নাটোরে ইসলামি ব্যাংকের নামে ঢাকার একটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। এসব টাকা দিয়ে জামায়াত ভোট কেনা-বেচার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন নাটোর-২ (নাটোর সদর-নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বিষয়টি নিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগও করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোর শহরের আলাইপুরে নিজ নির্বাচনি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে এসব অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী দুলু।
দুলু অভিযোগ করে বলেন, নাটোর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় ইসলামি ব্যাংকের নামে অ্যাকাউন্টে ঢাকার একটি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা পাঠানোর হয়েছে। নাটোর সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় ইতোপূর্বে এ ধরনের লেনদেনের নজির নেই। আমার ধারণা, মোটা অঙ্কের টাকা ব্যাংক লেনদেনের করে ভোট কেনার চেষ্টা করছে জামায়াত।
হঠাৎ করে ভোটের একদিন আগে এমন লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধানের শীষের প্রার্থী দুলু আরও বলেন, আমার শঙ্কা এই টাকা দিয়ে জামায়াত ভোট কেনা-বেচা করতে পারে। তাই আমি ভোটের আগে এই টাকা লেনদেন বন্ধ চেয়ে নাটোর রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছি।
এদিকে বিএনপির প্রার্থীর এমন অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পরিচালক আতিকুল ইসলাম রাসেলের সঙ্গে।
তিনি বলেন, জামায়াতের ভোট কেনার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা লাগে না। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের লাউ, কুমড়া, ডিম বেচা টাকা জমিয়ে ফান্ড করে এবং সেই টাকা খরচ করে। যারা ‘অজ্ঞ ও উদ্ভট’ মস্তিষ্কের লোক, তারাই এ ধরনের অভিযোগ করে।
টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর ইসলামি ব্যাংকের এভিপি রেজাউল করিম বলেন, চার কোটি টাকা লেনদেন তাদের ব্যাংকের জন্য তেমন কোনো বড় বিষয় নয়। ভোটের মধ্যে যেহেতু ব্যাংক বন্ধ থাকবে, তাই তারা এটিএম বুথের জন্য এসব টাকা চেয়েছেন। এই লেনদেনকে সন্দেহভাজন ভাবার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নাটোর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার এজিএম উজ্জ্বল কুমার বলেন, লেনদেনটির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ইসলামি ব্যাংকের সন্দেহভাজন লেনদেন বিষয়ে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়টি জানিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেন।
Reporter Name 






















