স্বাভাবিক থাকা দরকার। বিশেষ করে মুসলমানদের ঈমান হরণ করার উদ্দেশ্যে আমেরিকান নতুন পরিভাষার শয়তানী পাতানো “ফাঁদে” নিজেকে আটকে দিয়ে, আশি বছর ধরে দুনিয়ার ৯৯.৯ আলেম উলামা পীর মাশায়েখগণের চিরনিন্দিত জামায়াত শিবিরের গোমরাহি ও বদদীনি ভরা পশ্চিম ঘেষা নীতি আদর্শ মেনে নিয়ে ক্ষণস্থায়ী টাকা পয়সা পাওয়ার কিংবা প্রতিপত্তির আশায় দীন ঈমান ইসলাম হারিয়ে নিজের চিরস্থায়ী জীবন বরবাদ করবেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

আলেমরা যে কারণে জামায়াতকে ভোট দিতে নিষেধ করছেন

আপডেট টাইম : ০৫:১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ৬ ফেব্রুয়ারি ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় বোখারি শরিফ খতম অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘সমস্ত মুসলমানদেরও বলুন, তাদের (জামায়াতকে) ভোট দেওয়া জায়েজ হবে না। হারাম।’ তার এ বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু তাই নয় ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াতকে ভোট না দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, জামায়াতের প্রতীকের ‘এক পাল্লায় আমেরিকা অন্য পাল্লায় ভারত’। বিশেষ করে ‘জামায়াতকে ভোট দিয়ে বেহেস্তে যাওয়া যাবে’ এমন প্রচারণার পর দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেমরা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় আলেম সমাজের একটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারির বাংলাদেশ দারুল ইফতা ও গবেষণা পরিষদের আহবায়ক মুফতি আজিজুল ইসলাম কাসেমী বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম ও মুফতিগণের পক্ষে এক বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে ‘ঈমানদাররা মন দিয়ে পড়ুন। জামায়াতিরা কেন ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে? কেন তাদেরকে ভোট দিলে ঈমান থাকবে না? কেন শীর্ষ আলেমগণ তাদেরকে ভোট দেওয়া হারাম বলছেন? বাক্যগুলি বলতে বলতে নরমাল হয়ে গেছে, নরমাল হয়ে যাওয়াটাই ইবলিসের কৌশলগত বিজয়, আর যদি মুখে ইসলামের কথা বললেও এই বিশ্বাসের উপর কারো মৃত্যু হয়, সে মৃত্যু হবে কুফরি মৃত্যু। সেটা হবে ইবলিসের আসল বিজয়।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান মার্কিন মিডিয়ার সাথে সাক্ষাতকার বলেছেন, আমরা শরিয়া নয় বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ (দৈনিক নয়া দিগন্ত)। সেখানে তিনি ইনক্লুসিভ তথা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন। এই ‘ইনক্লুসিভ’ শব্দটি ইদানীং বেশি ব্যবহার কেন করা হয়? মূলত সঠিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানুষকে, মিশ্র বা শির্কি বিশ্বাসে দাখিল করে কৌশলে বোকা বানানোর জন্য। এটা মূলত শয়তানী বাস্তবায়নের মারাত্মক ফাঁদ। মুসলমান হতে হলে জীবনের যেসব বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বিধানদাতার বিধানকে অবধারিতভাবে মানতে হয়, সুকৌশলে সেগুলো অস্বীকার করার ভয়ংকর এক প্রতারণার কৌশলগত ইংরেজি পরিভাষা হলো “ইনক্লুসিভ”। যেখানে ভালো মন্দের বিভাজন করার সুযোগ থাকবেন। মন্দের বিরোধিতা করার সুযোগ থাকবেনা। এটি পশ্চিমা অমানবিক নিষ্ঠুর শাসনের বৈধতার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

বহুত্ববাদের নামে সেক্যুলারিজম এর পরিবর্তে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন বা ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করার সুযোগ না নিয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের সুযোগে পশ্চিমাদের ঢুকিয়ে দেওয়া জামায়াতের বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তি, বেছে নেওয়া জায়েজ হবে কী? উত্তর হচ্ছে, নতুন মোড়কে পুরনো মদ আরো বেশি মাদকদ্রব্য মিশ্রিত করে পান করার একটি জঘন্য কৌশল। এটি সেকুলারিজমের চেয়ে শতগুণ ভয়ংকর সমকামী ট্রান্স জেন্ডার মতবাদ। এর পক্ষে ভোট দেওয়া নাজায়েজ ও হারাম।

সারা পৃথিবীর আত্মসমর্পণকারী জাতিকে প্রগতির নামে সুকৌশলে নৈতিকতা বিবর্জিত, নাস্তিক মনা, ধর্মীয় মূল্যবোধহীন বস্তুবাদী, পুঁজির গোলাম, স্থায়ী সুদখোর বানানোর একটি কৌশলগত শব্দ এই ‘প্রগতিশীল’। গত জানুয়ারি মাসে জামায়াত শিবির নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে “প্রগতিশীল” বলে ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে সমান পরিচয় এবং অধিকার নিয়ে বিএনপি বা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ভোট দিয়ে নিজ নিজ বিশ্বাস নিয়ে স্বাভাবিক থাকা দরকার। বিশেষ করে মুসলমানদের ঈমান হরণ করার উদ্দেশ্যে আমেরিকান নতুন পরিভাষার শয়তানী পাতানো “ফাঁদে” নিজেকে আটকে দিয়ে, আশি বছর ধরে দুনিয়ার ৯৯.৯ আলেম উলামা পীর মাশায়েখগণের চিরনিন্দিত জামায়াত শিবিরের গোমরাহি ও বদদীনি ভরা পশ্চিম ঘেষা নীতি আদর্শ মেনে নিয়ে ক্ষণস্থায়ী টাকা পয়সা পাওয়ার কিংবা প্রতিপত্তির আশায় দীন ঈমান ইসলাম হারিয়ে নিজের চিরস্থায়ী জীবন বরবাদ করবেন না।