ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’

সার্টিফিকেশন জালিয়াতি রোধে কাজ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪১ বার

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি অত্যন্ত কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্তু দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জালিয়াতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “চাকরিদাতারা যেন বলেন—বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা নিশ্চয়ই ভালো করবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় আগের সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সভায় জানানো হয়, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্প খাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তি উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে।

এছাড়া গভর্নিং বডির সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। এসব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উদীয়মান খাতগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’ পরিচালনা, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসমূহে (IMT) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি (CDC) প্রদান বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি

সার্টিফিকেশন জালিয়াতি রোধে কাজ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট টাইম : ১১:২৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি অত্যন্ত কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্তু দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জালিয়াতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “চাকরিদাতারা যেন বলেন—বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা নিশ্চয়ই ভালো করবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় আগের সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সভায় জানানো হয়, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্প খাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তি উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে।

এছাড়া গভর্নিং বডির সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। এসব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উদীয়মান খাতগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’ পরিচালনা, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসমূহে (IMT) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি (CDC) প্রদান বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।